শীর্ষ সংবাদব্রিটেনের সংবাদ

অ্যান্ডি বার্নহামের গ্রহণযোগ্যতার হার: সাম্প্রতিক জনমত জরিপ ও জনপ্রিয়তার গতিপ্রকৃতি

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্টঃ অ্যান্ডি বার্নহাম নয় বছর ধরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র ছিলেন, কিন্তু এখন তিনি বিশ্বের অন্যতম কঠিন ও কঠোর চ্যালেঞ্জপূর্ণ একটি দায়িত্ব পালন করছেন—যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে (যিনি গত এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী)।

বার্নহাম ‘নম্বর ১০ নর্থ’ (No 10 North) নামে একটি উদ্যোগ নিয়েছেন এবং স্থানীয় কাউন্সিল ও সরকারগুলোকে আরও বেশি ক্ষমতা প্রদানের মাধ্যমে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের এক আমূল কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ওয়েস্টমিনস্টারের বাইরে বার্নহামের জনপ্রিয়তা বা গ্রহণযোগ্যতা বেশ ভালো, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা ‘নম্বর ১০’-এর দায়িত্ব পালন করাটা অনেকটা ‘বিষাক্ত পাত্র’ (poisoned chalice) বা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অজনপ্রিয় এক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় প্রতিটি প্রধানমন্ত্রীই অত্যন্ত অজনপ্রিয় অবস্থায় ডাউনিং স্ট্রিট ছেড়েছেন। বার্নহামও কি সেই একই পথে হাঁটবেন?

অ্যান্ডি বার্নহাম কতটা জনপ্রিয়?
বিভিন্ন জনমত জরিপকারী সংস্থার গড় হিসাব অনুযায়ী, বার্নহামের ‘নেট অ্যাপ্রুভাল রেটিং’ (অর্থাৎ যারা তাকে সমর্থন করেন তাদের সংখ্যা থেকে যারা সমর্থন করেন না তাদের সংখ্যা বাদ দিয়ে প্রাপ্ত হিসাব) শূন্যের চেয়ে সামান্য বেশি।

এটি শুনতে খারাপ মনে হলেও মনে রাখতে হবে যে, আমরা এখন এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে রাজনীতিবিদরা সচরাচর খুব একটা জনপ্রিয় নন। তার পূর্বসূরি স্যার কিয়ার স্টারমারের তুলনায় তার রেটিং বেশ ভালো এবং গ্রিন পার্টির জ্যাক পোলানস্কি বা রিফর্ম ইউকে-র নাইজেল ফারাজের চেয়েও তিনি বেশি জনপ্রিয়।

তবে বিভিন্ন জরিপকারী সংস্থার ফলাফলের মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। কোনো কোনো জরিপে তাকে কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনচের চেয়ে বেশি জনপ্রিয় দেখানো হয়েছে; আবার অন্যগুলোতে তাকে কম জনপ্রিয় বলা হয়েছে। জরিপকারী সংস্থাগুলো উত্তরদাতাদের মতামত কীভাবে গ্রহণ বা বিশ্লেষণ করছে, তার ওপরই মূলত এই পার্থক্য নির্ভর করে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বার্নহাম বেশ কিছু নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন—যার মধ্যে রয়েছে বাস ভাড়া সর্বোচ্চ ২ পাউন্ডে সীমাবদ্ধ করা, জ্বালানি বিলের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট (VAT) বাতিল করা এবং ‘নম্বর ১০ নর্থ’ উদ্যোগ চালু করা। এসব পদক্ষেপ জনগণের কাছে বেশ সমাদৃত হয়েছে।

বাজারের প্রতিক্রিয়া কেমন?
গিল্ট বা সরকারি বন্ডের ওপর ১০ বছর মেয়াদী ‘ইল্ড’ (yield) বা আয়ের হারকে প্রায়শই কোনো সরকারের স্থিতিশীলতার মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

যদি এই আয়ের হার বা ‘ইল্ড’ বেড়ে যায়, তবে তার অর্থ হলো—ব্রিটিশ সরকারের আর্থিক প্রতিশ্রুতি পূরণের সক্ষমতার ওপর বাজারের আস্থা কমেছে। লিজ ট্রাসের বিপর্যয়কর ‘মিনি-বাজেট’-এর পর এই হার হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল, তবে পরবর্তীতে তা স্থিতিশীল হয়েছে। বার্নহামের আমলে এর পরিস্থিতি কেমন?

