কেয়ার হোমগুলো কাউন্সিলের কাছ থেকে প্রতি শিশুর জন্য সপ্তাহে ২৮ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ফি নিচ্ছে
ডেস্ক রিপোর্টঃ ‘দ্য টাইমস’-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেয়ার হোমের পরিচালকদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যিনি খণ্ডকালীন বাউন্সার (নিরাপত্তাকর্মী) হিসেবে কাজ করেন কিংবা যিনি অত্যন্ত দামি ঘড়ি পরা একজন বড় মাপের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক; অথচ তাঁরা একজন শিশুর দেখভালের জন্য করদাতাদের অর্থ থেকে সপ্তাহে হাজার হাজার পাউন্ড ফি নিচ্ছেন।
একটি ঘটনায় দেখা গেছে, শিশুদের সেবা প্রদানকারী একটি প্রতিষ্ঠান এসেক্স কাউন্টি কাউন্সিলের কাছ থেকে একজন কমবয়সী বা শিশুর দেখভালের জন্য সপ্তাহে ২৮,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত ফি নিচ্ছে, যা বছরে প্রায় ১৪ লাখ পাউন্ডের সমান।
কাউন্সিল আরও কয়েকটি শিশু নিবাসকে (চিলড্রেনস হোম) সাতজন পৃথক শিশুর দেখভালের জন্য অর্থ প্রদান করছে, যার প্রতিটির পেছনে বছরে প্রায় ১০ লাখ পাউন্ড খরচ হচ্ছে।
এর মধ্যে রয়েছে এসেক্সের ‘ল্যাভেন্ডার গ্রোভ কেয়ারস’ (Lavender Grove Cares) প্রতিষ্ঠানটি; তারা সম্প্রতি দুটি ভিন্ন শিশুর দেখভালের জন্য কাউন্সিলকে প্রতি শিশুর বিপরীতে সপ্তাহে ১৮,০০০ পাউন্ডের বেশি এবং ২০২৪ সালে একটি শিশুর জন্য সপ্তাহে ১৭,০০০ পাউন্ডের বেশি ফি ধার্য করেছে।
দ্বিতীয় একটি প্রতিষ্ঠান, ‘অ্যাকোয়া চিলড্রেনস হোমস লিমিটেড’ (Aqua Children’s Homes Limited), এক বছরেরও বেশি সময় ধরে একজন শিশুর জন্য কাউন্সিলকে সপ্তাহে প্রায় ১৯,০০০ পাউন্ড ফি নিয়েছে। এসেক্স কাউন্টি কাউন্সিল ‘অ্যাটলাস চিলড্রেনস হোমস’-কে (Atlas Children’s Homes) একজন শিশুর দেখভালের জন্য সপ্তাহে প্রায় ১৮,০০০ পাউন্ড প্রদান করেছে, যেখানে ‘ক্রিয়েটিং লাইফস্টাইলস হোমস’ (Creating Lifestyles Homes) নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান অন্য এক শিশুর জন্য প্রায় ১৭,৫০০ পাউন্ড ফি নিয়েছে।
গত বছর ‘তথ্য জানার অধিকার’ আইনের আওতায় প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায় যে, ওয়েস্ট সাসেক্স কাউন্টি কাউন্সিল একটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে একজন শিশুর জন্য সপ্তাহে ২৬,০০০ পাউন্ডের বেশি অর্থ প্রদান করেছিল এবং স্টোক-অন-ট্রেন্ট সিটি কাউন্সিলের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ব্যবস্থায় একজন শিশুর জন্য সপ্তাহে ২৩,০০০ পাউন্ডের বেশি খরচ হয়েছিল।
কিছু শিশু নিবাসের নেওয়া এই বিপুল পরিমাণ ফি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে; বিশেষ করে কারণ অনেক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানই অনিবন্ধিত, অথবা নিবন্ধিত হলেও কর্তৃপক্ষের বিচারে তারা মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
গত বছর শিশু নিবাসগুলোর তদারককারী সংস্থা ‘অফস্টেড’ (Ofsted)-এর প্রধান স্যার মার্টিন অলিভার তাঁর বার্ষিক প্রতিবেদনে অনিবন্ধিত কেয়ার হোমগুলোর এক “ছায়া বাজার” (shadow market) গড়ে ওঠার কথা উল্লেখ করেন, যারা শিশুদের দেখভালের জন্য আকাশচুম্বী ফি আদায় করছে।
তদারককারী সংস্থাটি ব্যাখ্যা করে যে, নিবন্ধিত সেবা প্রদানকারীরা চাহিদা মেটাতে অক্ষম হওয়ায় কাউন্সিলগুলো ক্রমবর্ধমান হারে শিশুদের অনিবন্ধিত হোমে পাঠাচ্ছে। অফস্টেড-এর কাছে নিবন্ধিত নয় এমন শিশু নিবাস পরিচালনা করা বেআইনি। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে যে তারা শিশুদের সেবা প্রদানকারী ৯০০টি অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্ত করছে এবং দেখেছে যে অনেকগুলো কেন্দ্রই মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। অলিভার শিশুদের আবাসন ও সেবা খাতের—যা প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে—ব্যাপক মুনাফাখোরির বিষয়েও সতর্ক করেছেন।
গত জুন মাসে আবাসন, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রী স্টিভ রিড সোশ্যাল কেয়ার বা সামাজিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি একটি কঠোর বার্তা (আল্টিমেটাম) দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তাদের হয় “করদাতাদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া বন্ধ করতে হবে”, নতুবা “প্রকাশ্যে তাদের নাম প্রকাশ করে হেয় করা হবে”। তিনি আরও বলেন: “সেবা-যত্নের আওতাধীন অসহায় শিশুদের পুঁজি করে যারা মুনাফা লুটছে, সেই ‘শকুনের’ মতো আচরণকারীদের আমরা বরদাস্ত করব না; আর ঠিক এ কারণেই আমরা তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করছি।”
শিশু ও পরিবার বিষয়ক মন্ত্রী জশ ম্যাকঅ্যালিস্টার বলেন: “‘চিলড্রেনস ওয়েলবিয়িং অ্যান্ড স্কুলস অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে আমরা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের প্রবণতা বন্ধ করব এবং অবৈধ ও অনিবন্ধিত শিশু-আবাসন কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
‘দ্য টাইমস’ পত্রিকা ‘তথ্য জানার অধিকার’ (Freedom of Information) সংক্রান্ত আবেদনের মাধ্যমে কিছু তথ্য ও পরিসংখ্যান সংগ্রহ করেছে। এতে দেখা গেছে, এসেক্স কাউন্টি কাউন্সিল কোনো কোনো ক্ষেত্রে একজন শিশুর সাপ্তাহিক সেবা-যত্নের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অত্যন্ত উচ্চহারে ফি প্রদান করছিল।