কনজারভেটিভ পার্টির বড় ধরনের রদবদলে মেল স্ট্রাইড ও প্রীতি প্যাটেলকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্টঃ কনজারভেটিভ পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে স্যার মেল স্ট্রাইড এবং ডেম প্রীতি প্যাটেল শ্যাডো ক্যাবিনেট বা ছায়া মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
অ্যান্ড্রু গ্রিফিথ স্যার মেলের স্থলাভিষিক্ত হয়ে শ্যাডো চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব নেবেন এবং টম টাগেন্ডহাট ডেম প্রীতির জায়গায় শ্যাডো ফরেন সেক্রেটারি (ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী) হবেন।
অক্টোবরে দলের সম্মেলনের আগেই বাডেনক একটি নতুন শ্যাডো ক্যাবিনেট গঠন করছেন।
বেশিরভাগ জনমত জরিপে কনজারভেটিভরা লেবার পার্টি এবং রিফর্ম ইউকে-র পেছনে থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে; তাই টরি নেত্রী আশা করছেন যে, নতুন করে সাজানো শ্যাডো ক্যাবিনেট দলের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়তা করবে।
এর আগে শ্যাডো এনার্জি সেক্রেটারি (ছায়া জ্বালানি মন্ত্রী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ক্লেয়ার কুটিনহো মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে গ্রিফিথের স্থলাভিষিক্ত হয়ে শ্যাডো বিজনেস সেক্রেটারি (ছায়া বাণিজ্য মন্ত্রী) হবেন এবং গ্রিফিথের ডেপুটি হিসেবে কাজ করবেন।
বাডেনক বলেন, শ্যাডো চ্যান্সেলর হিসেবে স্যার মেল দলের অর্থনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারে এবং একটি কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করেছেন।
কনজারভেটিভ পার্টির একজন জ্যেষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে: “কেমি কনজারভেটিভ পার্টির অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছেন এবং প্রবৃদ্ধি, উন্নত জীবনযাত্রার মান ও আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে পরবর্তী ধাপের জন্য একটি নতুন অর্থনৈতিক নেতৃত্ব দল গঠন করছেন।”
২০২৪ সালে বাডেনক দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর এই পদে নিয়োগ পাওয়া স্যার মেল তাঁর দায়িত্ব পালনকালকে “অত্যন্ত সম্মানের বিষয়” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
নতুন শ্যাডো চ্যান্সেলর গ্রিফিথ বলেছেন, টরিরা “অর্থনৈতিক বিপ্লব” ঘটাবে—যার মধ্যে থাকবে কর হ্রাস, জ্বালানির খরচ কমাতে ব্রিটেনে পুনরায় খননকাজ শুরু করা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও লেবার পার্টির ‘এমপ্লয়মেন্ট রাইটস অ্যাক্ট’ (কর্মসংস্থান অধিকার আইন) বাতিল করা।
তিনি বলেন, “কনজারভেটিভরা সর্বদা সেইসব ঝুঁকি গ্রহণকারী ও সম্পদ সৃষ্টিকারীদের পাশে থাকবে যারা প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে।”
কনজারভেটিভ পার্টির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গ্রিফিথকে “বাস্তব ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, প্রবৃদ্ধি-পন্থী এবং কাজের ক্ষেত্রে কঠোর ও স্পষ্টবাদী শ্যাডো চ্যান্সেলর” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
২০১৯ সালে আরুন্ডেল অ্যান্ড সাউথ ডাউনস-এর এমপি হওয়ার আগে তিনি ‘স্কাই’ (Sky)-এর শীর্ষ নির্বাহী এবং ‘জাস্ট ইট’ (Just Eat)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ট্রেজারি মন্ত্রী হিসেবে গ্রিফিথ লিজ ট্রাসের ২০২২ সালের ‘মিনি-বাজেট’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
ট্রেজারির চিফ সেক্রেটারি এমা রেনল্ডস উল্লেখ করেন যে, নতুন শ্যাডো চ্যান্সেলর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ট্রাসকে সমর্থন করেছিলেন এবং মিনি-বাজেটের সময় তাঁর ভূমিকা ছিল এমন—যার “মাশুল গুনতে হয়েছিল পরিবারগুলোকে”।
তিনি আরও বলেন, “সেই পুরনো টরি দল, সেই পুরনো অর্থনৈতিক নীতি।” লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের ট্রেজারি মুখপাত্র ডেইজি কুপার বলেছেন: “গ্রিফিথ ট্রাসের মিনি-বাজেট পাস করাতে সাহায্য করেছিলেন, যার ফলে মর্টগেজের পরিমাণ আকাশচুম্বী হয়েছিল এবং অর্থনীতি বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছিল।”
