প্রবাস

কিউ ফ্যাক্টর বিজয়ীদেরকে নিয়ে অ্যালামনাই ক্লাব গঠিত

Spread the love

কো -অর্ডিনেটর বুরহান উদ্দিন ,সহ কো -অর্ডিনেটর ইদ্রিস হাসান ও সহ কো -অর্ডিনেটর মারিয়াম জাযীম

মোঃ জয়নুল আবেদীনঃ গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং শনিবার পূর্ব লন্ডনের একটি ব্যাংকুইটিং হলে কিউ ফ্যাক্টর বিজয়ীদেরকে নিয়ে একটি ডিনার পার্টি ও প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়।

কিউ ফ্যাক্টর সিজন ২ বিজয়ী বুরহান উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কিউ ফ্যাক্টর সিজন ৮ এর বিজয়ী রাকিন আনজুম ও খাদিজা হোসাইন। অনুষ্ঠানে নাশিদ পরিবেশন করেন কিউ ফ্যাক্টর সিজন ৮ বিজয়ী ইয়াহইয়া শুয়াইব।

স্বাগত বক্তব্য ও অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন গ্লোবাল এইড ট্রাস্ট চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক এবং প্রোগ্রাম লিডার , ডাটা সায়েন্স এন্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স , ইউনিভার্সিটি অফ দি ওয়েস্ট অফ স্কটল্যান্ড-ডক্টর আশরাফ মাহমুদ ।

অনুষ্ঠানে রিফ্লেকশন ও এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করেন কিউ ফ্যাক্টর বিজয়ীরা।

অনুষ্ঠানের ইনসাইট এন্ড ডিসকাশন উইথ গ্লোবাল এইড ট্রাস্ট ম্যানেজমেন্ট সেশনে বক্তব্য রাখেন ইসলামী স্কলার শাইখ আব্দুর রহমান মাদানী, ডক্টর আব্দুস সালাম আজাদী , ডক্টর আবুল কালাম আজাদ, ডক্টর আক্তারুজ্জামান , হাফিজ মাওলানা শাইখ আবু তাহের ও দাওয়াতী ইসলামের সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান মইন উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে আইডিয়া শেয়ার করেন জনাব কামাল হোসাইন , জনাব রবিউল আলম ও জনাব লায়েক মিয়া প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে গ্লোবাল এইড ট্রাস্টের চেয়ারম্যান তার প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করে বলেন , আজ আমরা আমাদের কিউ ফ্যাক্টর বিজয়ী এবং রানার্স আপদের সাথে এখানে একত্রিত হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, এত উজ্জ্বল, তরুণ তারকাদের সামনে দেখে আমার খুব আনন্দ হচ্ছে। মাশাআল্লাহ, তোমাদের অর্জন অসাধারণ, এবং তোমরা সত্যিই আমাদের কমিউনিটির জন্য একটি লুকানো সম্পদ। তোমরাই সমাজ এবং বিশ্বে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারো।

আমরা সকলেই জানি যে একটি সম্প্রদায় হিসেবে আমরা অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। যুক্তরাজ্যে বর্ণবাদ এবং ইসলামোফোবিয়া বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি, আমরা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে বিভেদমূলক মন্তব্য শুনেছি, যারা অভিবাসীদের, বিশেষ করে তরুণদের, সম্পদের পরিবর্তে বোঝা হিসেবে চিত্রিত করেছে। এই বর্ণনাগুলি ক্ষতিকারক এবং অন্যায্য। কিন্তু মুসলিম হিসেবে, আমাদের ভয়ের সাথে নয়, ঐক্য, শক্তি এবং দৃঢ়তার সাথে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।

তিনি আরো বলেন আজ, আমরা কেবল আপনাদের সাফল্য উদযাপন করছি না, বরং আপনাদেরকে আরও বড় কিছুর অংশ হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি – এমন কিছু যা ভবিষ্যতে Q Factor দৃষ্টিভঙ্গি বহন করতে পারে।

আপনারা জানেন, গ্লোবাল এইড ট্রাস্ট ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং Q Factor শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে। তারপর থেকে, আমরা চ্যানেল এস সহ আমাদের অংশীদারদের সহায়তায় আটটি সফল সিজন সম্পন্ন করেছি। বছরের পর বছর ধরে, গ্লোবাল এইড ট্রাস্ট আমাদের অনেক শিক্ষামূলক প্রকল্পও পরিচালনা করেছে। আজ, বাংলাদেশে প্রায় ১,০০০ তরুণ হুফফাজ কুরআন মুখস্থ করছে, জীবনযাপন করছে এবং মনে লালন করছে। আমাদের প্রকল্পগুলি সর্বদা কুরআনের জন্য এবং কুরআন দ্বারা পরিচালিত। কিন্তু প্রশ্ন হল: আমরা কীভাবে Q Factor কে ভবিষ্যতের জন্য টেকসই করব? এই কারণেই আমরা একটি Q Factor প্রাক্তন ছাত্র নেটওয়ার্ক গঠনের প্রস্তাব করছি। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি সহজ কিন্তু শক্তিশালী:

১. আমরা একটি কুরআনিক পরিবার।

২. আপনি Q Factor এর এম্বেসেডর।

৩. তরুণ তারকা হিসেবে, তোমাদের এখন এগিয়ে এসে নেতৃত্বের অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।