যদিও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের শুরুতেই আমরা আছি, তবুও তার নীতি এবং আর্থিক নিয়মকানুন মেনে চলার প্রতিশ্রুতির প্রতি বাজার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

অক্টোবরে বাজেট ঘোষণার আগের সময়টাতে বার্নহাম নিশ্চয়ই একটি স্থিতিশীল ও শান্ত পরিবেশ প্রত্যাশা করবেন।

পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রীদের তুলনায় অ্যান্ডি বার্নহামের অবস্থান কেমন?
জনপ্রিয়তার বিচারে বার্নহামের অবস্থান বেশ ভালো। ‘ইউগভ’ (YouGov)-এর তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের এক মাস আগে লিজ ট্রাস ও ঋষি সুনাকের ‘নেট ফেভারেবিলিটি’ বা জনসমর্থনের নিট হার ছিল -৩৫। বরিস জনসনের ক্ষেত্রে এই হার ছিল -২৩ এবং স্টারমার খুব একটা পিছিয়ে না থেকে -২০ অবস্থানে ছিলেন।

তবে ক্ষমতায় আসার মাত্র এক বছরের মাথায় স্টারমারের জনসমর্থনের হার কমে -৪৪-এ নেমে আসে, সুনাকের ক্ষেত্রে তা দাঁড়ায় -৪০-এ; আর লিজ ট্রাস -৭০ রেটিং নিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
বরিস জনসনের বিষয়টি ব্যতিক্রমী: ক্ষমতায় থাকাকালীন নানা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যেও এক বছর পর তাঁর জনসমর্থনের হার বরং বেড়েছিল।

বার্নহ্যামের প্রধানমন্ত্রীত্ব কি একই ধারায় এগোবে? একজন নতুন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে -৭-এর মতো ‘নেট ফেভারেবিলিটি’ হার অস্বাভাবিক রকমের ভালো বা উচ্চ হিসেবেই গণ্য হবে।

কিয়ার স্টারমারের তুলনায় অ্যান্ডি বার্নহ্যামের অবস্থান কেমন?
স্টারমারের জনসমর্থন কমে যাওয়া এবং ‘মেকারফিল্ড’ উপনির্বাচনে বার্নহ্যামের জোরালো জয়—এসব মিলিয়ে নেতৃত্বের পরিবর্তন ছিল অনিবার্য। সাম্প্রতিক এক ‘ইউগভ’ জরিপ অনুযায়ী, জনগণ বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে বার্নহ্যামকেই অধিক পছন্দনীয়, দক্ষ ও শক্তিশালী বলে মনে করে।

প্রায় ৭৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ স্টারমারকে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা ব্যক্তি হিসেবে মনে করেন, যেখানে বার্নহ্যামের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২০ শতাংশ। তবে বিশ্বস্ততার প্রশ্নে ভোটাররা দুজনের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য দেখেন না; বরং স্টারমারকে সামান্য এগিয়ে রাখেন।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কোথায় জনপ্রিয়?
বার্নহ্যামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক এই মেয়রকে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। ‘ইউগভ’-এর জরিপ অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের তুলনায় লন্ডনের বাসিন্দাদের কাছে তাঁর জনসমর্থনের হার আরও বেশি—যা মূলত রাজধানীর তরুণ লেবার-সমর্থক জনগোষ্ঠীর মনোভাবেরই প্রতিফলন। তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ এখনও এ বিষয়ে নিশ্চিত নন বা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।


Spread the love

Leave a Reply