আলোচিত-সমালোচিত ঢাকা ৮ আসনঃ সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে একজন জুলাই যোদ্ধার লড়াই

Spread the love

বাংলা সংলাপ রিপোর্টঃ
মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির মূখ্য সমন্বয়ক। বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত ঢাকা ৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। হেভুয়েট এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াই করা চারটিখানি কথা নয়। আলোচিত এই আসনটিতে নির্বাচ্নী প্রচারনাকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন ওসমান হাদি। যেকারনে সবচেয়ে স্পর্শকাতর এই আসনটিকে ঘিরে রয়েছে অনেক উতকন্ঠা উদবেগ ।

নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী ১৯৯৫ সালের ১ নভেম্বর বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিষয়ে পড়াশোনা করেন। নাসিরউদ্দিন ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে তিনি ছিলেন সম্মুখ সারির একজন যোদ্ধা। বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর কেন্দ্রীয় নেতাদের সমালোচনা করে নজর কেড়েছেন তরুণ এই নেতা। কখনও কখনও জামায়েতে ইসলামির কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি, যদিও তার দল এখন জামায়াতে ইসলামির সাথে একটি নির্বাচনী জুটে রয়েছে।

ঢাকা-৮ আসনটি মূলত রাজধানীর রমনা, শাহবাগ, মতিঝিল, কাকরাইল, মগবাজারের অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয় এ এলাকায় হওয়ায় আসনটিকে দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থল বলা যায়। এ আসনে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, কমলাপুর রেলস্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

সম্প্রতি ঢাকায় একটি পিঠা উৎসবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে একের পর এক ডিম নিক্ষেপ করেন মির্জা অব্বাস সমর্থিত ছাত্রদল কর্মীরা। অনেকেই বাসার ছাদ থেকে ময়লা পানি ফেলে দিচ্ছেন তরুণ এই নেতার ওপর , যেমনটা শহীদ ওসমান হাদির সাথেও হয়েছিল। আবার অনেকেই তাকে আদর ভালবাসা দিয়ে জড়িয়ে ধরছেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিও তে দেখা যাচ্ছে একজন ব্যবসায়ী পাটওয়ারীকে নিজ হাতে খাইয়ে দিচ্ছেন। অনেক নারী পুরুষ শিশুরা বাসার বারান্দা থেকে হাত নারিয়ে পাটওয়ারীকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। দোকানদাররা পাটওয়ারীকে দেখে জড়িয়ে ধরছেন। এলাকার ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরছেন। নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী চাঁদাবাজির দায় মির্জা আব্বাসের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে ঢাকা ৮ আসনে বিতর্ক আলোচনা সমালোচনা যেমন আছে তেমনি আছে উদবেগ উতকন্ঠাও। নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী ইতিমধ্যে তার জীবনের শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

মিঃ মির্জা আব্বাস অভিযোগ করছেন একজন আছেন ( পাটওয়ারী) প্রতিদিন সকাল বেলা গুম থেকে উঠে আল্লাহ নাম না নিয়ে আমার নাম দিয়ে শুরু করে। সরাদিন গালিগালাজ করে। অন্যদিকে নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী পাল্টা জবাবে বলেছেন মির্জা আব্বাস প্রতিদিন গুম থেকে উঠে আল্লাহ নাম নিয়ে চাঁদাবাজি শুরু করেন।
May be an image of ‎one or more people and ‎text that says "‎বাংলা সংলাপ 2ー23 Bangla Sanglap London: Fridayo London:Fridayu.e Landun:PridersF24 Feb 2026 0B6 Year:16 jwue:12 Page :24 প্রবাসে আপনার কথা English Secrion Ome utafLendoN e1 uka ዘገ বঙই ביורם-גסגה ১০ বছরে ১০ছরএলআোর আইএলমর প্রন্ভাবের বিরুদ্ধে লেবার এমপিদের বিদ্রোহ (বি্ারিত্ নৃষ (סנ/ד ফি ওয়ার্কার ভিসার দুনাতবাজ সমমাঙলিকে পূলবার সাইসেন্ দিছেছে হোম আকস (বজারিত্ .) আলোচিত-সমালোচিত সমালোচিত ঢাকা আসন সন্ভ্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে একজন জুলাই যোদ্দার লড়াই (বিন্ারিতহৃষ্}৯)‎"‎‎