৪. একটি আনুষ্ঠানিক প্রাক্তন ছাত্র কাঠামোর মাধ্যমে, তোমরা এই প্রকল্পটি পরিচালনা এবং শক্তিশালী করতে পারো।

এর জন্য আমাদের দুই ধরণের সহায়তা প্রয়োজন: মানব সম্পদ এবং অর্থায়ন।

• তোমরাই মানব সম্পদ। তোমরা মিনি কিউ ফ্যাক্টর বা টিভি নির্বাচন রাউন্ডে অংশগ্রহণ করতে পারো—বিচারক, উপস্থাপক, পরামর্শদাতা বা অন্য যেকোনো পদে।

• অর্থায়ন ছোট কিন্তু নিয়মিত অবদান থেকে আসতে পারে: আমাদের সমর্থকদের কাছ থেকে ২ পাউন্ড স্টেন্ডিং অর্ডারও অনেক পার্থক্য আনতে পারে।

• আমরা মিনি কিউ ফ্যাক্টর ইভেন্টের জন্য স্পনসরশিপও চাইতে পারি, যেখানে দাতারা প্রতি ইভেন্টে কমপক্ষে ৫০০ পাউন্ড সহায়তা করবেন।

আমরা শুভাকাঙ্ক্ষীদের ফ্রেন্ডস অফ কিউ ফ্যাক্টর ১০ পাউন্ড বা তার বেশি মাসিক, এবং সমর্থক ১০ পাউন্ড এর কম মাসিক হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করতে পারি।

এর উপরে, আমরা কিউ ফ্যাক্টর গ্র্যান্ড ফিনালেতে এককালীন অনুদান বা স্পনসরশিপ পেতে পারি।

প্রাক্তন ছাত্ররা কীভাবে চলবে?

এই তহবিল থেকে, আমরা একটি প্রাক্তন ছাত্র অফিস পরিচালনা করতে পারি।

আমরা মাসিক বা ত্রৈমাসিক প্রাক্তন ছাত্র সভা করতে পারি।

• ইনশাআল্লাহ, গ্লোবাল এইড ট্রাস্ট তোমাদের মধ্যে থেকে একজনের জন্য একটি বিশেষ ওমরাহ টিকিট স্পনসর করবে, যাকে কুররা (ড্র) এর মাধ্যমে নির্বাচিত করা হবে।

এগুলো আমাদের প্রাথমিক চিন্তাভাবনা। তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আমরা তোমাদের কাছ থেকে শুনতে চাই। আমরা চাই তোমাদের ধারণা, তোমাদের শক্তি এবং তোমাদের নেতৃত্ব কিউ ফ্যাক্টর অ্যালামনাই গঠনের জন্য।

তাই আজ, আমি তোমাদের, আমাদের কিউ ফ্যাক্টর পরিবারকে, এগিয়ে আসার এবং তোমাদের মতামত ভাগ করে নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। একসাথে, আসুন আমরা সিদ্ধান্ত নিই যে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক চালু করতে পারি কিনা।

গ্লোবাল এইড ট্রাস্ট তোমাদের পাশে দাঁড়াবে এবং তোমাদের সমর্থন করবে, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তোমাদের প্রচেষ্টা সফল করুন, তোমাদের ঈমান রক্ষা করুন এবং তোমাদেরকে উম্মাহ এবং বৃহত্তর সমাজ উভয়ের জন্যই শ্রেষ্ঠত্বের সাথে সেবা করার সুযোগ দান করুন।

বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও গ্লোবাল এইড ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মাদানী বলেন, কোরানিক মুভমেন্ট যুক্তরাজ্য জুড়ে প্রত্যকটি মুসলিমের ঘরে থাকা দরকার। কিউ ফ্যাক্টর থেকে তোমরা তোমাদের সেলফ স্ট্রিম বৃদ্ধি করতে পারো। এছাড়াও শিক্ষা ক্ষেত্রে উৎসাহ উদ্দিপনা যোগাতে কিউ ফ্যাক্টর গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করতে পারে।

বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও গ্লোবাল এইড ট্রাস্টের ট্রাস্টি ডক্টর আব্দুস সালাম আজাদী বলেন, আজ যারা এখানে এসেছ তোমরা সবাই কোরানের স্টার, তোমাদের মাধ্যমে কোরানের আলো প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌছে যাবে এবং তোমাদের মাধ্যমেই কোরানিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশা আল্লাহ।

বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও গ্লোবাল এইড ট্রাস্টের ট্রাস্টি ডক্টর আবুল কালাম আজাদ বলেন, ব্রিটেনের সমাজ অপসংস্কৃতির মধ্যে আবদ্ধ। তোমরা এই অপসংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছ, এটা মহান রাব্বুলের পছন্দে হয়েছে।তোমরাই আগামী দিনে কোরানের আলো পৌছে দিবে প্রতিটি মুমিনের ঘরে ঘরে ইনশা আল্লাহ।

কিউ ফ্যাক্টর ম্যানেজার জয়নুল আবেদীন বলেন, আমরা কিউ ফ্যাক্টর ব্রিটেনের প্রতিটি শহরে পৌঁছে দিতে পেরেছি। এ বছর কিউ ফ্যাক্টর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিয়ে যাবো। আমরা কোরানের তারকাগুলোকে খুঁজে নিয়ে আসতে চাই ।

পরিশেষে ডিনার পরিবেশন ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


Spread the love

Leave a Reply