বাংলাদেশ

আবারও দিল্লির ‘হাসিনা কার্ড’

Spread the love

বাংলাদেশ তথা তারেক রহমান সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে আবার সেই ‘হাসিনা কার্ড’ সামনে নিয়ে এসেছে ভারত। ঢাকার ওপর নানামুখী চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি সরকারকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে দিল্লির ‘ডিপ স্টেট’ ও নীতিনির্ধারকরা।

গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, নরেন্দ্র মোদি সরকার শেখ হাসিনাকে দিল্লির মাটিতে বসে কোনো প্রকার রাজনীতি করার অনুমতি দেয়নি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পতিত হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে সরকার।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো ফলাও করে এই খবর প্রচার করে। এর ঠিক তিনদিন পর গত রোববার ভারতীয় মিডিয়ায় শিরোনাম হয়েছে, আগামী ৫ আগস্ট প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসছেন হাসিনা। ওইদিন তিনি দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবেন।

হাসিনার সম্ভাব্য এই কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে চলছে নানা আলোচনা। বিশ্লেষকরা বলছেন, নয়াদিল্লি কৌশলগতভাবে হাসিনাকে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের একটি টুল হিসেবে বিবেচনা করছে। নরেন্দ্র মোদি সরকার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ এবং দর কষাকষিতে হাসিনাকে কার্ড হিসেবে ব্যবহার করছে বারবার।

তারা আরো বলছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও তাকে ফেরত না পাঠিয়ে ভারত তার কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় তাকে নিজেদের আশ্রয়ে রেখে ঢাকার ওপর চাপ বজায় রাখছে।

ইন্ডিয়া টুডে, নিউজ১৮, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, জুলাই বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসছেন হাসিনা। নয়াদিল্লিতে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন তিনি। আগামীকাল ৫ আগস্ট স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হাসিনা তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তুতির বিষয়ে কথা বলবেন। নয়াদিল্লির মাথুরা রোডে অবস্থিত স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে অনুষ্ঠানটি। ক্লাবটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে এটি। এই অনুষ্ঠান আয়োজনে ভারত সরকারের কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, হাসিনার পাশাপাশি আরো কয়েকজন বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতা, সাবেক কূটনীতিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক, সাবেক ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, সাবেক কূটনীতিক আমিনুল হক পলাশ, রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আবু ওবায়দুল্লাহ আরিন এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইউএসএ’র পরিচালক শাহ মো. বখতিয়ারের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

ঢাকা ও দিল্লির একাধিক কূটনৈতিক সূত্র আমার দেশকে জানায়, মূলত তারেক রহমান সরকার তথা বাংলাদেশের ওপর নানামুখী চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে হাসিনাকে বারবার মাঠে নামানো হচ্ছে। এছাড়া মাঝে মাঝে উভয় দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার মাধ্যমে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে দিল্লিতে হাসিনার রাজনীতি নিষিদ্ধ, গঙ্গা চুক্তি নবায়ন, বর্তমান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বাড়ানোসহ অনেক ইতিবাচক কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তিনদিনের মাথায় মোদি সরকারের সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থান সামনে এলো।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো আরো জানায়, বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়াতে শুধু হাসিনাকে নয়, বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরীনকেও মাঠে নামানো হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরে তিনি হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি টার্গেট করেছেন জুলাই বিপ্লব এবং ইসলাম ধর্মকে। জুলাই বিপ্লবের কঠোর সমালোচনা করে তসলিমা বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেত্রী হাসিনাকে যেভাবে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে, তা ছিল ভুল। এটি ছিল সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। দলটিকে নিষিদ্ধ করাও ছিল অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত। আমি চাই, হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে যাক। তিনি বাংলাদেশের মাদরাসা শিক্ষা বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে কোনো মাদরাসার প্রয়োজন নেই। এগুলো কেবল জিহাদি তৈরি করছে। বাংলাদেশের সব মাদরাসাকে ধর্মনিরপেক্ষ স্কুলে রূপান্তর করা উচিত।

তিনি সাবেক ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তারের সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশে বিপন্ন হিন্দুদের পাশে দাঁড়ানোর মাশুল তাকে দিতে হয়েছে।

