অ্যান্ডি বার্নহ্যাম মন্ত্রিসভাকে ব্যয় সংকোচনের উপায় খুঁজে বের করতে বললেন
ডেস্ক রিপোর্টঃ সরকারি ব্যয়ের বিশাল প্রতিশ্রুতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান প্রশ্নের মুখে অ্যান্ডি বার্নহাম তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিজ নিজ বাজেট বা বরাদ্দ ভালোভাবে পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সোমবার তিনি গৃহহীনদের রাস্তায় রাত কাটানোর সমস্যা সমাধানে ৩৪০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা দেন এবং মঙ্গলবার জ্বালানি বিল কমানোর জন্য ৮৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। বুধবার তিনি বাস ভাড়ার ওপর ২ পাউন্ডের সর্বোচ্চ সীমা (ক্যাপ) পুনর্বহালের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন; বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের জন্য বছরে ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ হতে পারে।
এ ছাড়াও বার্নহাম আরও বেশ কিছু বড় ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে বড় ‘কাউন্সিল হাউস’ (সরকারি আবাসন) নির্মাণ কর্মসূচি, সামাজিক সেবার ক্ষেত্রে ‘এনএইচএস (NHS) নীতি’ প্রয়োগ ও তা ব্যবহারের সময় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান এবং ইউটিলিটি বা অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবাগুলোর ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ‘টেমস ওয়াটার’ কোম্পানিকে বিশেষ প্রশাসনের আওতায় নিয়ে আসবেন; কোম্পানিটির দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে করদাতাদের ২.৫ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ হতে পারে।
তিনি প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের বিষয়টি আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং জন হিলিকে চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে তাঁর ‘দৃঢ় সংকল্পের বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। উল্লেখ্য, সামরিক বাহিনীর জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না করায় স্যার কিয়ার স্টারমারের প্রতিরক্ষা সচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন হিলি।
বার্নহাম আরও জানিয়েছেন যে, তিনি কর-মুক্ত ব্যক্তিগত আয়ের সীমা (বর্তমানে ১২,৫৭০ পাউন্ড) বাড়ানোর বিষয়টি বাজেটে বিবেচনা করবেন—এমন পদক্ষেপের জন্য কয়েক বিলিয়ন পাউন্ড খরচ হতে পারে। তবে বার্নহামের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী জানিয়েছেন যে, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
অন্যান্য ঘটনার মধ্যে রয়েছে:
● স্টারমারের অনুগত ১১ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সরকারের উচ্চপদে নিয়োগ দেওয়ার কারণে ‘দলীয় কোন্দল উসকে দেওয়ার’ অভিযোগে বার্নহাম তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
● প্রধানমন্ত্রী স্কটিশ লেবার নেতা আনাস সারওয়ারকে ‘পিয়ারেজ’ বা উচ্চকক্ষের সদস্যপদ (লর্ড উপাধি) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে তিনি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। উল্লেখ্য, স্টারমারের পদত্যাগের দাবি তোলা প্রথম শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিলেন সারওয়ার।
● ‘টেন ডাউনিং স্ট্রিট’ (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপির ৩ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তবে ইঙ্গিত দিয়েছে যে বার্নহাম বর্তমান পরিকল্পনার চেয়েও বেশি কিছু করতে আগ্রহী।
● উত্তর সাগরে নতুন করে খননকাজ চালানোর জন্য বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের চাপের মুখে থাকা নবনিযুক্ত জ্বালানি সচিব মিয়াট্টা ফাহনবুলে নিজেকে ‘পরিবেশবাদী কট্টরপন্থী’ (eco-zealot) হিসেবে অভিহিত করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। ● জানা গেছে যে, বার্নহ্যামের মন্ত্রিসভা রদবদলের সময় সাবেক চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
মঙ্গলবার বার্নহ্যাম ঘোষণা করেন যে, সাধারণ মানুষকে কিছুটা ‘স্বস্তি’ দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি বিদ্যুৎ বিলের ওপর থেকে ভ্যাট (VAT) তুলে নেবেন।
সরকার জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের ফলে প্রতিটি পরিবারের গড়ে ৪৫ পাউন্ড সাশ্রয় হবে এবং ডিজিটাল আইডি চালুর বাতিলকৃত পরিকল্পনা থেকে বেঁচে যাওয়া অর্থ দিয়ে এর ব্যয় নির্বাহ করা হবে।
তবে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর চিফ সেক্রেটারি বা প্রধান সচিবের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়া ড্যারেন জোন্স উল্লেখ করেছেন যে, ডিজিটাল আইডি প্রকল্পের জন্য যে অর্থ সাশ্রয়ের কথা বলা হচ্ছে তা আসলে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়নি; ফলে কার্যত এটি একটি অর্থসংস্থানবিহীন প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হয়েছে।