বাংলাদেশ

কাজের মেয়ের সাথে তর্কের জেরে সিলেটে ট্রিপল মার্ডার

Spread the love

কাজের মেয়ের সাথে রং মিস্ত্রি বাবুল মিয়ার তর্কের জেরে সিলেটে ট্রিপল মার্ডার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আজ বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এ ঘটনায় আটক হওয়া বাবুল মিয়া স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলেও জানান তিনি। এর আগে বুধবার বিকেল ৫ টার দিকে তাকে তার নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটককৃত বাবুল মিয়া (৪০) নগরীর রায়নগরের রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনীতে থাকতো। সে মৃত নূর মিয়া ওরফে নূর কবিরাজের ছেলে। সে রং মিস্ত্রির কাজ করতো। সে বিবাহিত ছিল।

এর আগে বুধবার সকালে সিলেট নগরীর রায়নগরের একটি বাসায় বৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রী ও কাজের মেয়ের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন- বাড়ির মালিক আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও তাদের কাজের মেয়ে তাহমিনা বেগম (২৫)। তিনি রায়নগরের নিজের বাসায়ই থাকতেন। এই দম্পত্তির চার সন্তানের মধ্যে দুইজন লন্ডনে ও দুইজন আমেরিকায় থাকেন। নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা ও সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ছিলেন।

পুলিশ জানায়, বাবুল কিছুদিন পূর্বে ওই বাসায় রঙের কাজ করেছিল। সেই সুবাদে ওই বাসার কাজের মেয়েকে তার পছন্দ হয়। তখন তার সাথে তো তার হালকা সম্পর্ক হয়। পরবর্তীতে সে তাকে বাজে প্রস্তাব করে। এটা নিয়ে ওই মেয়ে তাকে গালিগালাজ করে। পরে আজকে আবার সে ওই বাসায় যায়। তখন সে তাকে গালাগালি করার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে কথা কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে সে ওই মেয়ের সাথে রাগ করে মেয়েকে একটি চাকু দিয়ে অনেকগুলা স্ট্যাপ করছে। বুকে, গলা, ঘাড়ে ও পিঠে অনেকগুলা স্ট্যাপ করে মেয়েকে মেরে ফেলে। মেয়েকে যখন স্ট্যাপ করে, তখন ওই বাসার মহিলা রান্নাঘরে ছিলেন। তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে দৌঁড়ে সেখানে যান। গিয়ে তাকে বাঁধা দিলে তাকেও মেরে ফেলে। পরে বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তারকে ড্রয়িং রুমে মেরে তারপর সে পেছনের বারান্দা দিয়ে দরজার ছিটকিনি আটকিয়ে দুই তলা থেকে লাফ দিয়ে চলে যায়।

মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, আমরা তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে তাকে আইডেন্টিফাই করেছি, পরে ধরেছি। সে আমাদের সামনে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে যাচ্ছি। রাতেও আবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হবে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Spread the love

Leave a Reply