ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিস্ফোরণ

Spread the love

ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন জায়গায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে কয়েকটি দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি।

সংবাদ সংস্থাটির খবরে বলা হয়েছে, যেসব ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে তার মধ্যে মধ্যে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আল সালেম বিমান ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর।

সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বাহরাইন, কাতারের দোহার পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আজ জানিয়েছে যে রাজধানী আবুধাবিতে একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো পড়ে একজন নিহত হয়েছেন।

ওদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তেহরানে নেই এবং তাকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে খবর দিয়েছে।

বিবিসি আরবি বিভাগ জানিয়েছে, তেহরানে খামেনির সদরদপ্তর ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদের কাছেই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

এর আগে ইরানের হামলা চালানোর তথ্য জানায় ইসরায়েল। তারা এটিকে “পূর্ব-নির্ধারিত আক্রমণ” বলে উল্লেখ করে।

আজ সকালে এক বিবৃতিতে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ইসরায়েলজুড়ে “বিশেষ এবং স্থায়ী জরুরি অবস্থা” ঘোষণা করেছেন।এরপরপরই ইসরায়েল ও ইরান তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে।

গত বছর জুনে ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল। ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাকে মূল লক্ষ্যবস্তু করে একাধিক হামলা চালিয়েছিল দেশটি।

ইসরায়েল তখন দাবি করেছিল, তাদের লক্ষ্য ছিলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা।

ইসরায়েলের হামলার জবাবে তেহরানও তখন ইসরায়েলের দিকে শত শত রকেট ও ড্রোন ছুঁড়ে

পরে এক পর্যায়ে ২২শে জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় আমেরিকান যুদ্ধবিমান বোমা হামলা চালিয়েছিল। সেগুলো হলো – ফোর্দো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহান।

এর মধ্যে ফোর্দো, ইরানের দূরবর্তী পাহাড়ি এলাকার ভেতর লুকানো একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে ইরান খুব শিগগিরই পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে সক্ষম হবে।

সম্প্রতি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে ইরানে হামলা করা হবে- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন হুমকির মধ্যেই জেনেভায় তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় বসেছিলেন মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা।

তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে, আমেরিকা এই অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। ট্রাম্প যাকে “আর্মাডা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

যেখানে দুটি বিমানবাহী রণতরী, অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং জ্বালানি বহনকারী বিমান রয়েছে।

গত মাসে ট্রাম্প প্রথমবারের মতো ইরানে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নির্মমভাবে দমন করার সময় হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ওই হুমকি দেন তিনি।

এখন পর্যন্ত আরও যা জানা যাচ্ছে:

  • যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করেছে। ট্রাম্প নিশ্চিত করে বলেছেন ‘বড় ধরনের অভিযান’ চলছে।
  • ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলছেন তার দেশ তেহরানে পূর্ব পরিকল্পিত হামলা শুরু করেছে।
  • ইরানের পাঁচটি শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর মধ্যে আছে ইশফাহান, কওম, কারাজ, কেরমানশাহ ও রাজধানী তেহরান।
  • ইসরায়েল জানিয়েছে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে।
  • ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ বলেছে ‘ইরানের দিক থেকে আসা’ ক্ষেপণাস্ত্র চিহ্নিত করায় বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজানো হয়েছে। তারা বলেছে হুমকি রুখে দিতে ও পাল্টা হামলায় ইসরায়েলের বিমান বাহিনী কাজ করছে।

Spread the love

Leave a Reply