সম্প্রতি অনলাইনে একটি গেম ‘পাটাব্বাস’ ভাইরাল হয়েছে। খেলছিলেন একজন, আর তার ওপর ঝুঁকে বেশ আগ্রহ নিয়ে খেলাটি দেখছিলেন আরো দুইজন। ঢাকার শান্তিনগর মোড়ের পাশে একটি গলিতে দেখা যায় এই দৃশ্য।

“বের হওয়ার পর থেকেই গেমটা খেলতেছি। খুব মজা পাইতেছি,”বলছিলেন একজন তরুণ।

গত কিছুদিন ধরে ফেসবুকসহ সামাজিক বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া নতুন ওই অনলাইন গেমটি তৈরি হয়েছে ঢাকা-৮ আসনের দুই প্রতিন্দ্বন্দী প্রার্থী মির্জা আব্বাস এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মধ্যকার সাম্প্রতিক রেষারেষির সম্পর্কের পটভূমিতে।

‘পাটাব্বাস’ নামটিও রাখা হয়েছে তাদের দু’জনের নামের সংমিশ্রণে।

“গেমটাতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হইলো মশা। আর মির্জা আব্বাস হইলো ঢাকা-৮ এর কিং। এখন যে গেমটা খেলবে, তার কাজ হলো নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কামড় থেকে মির্জা আব্বাসকে রক্ষা করা। সেটা না করতে পারলে মির্জা আব্বাস রাগ হয়ে যায়, তখন গেমও ওভার হয়ে যায়,” বলেন এই তরুণ।

বস্তুত, প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ করে আসছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জাতীয় নাগরিক পার্টি’র (এনসিপি) এই দুই প্রার্থী।

সম্প্রতি ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে মি. পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনার পর দু’পক্ষের বৈরিতায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে, যা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এদিকে, নিরাপত্তা শঙ্কায় বর্তমানে নির্বাচনী প্রচারণা থেকে দূরে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন একই আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মডেল মেঘনা আলম। মাথায় মুকুট পরে ভোটের প্রচারণায় অংশ নিয়ে সম্প্রতি বেশ আলোচনার জন্ম দেন তিনি।

বাকযুদ্ধ ঘিরে উত্তাপ
শুরুতে বিভিন্ন ইস্যুতে মির্জা আব্বাস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিতে দেখা গেলেও সেটি ক্রমেই বাকযুদ্ধে রূপ নিতে থাকে গত ২২শে জানুয়ারি ভোটের প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে।

এর মধ্যে গত ২৭শে জানুয়ারির একটি ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ওইদিন ঢাকার হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গিয়ে দফায় দফায় ডিম হামলার শিকার হন ঢাকা-৮ আসনে এনসিপি’র প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

ওই ঘটনার পেছনে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

“ছাত্রদলের কিছু ছেলে, যারা মির্জা আব্বাসের লোক, তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তা না হলে ক্যাম্পাসে ডিম কোত্থেকে আসবে? ক্যাম্পাস তো আর হোটেল-রেস্তোরাঁ না যে অনেক ডিম রাখা থাকবে,” অভিযোগ করেছেন মি. পাটওয়ারী।

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে মি. আব্বাস উল্টো দাবি করেছেন, মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার উদ্দেশ্য এনসিপি’র প্রার্থী তার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অভিযোগ’ তুলছেন।

“মানুষের সিম্প্যাথি (সহানুভূতি) পাওয়ার জন্য উনি এসব মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। আমার ব্যাপারে ওই একজন প্রার্থী বাদে আর কেউ কোনো বাজে কথা বলছে না, অভিযোগও করছে না। উনি এগুলো বলছেন, কারণে তার নিজের সম্পর্কে বলার মতো কিছু নাই,” বলেন মি. আব্বাস।

সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা
শুরুর দিকে সুষ্ঠু ভোটের ব্যাপারে আশাবাদী জানালেও নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে, ততই সংশয় বাড়তে দেখা যাচ্ছে প্রার্থীদের মধ্যে।

বিশেষ করে, বিএনপি ও এনসিপি’র প্রার্থীরা একে অন্যের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও ভোট কারচুপির ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ তুলছেন।