নতুন করে হাসিনাকে মাঠে নামানোর তাৎপর্য সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকার একজন সিনিয়র কূটনীতিক আমার দেশকে বলেন, বাংলাদেশের ওপর চাপ প্রয়োগের ধারাবাহিক কৌশলের অংশ হিসেবে হাসিনাকে আবারও মাঠে নামানো হচ্ছে। এটা নতুন কিছু নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও হাসিনাকে বারবার ব্যবহার করা হয়েছে। হাসিনা তখন উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি সন্ত্রাস উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। আগামীকাল ৫ আগস্ট যে ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে, ঠিক সেই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল গত ২৩ জানুয়ারি । সেখানে হাসিনার একটি ভিডিও বক্তব্য প্রচার করা হয়। ওই বক্তব্যে তিনি ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ভন্ডুল করতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান। এরপর গত ১৮ মে হাসিনা একই সময়ে পাঁচটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হাতে-পায়ে ধরে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। গত ১০ জুলাই রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন হাসিনা। মূলত বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য তিনি এই ঘোষণা দিয়েছেন।

ওই সিনিয়র কূটনীতিক আরো বলেন, হাসিনার এসব তৎপরতা ভারতের ‘ডিপ স্টেট’ এবং মোদি সরকারের নীতিনির্ধারকদের ডিজাইন অনুযায়ী হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে পানি ইস্যুর পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রিকেটকেও টার্গেট করা হতে পারে। প্রথম সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া হয়ে চীনে যাওয়া, বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার নতুন কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লিতে যেতে অনীহা ভালোভাবে নিচ্ছে না মোদি সরকার। সব মিলিয়ে তারেক রহমান সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে দিল্লি।

উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, ভারত তার স্বার্থে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করবে এবং এ ক্ষেত্রে শেখ হাসিনাসহ অন্যদের ব্যবহার করবে। আমি বারবার বলেছি, ভারত কোনোভাবেই জুলাই বিপ্লবকে মেনে নিতে পারছে না। তারা হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যকিছু বাংলাদেশে মানবে না।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে দেশ গভীর সংকটের মধ্যে আছে। আমি জানি না, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বুঝতে পারছেন কি না। প্রধানমন্ত্রীকে বুঝতে হবে, ভারত বাংলাদেশকে নিয়ে কী করতে চাইছে।

সরকারের সমালোচনা করে এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, আমরা জুলাই বিপ্লবের পক্ষের শক্তিগুলোকে বিনষ্ট করেছি। এখানে সরকারের বড় ধরনের দায় রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর যেতে না যেতেই একে অন্যকে শত্রু বানানো হয়েছে। এরই সুযোগ নিচ্ছে ভারত।

জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য ছাড়া ভারতের ষড়যন্ত্র থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না। সরকারেরই দায়িত্ব সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করা। এটা করতে না পারলে জাতিকে চরম মূল্য দিতে হবে।

বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক এম শহীদুজ্জামান এ প্রসঙ্গে আমার দেশকে বলেন, মোদি সরকার যা কিছু করছে, তার মূল উদ্দেশ্য হলো—তারেক রহমানকে চাপে ফেলে আওয়ামী লীগ ও হাসিনাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরানোর ব্যবস্থা করা। আসলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত শত্রু রাষ্ট্রের মতোই আচরণ করে। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় দূত দীনেশ ত্রিবেদী এখানে অনেক মিষ্টি মিষ্টি কথা বলছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিল্লি সফরে গেলেই নাকি সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে—এগুলো সবই তাদের প্রতারণা।

তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে দেখলাম, তাদের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি বলেছে, তারা হাসিনাকে দিল্লিতে রাজনীতি করতে দেবে না। কিন্তু দু’দিন যেতে না যেতেই সেই হাসিনাকেই আবার মাঠে নামানোর কথা জানাল। তাদের আসলে কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যায় না। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমানে যে গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠছে, তা নষ্ট করে দিতে চাইছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও আমরা যে সুসম্পর্ক বজায় রাখছি, তাও মেনে নিতে পারছে না দিল্লি।

