ইরান মার্কিন যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে
ডেস্ক রিপোর্টঃ ইরান প্রথমবারের মতো একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যার ফলে নিখোঁজ ক্রুদের খুঁজে বের করার জন্য একটি অভিযান শুরু হয়েছে।
ইরানের গণমাধ্যম একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ করেছে, যেটি দক্ষিণ ইরানে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী বিমানের এলাকাটিতে চক্কর দেওয়ার ফুটেজ শেয়ার করেছেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সে সময় বিমানটিতে দুজন ক্রু সদস্য ছিলেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যমতে, ইরানের সেনাবাহিনীও মার্কিন বিমানসেনাদের সন্ধান করছিল।
ইরানের একটি টিভি চ্যানেলের উপস্থাপক দর্শকদের বলেন: “যদি আপনারা শত্রুপক্ষের পাইলট বা পাইলটদের জীবিত ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন, তবে আপনারা একটি মূল্যবান পুরস্কার পাবেন।”
পর্দায় দেখানো একটি পৃথক বার্তায় জনগণকে “তাদের দেখলে গুলি করার” আহ্বান জানানো হয়, যা ওই এলাকায় মার্কিন বিমান বলে মনে হওয়া ফুটেজের দিকে ইঙ্গিত করে।
প্রাথমিক অনুসন্ধান এলাকার নিকটবর্তী ইরানের কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমাদ প্রদেশের গভর্নর গ্রামবাসীদের অনুসন্ধান প্রচেষ্টা চালানোর জন্য “তাদের সর্বশক্তি ব্যবহার করার” নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, “যে দল এই ব্যক্তিদের শনাক্ত ও ধরতে সফল হবে, তাদের মূল্যবান পুরস্কার দেওয়া হবে”। কর্মকর্তারা ক্রুদের খুঁজে বের করতে পারলে যে কাউকে ৬০,০০০ ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তেহরানের গণমাধ্যমগুলোর মতে, আধা-যাযাবর উপজাতি ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এই পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দারা এর প্রতিক্রিয়ায় সংগঠিত হয়েছে।
তারা জানিয়েছে, “যাযাবর, গ্রামবাসী এবং এই প্রদেশের বিভিন্ন গোষ্ঠী তাদের হাতে থাকা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রদেশের পাহাড় ও সমভূমিতে অনুসন্ধান ও টহল দেওয়া শুরু করেছে, যাতে প্রয়োজনে শত্রুর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া যায়।”
প্রদেশটিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সাথে যুক্ত তাসনিম সংবাদ সংস্থার একজন প্রতিবেদক দাবি করেছেন যে, বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র পাইলটকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেছিল।