গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই -এমরান আহমদ চৌধুরী
ডেস্ক রিপোর্টঃ সিলেট জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেছেন,প্রবাসীদের সহযোগিতা না থাকলে আমরা জুলাই আন্দোলনে সফল হতাম না। প্রবাসীদের ঋণ কখনও শোধ হবার নয়। নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়া সিলেট বিভিন্ন দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে। আগামী দিনে আপনাদের সেবা করার সুযোগ পেলে গোলাপগঞ্জ বিয়ানীবাজার সহ সিলেটের উন্নয়নে আমার সংগ্রাম চালিয়ে যাবো। বিশেষ করে আমার নির্বাচনী এলাকা বিয়ানীবাজার – গোলাপগঞ্জের উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই।
জনাব এমরান আহমদ চৌধুরী সোমবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনে গোলাপগঞ্জ- বিয়ানীবাজার প্রবাসীদের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় এসব কথা বলেন।
যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারন সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ। অন্যানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, স্বেচ্চাসেবক দল সভাপতি নাসির আহমদ শাহীন, সাধারন সম্পাদক আবুল হোসেন, যুবদল সভাপতি আফজাল হোসেন, সাধারন সম্পাদক বাবর চৌধুরী সহ যুক্তরাজ্য বিএনপির ও অংগসংঠনের নের্তৃবৃন্দ।
সভায় সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে এমরান আহমদ চৌধুরী আরও বলেন, আমি খুবই আনন্দিত আপনারা আমাকে সম্মানিত করেছেন,যা কখনও ভুলে যাওয়ার নয়। জুলাই শহীদদের স্বরণ করে তিন বলেন যাদের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি। সিলেটে আমাদের অনেক ভাই শহীদ হয়েছেন, আমার সহ যোদ্ধা অনেকেই আহত হয়েছেন তারা যেন দ্রুত সুস্থ্য হয়ে ফিরতে পারেন, তারা দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, জুলাই আন্দোলন না হলে আজকে আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারতাম না, তাই সকল শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান বিএনপির এই নেতা।

জনাব এমরান আহমদ আরও বলেন, যুক্তরাজ্য বিএনপির কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। সেই সাথে সমগ্র বিশ্বজুড়ে আন্দোলন চালিয়ে গেছেন প্রবাসিরা। প্রবাসীদের সহযোগিতা না থাকলে আমরা সফল হতাম না, আরব আমিরাতে আমাদের ভাইরা মিছিল করে জেল কেটেছেন তাদের প্রতি আমার ভালবাসা ও শ্রদ্ধা। আজকে যারা প্রবাসী আছেন সবাই আমাদেরকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন, আমরা যারা দেশে আছি আপনাদের কাছে ঋণী, এই ঋণ কখনও শোধ হবার নয়। আমরা আপনাদের ভালবাসার মধ্যে বেঁচে থাকবো। যুক্তরাজ্য বিএনপির কাছে আমরা আরও বেশী ঋণী উল্লেখ করে এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন আপনারা আমাদের নেতাকে এখানে আগলে রেখেছেন, এই জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের নেতার একটি বক্তব্য উত্তাপ সৃষ্টি করেছিল, যেভাবে ইরানের নেতা আয়াত উল্লাহ খামেনির বক্তব্যে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের নেতা আন্দোলনের সময় আমাদেরকে গাইডলাইন দিয়েছেন, আমরা সব সময় নেতার বক্তব্যে অনুপ্রানীত হয়ে গুলির সামনে গিয়েছিলাম।

আমার এলাকা বিয়ানীবাজার গোলাপগঞ্জ সিলেটের অত্যন্ত সমৃদ্ধ অঞ্চল। এই এলাকার মানুষ সব জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের বিনা ভোটের এমপিরা এখানে কোন কাজ করে নাই। এই অঞ্চলের মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন আমাদের নেতার নেতৃত্বে ফ্যাসিস্টের বিচার হবে উল্লেখ করে বলেন, প্রবাসীরা নানাভাবে সমস্যার সম্মুখিন হন। আমি আপনাদেরকে আশ্বস্থ করতে চাই প্রবাসীদের জন্য আলাদা সেল গঠন করে প্রবাসীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করব। বিমানবন্দর হয়রানী বন্ধে আমরা কাজ করব।
আপনারা জানেন সিলেট নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়েছে। আমাদের কথা কেউ বলে না। সিলেট থেকে ঢাকা যেতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়; ঢাকা সিলেট রাস্তার কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। সিলেট ঢাকা বিমান ভাড়া কমাতে হবে।

এমরান আহমদ চৌধুরী বিয়ানীবাজার গোলাপগঞ্জে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেন এই অঞ্চলের জন্য এটি খুবই প্রয়োজন। তরুনরা বিদেশ চলে আসতে চায়। যেকারনে দেশ মেধাশুন্য হয়ে যাচ্ছে , আমি চাই এদের জন্য আইটি সেক্টর সহ বিভিন্ন সেক্টরে সুযোগ সুবিধা দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব।
আমাদের নেত্রী বেগম খালেদাজিয়া শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র এশিয়া মহাদেশের মডেল, একজন জনপ্রিয় নেত্রী। দেশ নেত্রী বেগম জিয়ার জন্য সকলের দোয়া চান এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়তে আমাদের নেতা তারেক রহমান একটি কল্যাণমূলক দেশ উপহার দিবেন ইন শা আল্লাহ।
আপনারা জানেন আরাফাত রহমান কুকোকে তীলে তীলে হত্যা করেছিল ফ্যাসিস্ট সরকার। আরাফাত রহমান বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য কাজ করেছিলেন। আল্লাহ পাক যেনো উনাকে জান্নাত দান করেন।
সিলেট ম্যানচেস্টার ফ্লাইট এক শ্রেণীর সিলেট বিদ্দেশী মানুষ বন্ধ করে দিয়েছিল। আমি ব্যক্তিগত ভাবে কথা বলে এই ফ্লাইট বহাল রাখার দাবি জানিয়েছিলাম, ইন শা আল্লাহ সিলেট ম্যানচেষ্টার ফ্লাইট এখন চালু রয়েছে।
সভায় বিয়ানীবাজার গোলাপগঞ্জ প্রবাসীরা উপস্থিত থেকে এমরান আহমদ চৌধুরীকে স্বাগত জানান।