“আমরা জানতে পেরেছি যে, এই আসনে ভোট কেনা, কেন্দ্র দখল বা ইলেকশন রিগিং করার একটা পরিকল্পনা চলছে। বিভিন্ন জায়গা সরকারি যে অফিসগুলো রয়েছে, সেগুলোতে বিএনপি’র লোকরা সরাসরি গিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে যেন ভোটে তারা বিজয়ী হয়,” বলছিলেন এনসিপি’র প্রার্থী মি. পাটওয়ারী।

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি’র প্রার্থী মির্জা আব্বাস।

“এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। বরং কিছু কিছু প্রার্থীর কথা শুনে আমার মনে হচ্ছে, ওরা জিতেই আছে। এতেই আমার সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে যে, নির্বাচনে একটা কারচুপি করার কিংবা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করার একটা চিন্তা তারা করতেছে,” বলেন মি. আব্বাস।

এনসিপি’র প্রার্থীর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, “ওদের যদি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করার পরিকল্পনা না-ই থাকে, তাহলে তারা এতটা শিওর (নিশ্চিত) হয় কী করে? আমি এতবছর ধরে রাজনীতি করার পরও ভোটে জেতার ব্যাপারে শিওর হতে পারি না, ওরা এতটা শিওর হয় কী করে? এটা সম্ভব তখনই, যদি কারচুপি করার মতো একটা প্রক্রিয়া তাদের হাতে থাকে।”

এমন অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেন যে, তারা ভোটারদের কাছে যেভাবে সাড়া পেয়েছেন, সেটির প্রেক্ষিতেই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

“আমি সৎভাবে জনগণের জন্য কাজ করছি। আর যখন মানুষের জন্য কাজ করে থাকি, মানুষ তো অবশ্যই তাদের প্রতিনিধিকে নির্বাচন করবে। জনগণের তো মন মানসিকতা আগের চেয়ে পরিবর্তন হয়েছে। জনগণ যদি আমাকে চায়, উনি তো জোর করে সেটা থামাতে পারবের না,” বলেন মি. পাটওয়ারী।

প্রচারণার মাঠে নেই মেঘনা আলম
বিএনপি ও এনসিপি’র প্রার্থীদের বাইরে ঢাকা-৮ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মেঘনা আলমকে ঘিরেও নানান আলোচনা হতে দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করা মিজ আলম মাথায় মুকুট পরে প্রচারণায় অংশ নিয়ে ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত হয়েছেন।

“আমরা সবসময় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় বলি যে, দেশ বদলে ফেলবো এবং সবাই মনে করে, এটা জাস্ট বলার জন্য বলছে। তারা মনে হয় কাজ করছে না,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মিজ আলম।

“কিন্তু এখন আমি মাথায় ক্রাউন পরে মানুষের কাছে যাচ্ছি এবং সাধারণ মানুষ যখন আমাকে দেখছে, তখন তাদের ভুল ধারণাটা ভেঙে যাচ্ছে,” যোগ করেন গণঅধিকার পরিষদের এই প্রার্থী।

তবে নিরাপত্তা শঙ্কায় গত কিছুদিন ধরে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন না তিনি। যদিও তার দলের নেতাকর্মীরা প্রচারণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

“প্রচারণায় নামার পর থেকেই আমি এবং আমার কর্মীরা নানান হুমকি-ধামকি পেয়ে আসছিলাম। কিছুদিন আগে আমাকে রেপ থ্রেটও (ধর্ষণের হুমকি) দেওয়া হয়েছে। সেজন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় আপাতত কিছুদিন মাঠের প্রচারণায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি,” বলেন মিজ আলম।

নির্বাচন কমিশনে ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী দশই ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। কাজেই ভোট চাওয়ার জন্য সময়ও বেশি বাকি নেই।

“সেজন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত প্রচারণায় যোগ দিতে চাই। এরই মধ্যে অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছি এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে বিষয়টি জানানোও হয়েছে। কিন্তু তারপরও এখন পর্যন্ত আমাকে লাইসেন্স দেওয়া হয়নি,” বলেন মেঘনা আলম।

“অথচ আমার পরে আবেদন করেও অনেকে লাইসেন্স পেয়ে গেছেন। কেউ কেউ পুলিশি নিরাপত্তাও পাচ্ছেন। এক্ষেত্রে সরকার ও নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে আমি মনে করি,” যোগ করেন গণঅধিকার পরিষদের এই প্রার্থী।

ভোটাররা কী বলছেন?
নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের মধ্যে পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ ও রেষারেষির যেসব ঘটনা ঘটছে, সেগুলো দেখে হতাশা প্রকাশ করেছেন ঢাকা-৮ আসনের ভোটাররা।

“প্রতিদ্বন্দিতা থাকতে পারে, দুই-চার কথা হইতে পারে। কিন্তু সার্বিকভাবে এটা ভালো লক্ষণ না। এভাবে রেষারেষি চলতে থাকলে পরবর্তীতে মারামারিতে রূপ নেবে,” বলছিলেন শাহজাহানপুর এলাকার ভোটার জসিম উদ্দিন, যিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।

ঢাকা-৮ আসনটি মূলত রাজধানীর রমনা, শাহবাগ, মতিঝিল, কাকরাইল, মগবাজারের অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয় এ এলাকায় হওয়ায় আসনটিকে দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থল বলা যায়। এ আসনে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, কমলাপুর রেলস্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

বিএনপি, এনসিপি ও গণঅধিকার ছাড়াও আসনটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেফায়েত উল্লা, জনতার দলের মো. গোলাম সারোয়ার, বাংলাদেশ জাসদের এ এফ এম ইসমাইল চৌধুরী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এস এম সরওয়ার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ত্রিদ্বীপ কুমার সাহা, জাতীয় পার্টির জুবের আলম খান, মুক্তিজোটের মো. রাসেল কবির এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের এ এইচ এম রাফিকুজ্জামান আকন্দ ভোট করছেন।

প্রার্থীদের সবার নজর এখন আসনের প্রায় দুই লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন ভোটারের দিকে, যাদের বড় অংশই বয়সে তরুণ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র নেতাদের বড় একটি অংশ এখন এনসিপি’র সঙ্গে রয়েছেন। এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার জন্য তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন।

“গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র নেতারা এনসিপি গড়ে তোলার পর আমরাও ভেবেছিলাম, রাজনীতিতে হয়তো একটা ইতিবাচক পরিবর্তন তারা আনতে পারবে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী নুসাইবা সাইফ ইশতু।

“কিন্তু কিছু ঘটনা দেখার পর এখন মনে হয় যে, এনসিপিও নো বেটার দ্যান আদার পলিটিক্যাল টিমস (অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর তুলনায় ভালো কোনো দল নয়),” বলেন মিজ ইশতু।

এদিকে সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এসব কথা বলেন নির্বাচিত হলে তার নির্বাচনী এলাকাকে একটি নিরাপদ, সেবামুখী ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা-৮ একটি ব্যতিক্রমধর্মী আসন, যেখানে দেশের প্রধান খাত স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অবস্থান করছে। ফলে এই আসনের সমস্যা যেমন জটিল, তেমনি সম্ভাবনাও বিপুল। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি নিরাপদ, সেবামুখী ও বাসযোগ্য ঢাকা-৮ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করছি।’

‘ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের অন্যতম বৃহৎ সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকা-৮ আসনের মধ্যে রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী ও স্বজন এই এলাকায় আসেন। এই বিশাল রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে মানুষকে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। আমি নির্বাচিত হলে হাসপাতালকেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনাকে মানবিক, শৃঙ্খলিত ও রোগীবান্ধব করতে কার্যকর উদ্যোগ নেব।’

ঢাকা-৮ আসনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজসহ শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অবস্থিত বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই আসন মূলত দেশের জ্ঞান ও মানবসম্পদ তৈরির কেন্দ্র। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা শুধু পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; পড়াশোনার সময় থেকেই শিল্প ও কর্মক্ষেত্রের সাথে সংযুক্ত হবে, যাতে শিক্ষা শেষে তারা বেকার না হয়ে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হয়।’

অর্থনৈতিক দিক থেকে মতিঝিলকে দেশের আর্থিক কেন্দ্র উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা-৮ আসনেই বাংলাদেশের ব্যাংকিং, আর্থিক ও করপোরেট কার্যক্রমের বড় অংশ কেন্দ্রীভূত।

তিনি বলেন, ‘আমরা মতিঝিলকে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের ফাইন্যান্সিয়াল হাবে রূপান্তর করতে চাই। ব্যাংকিং সেক্টর, শেয়ারবাজার ও আর্থিক সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে যাতে দেশের অর্থ লুটপাটের শিকার না হয়, সে ব্যবস্থাই আমাদের লক্ষ্য।’

ঢাকা-৮ আসনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তা এবং গোডাউনভিত্তিক ব্যবসার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব ব্যবসা এলাকার অর্থনীতির চালিকাশক্তি হলেও দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনার শিকার। এ খাতকে পরিকল্পিত ও নিরাপদ করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

সরকারি সেবা প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘ঢাকা-৮ আসনেই দেশের সর্বাধিক সরকারি অফিস ও কর্মচারীর কর্মস্থল। তাই আমরা চাই, সরকারি দফতরগুলোতে জনগণ যেন হয়রানি ছাড়া সেবা পায়। ডিজিটালাইজেশন ও নতুন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেবাখাতকে নাগরিকবান্ধব করা হবে।’

তিনি বলেন, ঢাকা-৮ আসনের আবাসিক এলাকাগুলোতে গ্যাস ও পানির লাইন থাকা সত্ত্বেও অনেক জায়গায় নিয়মিত সরবরাহ নেই। পাশাপাশি ধুলোবালি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের অভাব এবং যানজট ঢাকা-৮-এর বড় সমস্যা। এসব বিষয় স্থানীয় সরকারের আওতাভুক্ত হলেও নির্বাচিত হলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে এসব ইস্যু জোরালোভাবে উত্থাপন করবেন বলে জানান।

নিরাপত্তাকে তার নির্বাচনী অঙ্গীকারের কেন্দ্রবিন্দু উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য নিরাপদ ঢাকা-৮ গড়া। এমন একটি এলাকা চাই, যেখানে নারীরা গভীর রাতেও নিশ্চিন্তে চলাফেরা করতে পারবেন।’

তিনি মাদকমুক্ত সমাজ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা এবং শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

গণভোট প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গণভোট কেবল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, এটি জনগণের মত প্রকাশের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। তিনি জানান, ১১ দলীয় জোট গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ঢাকা-৮ আসনে এ বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা কাঁচাবাজার, মসজিদ, স্কুল-কলেজ, শপিংমলসহ বিভিন্ন স্থানে লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিতরণের মাধ্যমে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছি।’

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘দেশে দীর্ঘদিন ধরে ভয় ও দমন-পীড়নের একটি পরিবেশ ছিল। বহু প্রতিষ্ঠান দখলের কারণে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছে না।’ তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘ঢাকা-৮ আসনের মানুষ আশ্বাস দিচ্ছেন, তারা ভোটের মাধ্যমে জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে এবং ইনসাফ ও সংস্কারের পক্ষে রায় দেবেন।’

নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার দল ও সমর্থকেরা কঠোরভাবে আচরণবিধি মেনে চলছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো উসকানিতে জড়াইনি এবং শান্তিপূর্ণ প্রচারণায় বিশ্বাস করি।’

তিনি অভিযোগ করেন, গণভোট ও নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে স্থাপিত তাদের কিছু বিলবোর্ড ও প্রচারসামগ্রী প্রতিপক্ষের কর্মীরা অপসারণ করেছে। তবুও শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

১১ দলীয় জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জোটভুক্ত দলগুলো জনগণের কথা বলছে বলেই মানুষ তাদের দিকে ঝুঁকছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মানুষের কথাই তুলে ধরছি। জনগণই আমাদের বিজয়ের দিকে নিয়ে যাবে, ইনশা আল্লাহ।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৯, ২০ ও ২১ নং ওয়ার্ড (মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ, শাহজাহানপুর ও রমনা) নিয়ে গঠিত ঢাকা -৮ আসন।

ঢাকা-৮ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫২ হাজার ৭৯৫ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ২২ হাজার ৬৭৫ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার একজন। আসনটিতে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১০৮টি এবং মোট ভোট কক্ষের সংখ্যা ৫২৭টি।


Spread the love

Leave a Reply