“এটা স্পষ্ট যে কনজারভেটিভরা কিছুই শেখেনি। শ্যাডো চ্যান্সেলর হিসেবে তার নিয়োগ এটাই প্রমাণ করে যে, রিফর্ম ইউকে-র সাথে নিম্নগামী প্রতিযোগিতায় তারা অর্থনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার যেকোনো দাবি বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত।”
রিফর্ম ইউকে-র শ্যাডো চ্যান্সেলর রবার্ট জেনরিক বলেছেন: “তারা বদলায়নি এবং আমাদের দেশের যে ক্ষতি তারা করেছে, তার জন্য এখনও অনুতপ্ত নয়।” অবৈধ অভিবাসীদের জন্য বরাদ্দ সুবিধা বা ‘হ্যান্ডআউট’ ছাঁটাই করা, ‘নেট জিরো’ বা কার্বন নিঃসরণ কমানোর অযৌক্তিক ভর্তুকি বন্ধ করা কিংবা সরকারি ভাতার ক্রমবর্ধমান বিশাল ব্যয়ভার কমানোর ক্ষেত্রে টরিদের ওপর কোনোভাবেই আস্থা রাখা যায় না।
২০২৪ সাল থেকে ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডেম প্রীতি এখন সাধারণ এমপি বা ‘ব্যাকবেঞ্চার’ হিসেবে ফিরে যাবেন এবং বিদেশে সমমনা দল ও মধ্য-ডানপন্থী আন্দোলনের সাথে টরিদের সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে একটি নতুন আন্তর্জাতিক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
স্টুয়ার্ট অ্যান্ড্রু সাধারণ এমপি হিসেবে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ব্যাডেনক-কে একজন নতুন ছায়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং লন্ডন মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে স্যার জেমস ক্লেভারলি সামনের সারির পদ (ফ্রন্ট বেঞ্চ) ছেড়ে দেওয়ায় একজন নতুন ছায়া আবাসন মন্ত্রীও নিয়োগ করতে হবে।
তাঁর এই রদবদলের লক্ষ্য হলো বেশ কিছু সমস্যার সমাধান করা।
প্রথমত, তিনি তাঁর শীর্ষ দলের এমন সদস্যদের সরিয়ে দিতে চান যারা তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় বা দৃশ্যমান ছিলেন, অথবা যারা লেবার পার্টি ও রিফর্ম ইউকে-র বিরুদ্ধে যথেষ্ট জোরালো অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ব্যাডেনক স্যার মেল-এর প্রতি উষ্ণ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু জনমত জরিপে দেখা গেছে যে অর্থনীতির বিষয়ে কনজারভেটিভদের চেয়ে রিফর্ম ইউকে-র ওপর মানুষের আস্থা বেশি।
আর কেমি ব্যাডেনক মনে করেন, এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, ডেম প্রীতির মতো পরিচিত মুখগুলো শীর্ষ দলে থাকাটা যেমন উচ্চ-পর্যায়ের সরকারি অভিজ্ঞতার কারণে উপকারী ছিল, তেমনি তাঁরা ভোটারদের সেই দলটির কথা মনে করিয়ে দিতে পারেন যাকে ভোটাররা ২০২৪ সালে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
দলের পুরনো নেতৃত্বের জায়গায় নতুনদের নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে; ব্যাডেনক এখন এমন কাউকে খুঁজছেন যিনি কনজারভেটিভদের পরবর্তী নির্বাচনে নেতৃত্ব দিতে পারবেন—বিশেষ করে যখন তাঁদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে লেবার পার্টির নতুন নেতা ও মন্ত্রিসভার।
তৃতীয়ত, তিনি এমন সব বিষয়ের ওপর মনোযোগ দিতে চান যেখানে লেবার পার্টি দুর্বল অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করা হয়।
এর মধ্যে একটি ক্ষেত্র হলো প্রতিরক্ষা ব্যয় ও জাতীয় নিরাপত্তা।
তাই ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি টম টাগেন্ডহাটকে নিয়োগ দিয়েছেন—যিনি একজন প্রাক্তন নিরাপত্তা মন্ত্রী এবং বর্তমান সেনা রিজার্ভিস্ট এবং যিনি আফগানিস্তান ও ইরাকে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ছায়া প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাথে একটি দলের অংশ হিসেবে কাজ করবেন।
কিছু জনমত জরিপে দেখা গেছে, আশ্রয় ও অভিবাসন ইস্যুর চেয়েও অর্থনীতি ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; টরি নেত্রীর বিশ্বাস, ধীরগতির প্রবৃদ্ধির কারণে সরকার এই ক্ষেত্রে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।
তাই তিনি কনজারভেটিভদের জন্য একটি নতুন অর্থনৈতিক ইউনিট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন, যার নেতৃত্বে থাকবেন গ্রিফিথ—যাঁর ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে।