আওয়ামী লীগ আমলেও সিলেটকে ঠকানো হয়েছে, আমাদেরকে সিলেটি ভাষার মর্যাদা দিতে হবে -নাহিদ ইসলাম

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্টঃ ‘আফনেরা সব বালা আছইননি’ বলে সিলেটে নিজের বক্তৃতা শুরু করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এরপর সিলেটের ইতিহাস ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর রাজনীতির নানা দিক তুলে ধরেন তিনি।

এনসিপির চলমান জুলাই পদযাত্রা নিয়ে শুক্রবার আসে সিলেটে। পদযাত্রা শেষে সন্ধ্যার দিকে সিলেট কেন্দ্রিয় শহিদ মিনারে সমাবেশ করে দলটি।

এতে সভাপতির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সিলেট থেকেই ইসলামের সম্প্রীতি ও ইনসাফের বাণী সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিলো। আমরা এসেছি বহু সংস্কৃতি ও বহু জাতির সিলেট অঞ্চলে। সিলেট ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক-বাহক। সিলেট বাঙালির আত্মপরিচয়।

তিনি বলেন, সিলেট কেবল প্রশাসনিক জেলা নয়, ইতিহাস ও সংস্কৃতির আলোকে আমাদের সিলেটে দেখতে হবে। যুগ যুগ ধরে এই সিলেট বাংলাদেশের ইতিহাস ধারণ করে আছে। বৃটিশবিরোধী আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং আমাদের জুলাই অভ্যূত্থানে সিলেট লড়াই করেছে বুক চিতিয়ে। এদেশের মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে সিলেট ছিলো অগ্রগামী। এই বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে সিলেট ছিলো অন্যতম কেন্দ্রভূমি।

দেশভগের সময় সিলেটে গণভোটের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা জানি, ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাজনের সময় মাওলানা ভাসানীর প্রচারণায় এই সিলেট অঞ্চলের মানুষ পূর্বভঙ্গের সাথে থাকার জন্য রায় দিয়েছিলো। কিন্তু তখন আমরা আমাদের পূর্ণ সিলেট পাইনি। করিমঞ্জেকে কেটে দেওয়া হয়েছিলো। আসামের সাথে সিলেটের বহু অংশ জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এই পূর্ববঙ্গকে ঠকানো হয়েছে সেই বৃটিশ আমল থেকে। পাকিস্তান আমলে এবং আওয়ামী লীগ আমলেও সিলেটকে ঠকানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এই সিলেটের মানুষকে তাদের গ্যাস, খনিজ সম্পদ, পাথরকে বারবার বঞ্চিত করা হচ্ছে। লণ্ডনে বাংলাদেশের অধিকাংশ সিলেটি। সিলেটের মানুষ লন্ডনকে জয় করেছে, বাংলাদেশকে জয় করেছে। আজকে লন্ডনের রাস্তায়, তাদের অর্থনীতিতে সিলেটের মানুষের রক্ত আর ঘাম লেগে আছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা বাংলাদেশকে যে বহু জাতিগোষ্টি ও বহু সংস্কৃতির দেশ হিসেবে গড়তে চাই সিলেট তার অন্যতম প্রতীক। সিলেটের শত ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে। আমাদেরকে সিলেটি ভাষার মর্যাদা দিতে হবে। সিলেটকে আধুনিক শিল্পন্নোত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানে সিলেটের প্রবাসীদের অবদান স্বীকার করে তিনি বলেন, সিলেটের প্রবাসীরা গণঅভ্যুত্থানে আমাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। আমরা তাদের ভুলবো না। এই প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই প্রবাসীরা বাংলাদেশের নীতি নির্ধারণের অংশ হবে।


Spread the love

Leave a Reply