শহীদুজ্জামান আরো বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তা দিল্লির একটি ‘ট্র্যাপ’। বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়। বিমসটেক একটি অকার্যকর সংস্থা। ভারত এটাকে সার্কের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। সরকারের উচিত হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত ভারত তার বাংলাদেশ নীতি না বদলায়, ততক্ষণ পর্যন্ত দিল্লির সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা।

এদিকে ভারত সরকারের অনাপত্তিতে হাসিনার রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপারে জানতে চাইলে গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, এটি নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। আমরা কার কাছে আপত্তি জানাব? ভারতের কাছে? একটি নিষিদ্ধ সংগঠন এবং সেই সংগঠনের প্রধান যিনি বিভিন্ন অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামি, তিনি কোথায় কী বলছেন, তার জবাব দেওয়ার মতো সময় বাংলাদেশ সরকারের নেই।

তি‌নি ব‌লেন, আমরা যেটা লক্ষ্য করছি, ভারত সরকারও সম্প্রতি একটা বিবৃতি দিয়ে বলেছে যে তারা আশা করি না কোনো পলাতক আসামি সেখানে বসে রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন এবং ভারত সরকার তা সমর্থনও করে না। আর এই অনলাইন মিটিং বা অনুষ্ঠানের বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান কী, সেটি তাদেরকেই পরিষ্কার করতে হবে।

শামা ওবা‌য়েদ ব‌লেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর আমাদের নতুন সরকার সব সময়ই বলেছে যে, পলাতক আসামিরা যদি সেখান থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয় বা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, তবে তা কাম্য নয়। আমরা চাই ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরো উন্নত হোক। সম্প্রতি ভারতের নতুন হাইকমিশনার এসেছেন, তার সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

তি‌নি ব‌লেন, আমরা ভারতের সঙ্গে একটা দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোচ্ছি। এই সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হোক তা আমরাও চাই না এবং আমার গভীর বিশ্বাস ভারতও তা চায় না। সুতরাং, তারা এই অনুষ্ঠানকে সমর্থন দিচ্ছে কি না, তা ভারতকেই পরিষ্কার করতে হবে।

ভারতের কাছে বাংলাদেশ কোনো প্রতিবাদ বা ব্যাখ্যা চাইবে কি না- এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানটি তো আর ভারত সরকার আয়োজন করছে না। সরকার যদি প্রয়োজন মনে করে, তবে আমরা তাদের সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করব।

হাসিনার বক্তব্য ব‌ন্ধে সরকা‌রের উদ্যোগ নি‌য়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বহুবার তাদের বলেছি এবং লিখিতভাবেও দিয়েছি। তাদের সঙ্গে আমাদের যখনই কোনো দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হচ্ছে, আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করছি। যেহেতু তারা বর্তমানে ভারতে আশ্রিত বা পলাতক অবস্থায় আছে, তাই বিষয়টি ভারত সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে। এটি বাংলাদেশ সরকারের মাথাব্যথা নয়।

এ ধরনের অনুষ্ঠানগুলো দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত কর‌বে কি নাÑ জান‌তে চাই‌লে প্রতিমন্ত্রী বলেন, করতে পারে, অবশ্যই করতে পারে। তবে আমরা তো সেটা চাচ্ছি না। আমি মনে করি, বাংলাদেশের মানুষও চায় না এবং সরকারও চায় না যে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নেতিবাচক হোক। তি‌নি ব‌লেন, আমরা চাই, সম্পর্ক আরো উন্নত হোক এবং তা উন্নতির দিকেই যাচ্ছে। আমি আশা করি, বিষয়টি মাথায় রেখেই ভারত ভবিষ্যতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এদিকে গতকাল বিকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পলাতক হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের কার্যক্রম দ্বিক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ভারতের হাইকমিশনার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া এবং এ বিষয়ে সচেষ্ট থাকার আশ্বাস দেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো জোরদার এবং সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উভয়পক্ষ নিয়মিত সংলাপ ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পারস্পরিক আস্থা ও আলোচনার মাধ্যমেই সব বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান অর্জন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রতিবেদনঃ আমার দেশ


Spread the love

Leave a Reply