কেয়ার ওয়ার্কারদের পক্ষে অভিবাসন মন্ত্রীর নিবন্ধ; মন্ত্রীকে বরখাস্তের আহবান জানালেন হোম সেক্রেটারী
ডেস্ক রিপোর্টঃ দ্যা টাইমসে প্রকাশিত সংবাদপত্রের কলামকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ তাঁর মন্ত্রণালয়ের অভিবাসন মন্ত্রীর সরকারি নথিপত্র দেখার বা ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করছেন।
অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী মাইক ট্যাপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার বিষয়ে একটি অননুমোদিত নিবন্ধ লিখেছিলেন; এর জের ধরেই মাহমুদ তাঁকে বরখাস্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান।
অভিবাসন মন্ত্রী লিখেছিলেন, যারা কেয়ার ওয়ার্কার বা সেবাখাতের কর্মী হিসেবে যুক্তরাজ্যে এসেছেন, নিয়মকানুন মেনে চলেছেন এবং আমাদের সেবাখাতে প্রকৃত অবদান রেখেছেন, স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির (সেটেলমেন্ট) জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে তাঁদের আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য করা উচিত নয়।”
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, মাহমুদের মতে ওই নিবন্ধটি ছিল “নীতিমালা নিয়ে নিজস্ব মতামত প্রচারের” (freelancing on policy) শামিল এবং এটি যৌথ দায়বদ্ধতা ও মন্ত্রীদের আচরণবিধি—উভয়েরই লঙ্ঘন।
তবে তাঁকে বরখাস্ত করার বিষয়ে মাহমুদের অনুরোধে এখনো সাড়া দেওয়া হয়নি; ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে “পরামর্শ নিচ্ছেন”।
স্যার কিয়ারের (প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার) ঘনিষ্ঠ ও অনুগত সহযোগী ট্যাপ বলেছেন, “নিজের মতামত থেকে সরে আসার জন্য কোনো চাপের কাছেই আমি নতি স্বীকার করব না।”
ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র বলেছেন, মন্ত্রীদের আচরণবিধি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর; তিনি আরও যোগ করেন যে মাহমুদ ও ট্যাপ—উভয়ের ওপরই প্রধানমন্ত্রীর আস্থা রয়েছে।
এই বিরোধের সূত্রপাত হয় যখন ট্যাপ ‘দ্য টাইমস’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি নিবন্ধের মাধ্যমে যুক্তি দেন যে, যুক্তরাজ্যে আগে থেকেই বসবাসরত অভিবাসীদের ভিসা-সংক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তনের যে পরিকল্পনা মাহমুদ নিয়েছেন, তার আওতা থেকে বিদেশি কেয়ার কর্মীদের (সেবাখাতের কর্মী) অব্যাহতি দেওয়া উচিত।
তিনি লিখেছিলেন: “আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যারা কেয়ার ওয়ার্কার বা সেবাখাতের কর্মী হিসেবে যুক্তরাজ্যে এসেছেন, নিয়মকানুন মেনে চলেছেন এবং আমাদের সেবাখাতে প্রকৃত অবদান রেখেছেন, স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির (সেটেলমেন্ট) জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে তাঁদের আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য করা উচিত নয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এই বিষয়টি সমাধানের জন্যই আমি কঠোরভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিবন্ধটি প্রকাশিত হওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বিবিসিকে জানায়: “মন্ত্রীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে মাইক ট্যাপকে বরখাস্ত করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
“স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তাঁর দল যেসব ধারণা বা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছিলেন, তিনি সেগুলোকেই নিজের বলে প্রচার করেছেন—মূলত নতুন প্রশাসনে নিজের অবস্থান বা পদ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তিনি এমনটা করেছেন।”