সাংবাদিক পরিচয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে ঘিরে এরা কারা? লন্ডন হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টারের পছন্দের তালিকায় আ.লীগের দোসররা

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্টঃ মাত্র কয়েকদিন আগে পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের যুক্তরাজ্য আগমনের প্রতিবাদে আয়োজিত কৃষকলীগের সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন সামিয়া আক্তার।

তিনি বুধবার লন্ডনের চ্যাটার হাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের দৈনিক সংগ্রাম প্রতিদিন নামক একটি পত্রিকার যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ড.ইউনুসকে প্রশ্ন করেন। এর আগে আলতাব আলী পার্কে কৃষক লীগ আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে সামিয়া আক্তার ডঃ ইউনূসকে অবৈধ অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে তাকে যুক্তরাজ্যে প্রতিহত করার হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তারা চান না এই অবৈধ সরকার প্রধান ডঃ ইউনুস যুক্তরাজ্যের মাটিতে পা রাখুক। তিনি আহবান জানিয়ে বলেন বাংগালী যারা আছেন আওয়ামীলীগ প্রেমিক এবং ৭১ এ বিশ্বাসী তারা যে যেখানে আছেন ইউনুসের যুক্তরাজ্য সফর প্রতিহত করুন। অতচ সেই কৃষক লীগ নেত্রীকে চ্যাতার হাউসে সাংবাদিক পরিচয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
চ্যাতার হাউসের অনুষ্ঠানে যে সকল সাংবাধিককে বা অনুষ্ঠানের প্রশ্ন কর্তাদের যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে তাদের অধিকাংশ আও্যামীলীগের সমর্থিত। জুলাই বিপ্লবের সময় ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে এদের স্পস্ট অবস্থান ছিল।


বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন এসকল ডেলিগ্রেটদের চ্যাথাম হাউজের প্রবেশের জন্য সিলেক্ট করেছেন। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রকৃত সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে তিনির পছন্দ মতো নির্বাচিত আওয়ামীলীগের দোসর সাংবাদিকদের অনুমতি প্রদান করেছেন। অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের অনেকেই অতীতে আওয়ামীলীগের দোসর হিসেবে কাজ করেছেন।
এছাড়া সাংবাদিকদের নিয়ে হাই কমিশনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি ৩৫ জন সাংবাদিককে সিলেক্ট করেছেন বলে জানান ,যাদের মধ্যে কেউ কেউ ইউটিউবারও আছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের বক্তব্য থেকে এসেছে এদেশের সাংবাদিকদের যারা আছে তারা বাংলাদেশি পত্রিকার প্রতিনিধি শুধুমাত্র। অতচ ব্রিটেনে ১০০ বছরের বাংলা সাংবাদিকতার ইতিহাস রয়েছে। লন্ডন থেকে ৬টি বাংলা পত্রিকা ও ৭টি বাংলা টিভি চ্যানেল রয়েছে যারা শত বছর থেকে ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটি সেবা দিয়ে যাচ্ছে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত এসকল পত্রিকা বা টিভি চ্যানেল প্রেস সচিবের দৃশটিগোছর হয়নি।

লন্ডন হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টারের সাথে যোগাযোগ করার চেস্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন না।

সাংবাদিক পরিচয়ে ছাত্রলীগ নেতা

এদিকে জানা গেছে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ শিরোনামে বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার হোটেল লবিতে ৩০/৪০ জনের সাথে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যাদের নাম তালিকায় রয়েছে তাদের সকলেই কোনো না কোনোভাবে আওয়ামী লীগের সাথে সংশ্লিষ্ট। গত ১৫ বছরে আওয়ামী দু:শাসনেও তাদেরকে আওয়ামী লীগের সাথেই দেখা গেছে। এমনকি প্রধান উপদেষ্টার যুক্তরাজ্য আগমন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিক্ষোভ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানাতে যারা উদ্যোগী ভূমিকা নিয়েছেন তাদের কাউকেও রাখা হয়নি এ বৈঠকে। তাহলে কার স্বার্থে এবং কে এই ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ বৈঠকের আয়োজন করেছে, এ প্রশ্ন এখন যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের মধ্যে।

জানা গেছে শাহগির বখত ফারুক নামের একজনের পক্ষ থেকে বৈঠকের তালিকা দেওয়া হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি পুরাতন আওয়ামী লীগার। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশি চেম্বার অব কমার্সের সভাপতিও ছিলেন এক সময়। তিনি বরাবরই আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। গত ১৫ বছরেও তিনি আওয়ামী রাজনীতি সম্পৃক্ত ছিলেন। সাবেক আওয়ামী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমিন তার বাল্যবন্ধু এ পরিচয় দিয়ে বেড়াতেন।

লন্ডন হাইকমিশনে আওয়ামী দোসর কর্মকর্তারা প্রধান উপদেষ্টার সব প্রোগ্রাম শিডিউল এবং অবস্থানের বিষয় আওয়ামীদের জানিয়ে দেয়া হচ্ছে।

ওয়ালী তসর উদ্দিন এমবিই, আওয়ামীপন্থী ব‍্যবসায়ী, বহির্বিশ্বে শেখ হাসিনা সরকারের তোষামোদকারী আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ সমর্থক! তিনি আবার আওয়ামী ঘনিষ্ট এবং স্কটিশ এমপি ফয়সাল চৌধুরীর মামা।

ওলি খান এমবিই, সেলিব্রেটি শেফ, কট্টর আওয়ামী সমর্থক, আওয়ামী ও হাসিনা রেজিমের তোষামোদকারী।

তানভির হাসান ,সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। লন্ডন এসে হয়েছেন সাংবাদিক। সরাসরি আওয়ামীলীগের সাংবাদিকতা করেন। চ্যানেল এস টিভিতে তার কিছু বিতর্কিত সংবাদ কমিউনিটির সুনাম ক্ষুন্ন করেছিল। বর্তমানে ইউটিউবে সাংবাদিকতা করেন তিনি।

ছাত্রলীগ নেতা নুরুন্নবী আলি, সাংবাদিক হয়ে প্রধান উপদেষ্টার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। শেখ রেহানা, শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী মন্ত্রীদের সাথে তার ছবি পোস্টার রয়েছে।

বুলবুল হাসান, বরাবরই আওয়ামী পন্থী সাংবাদিক।

এছাড়া বাংলাদেশী কারী ইন্ডাস্ট্রির সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাটার্রাস এসোসিয়েশন (বিসিএ) এর অনেক সদস‍্য ড; ইউনুসকে ঘিরে ছিলেন। যারা শেখ হাসিনার আমলে সর্বদা তার সহযোগী ছিলো এবং শেখ হাসিনার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতো।
ছাত্রদের আন্দোলনে এদের কোনো ভূমিকা ছিলো না। অফিসিয়াল কোনো স্টেটমেন্টও দেয়নি এই সংগঠনগুলো! অথচ ড. ইউনূসের সফরে এরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে!

শেখ রেহানার সাথে কতিপয় সাংবাদিক

 


Spread the love

Leave a Reply