সোমবার , ৩ আগস্ট ২০২০
Menu
সর্বশেষ সংবাদ
Home » কোভিড-১৯ » খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ১/১১ পর শ্বাসরুদ্ধকর দিনগুলো

খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ১/১১ পর শ্বাসরুদ্ধকর দিনগুলো

জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুঃ গত ১৬ র্মাচ ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী নিরবে পালিত হলো বিএনপি’র সাবেক মহাসচিব কৃতি পুরুষ, জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ, ৫ বার নির্বাচিত সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য সুদীর্ঘ ৬০ ষাট বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের দুঃসাহসী ব্যক্তিত্ব, ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে সকল সামরিকজান্তা ও স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আপোষহীন নেতা এডভোকেট খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। ১৬ই মার্চ ২০১১ইং বুধবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২.৪০ মিনিটে ৭৮ বছর বয়সে সিংগাপুরস্থ মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। দলমতের উর্ধ্বে উঠে শোক প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, বিরোধীদলের নেতা, বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয়পার্টি, জামায়েত ইসলামী বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্য জোট, জাগপা ও ডান-বামসহ সকল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবি এবং সাংবাদিক মহল। তারা বলেছেন- তাঁর মত ট্র্যডিশনাল পলিটিক্যাল লিডার হারিয়ে কেবল বিএনপি নয় দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের জনগণ সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাজনীতির নিবেদিতপ্রাণ এক সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, দেশপ্রেমিক, আপোষহীন রাজনীতিবিদকে হারিয়েছে, যা অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকীতে দেশের জনগণের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও তার রুহের প্রতি দোয়া কামনা করছি। খোন্দকার দেলোয়ার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল­াহ হলের আবাসিক ছাত্র থাকাবস্থায় ১৯৫২ সালে ২১শে ফের্রুয়ারী ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে ২১শে পদকে ভূষিত হন।

১৯৫৭ সালে মরহুম আব্দুল হামিদ খাঁন ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)তে যোগদান করেন। অতঃপর স্বাধিকারের জন্যে সকল আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বিএনপিতে যোগদান করে আমৃত্যু বিএনপি’র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখেন। আর্মি সমর্থিত ফখরুদ্দিন সরকারের  আমলে দেশ ও দলের দুঃসময়ে বিএনপিকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়া হিসাবে ২০০৭ সালের ২রা সেপ্টেম্বর রাতে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদক কর্তৃক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। যে সময়ে চেয়ারপারসনকে গ্রেফতার করার প্রক্রিয়া চলছিল ঠিক তার পূর্ব মুহুর্তে বেগম খালেদা জিয়া দলের মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়াকে বাদ দিয়ে ৭৪ বছর বয়সী বর্ষিয়ান এড. খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে মহাসচিবের দায়িত্ব প্রদান করেন। তখনও খোন্দকার দেলোয়ার শারীরিক ভাবে ডায়বেটিস, কিডনী সমস্যা ও হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। ৩রা সেপ্টেম্বর ২০০৭ দায়িত্ব নেওয়ার সময় কারারুদ্ধ ছিলেন খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, আরাফাত রহমান কোকোসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। ঐ সময় মান্নান ভূঁইয়াসহ দলের সুবিধাভোগী নেতারা সেনা সমর্থিত সরকারের সাথে আঁতাত করে দেশনেত্রীকে বাদ দেওয়াসহ সংস্কারের নামে সংগঠনের স্বার্থবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলকে সংগঠিত রাখতে সরকারী সব চাপ উপেক্ষা করে দল ও ম্যাডামের প্রতি অনুগত থেকে দলের দ্বিতীয় সারির ও তৃণমূল নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে খোন্দকার দেলোয়ার এগিয়ে যান। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা যখন একে একে সামরিক গোয়েন্দাদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে ২৮ অক্টোবর সাইফুর রহমানের বাসায় বৈঠকে যোগ দিয়ে সংস্কারের নামে সংগঠন বিরোধী তৎপরতায় জড়িয়ে পড়েন, তখন একমাত্র ব্যতিক্রম হিসাবে খোন্দকার দেলোয়ার নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে যোগদান থেকে বিরত থাকেন এবং কাশিমবাজারের ষড়যন্ত্রে ঐ সময় না যাওয়ার জন্য অন্যদেরকে অনুরোধ করেন। তিনি গণতন্ত্র, দলের প্রতি ও শহীদ জিয়াউর রহমানের পরিবারের প্রতি অবিচল থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের ও দেশবাসীর হৃদয়ের মনিকোঠায় স্থান করে নেন। ৩রা সেপ্টেম্বর ২০০৭ মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সাথে সহকারী হিসাবে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। ঐ সময়ে তাঁর কিছু দুঃসাহসী ভূমিকা উলে­খ করতে চাই।

২৮শে অক্টোবর ২০০৭ শারিরিকভাবে মহাসচিব খুবই অসুস্থ ছিলেন। রাতে গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তরা  সরাসরি এবং ফোনে বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে হুমকি দেয় তাদের নির্দেশ মেনে চলার জন্য। তাদের কথা মত ২৯ অক্টোবর ২০০৭ রাত ৮টায় সাইফুর রহমানের বাসায় গিয়ে তাদের ইচ্ছানুযায়ী কাজ করার জন্যে চাপ দেয়া হয়। তাদের মতে কাজ করলে শত শত কোটি টাকার সহযোগিতা পাবেন, আর মতের বাইরে কাজ করলে তাকে এবং তার পরিবারকে শেষ করে দেওয়া হবে। রাতে সরাসরি এবং ফোনে  তাঁকে গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা ভয় দেখিয়ে বলে “ইউ উইল বি কিলড, ইউর ফ্যামিলি উইল বি ডেস্ট্রয়েড”। তারা গালাগালিও করে। ২৯-১০-২০০৭ ইং সকালে ৯টা মহসচিবের বাসায় যাই। তাকে নিয়ে কিছু ঔষধপত্র সহ বারডেম হাসপাতালে আসি। ডাক্তার তাঁকে   চেকআপ করার পর জরুরী ভিত্তিতে তিনি ১০টায় ভর্তি হন ১৫৩০ নং কেবিনে।  ওই সময় তাঁর শ্বাসকষ্ট তখন বেড়ে গেছে, আমি ব্যতিত তাঁর সাথে আর কেউ নেই। কেবিনের বাইরে এসে দেখি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা অবস্থান করছে। কিছু সময় ভর্তির ফর্মালিটিজ শেষ করে আমার কাছে জানতে চাইলেন কোথায় আত্মগোপন করা যায়। আমি খিলগাঁও তালতলায় আমার শ্বশুর বাড়ীর কথা বলার সাথে সাথে তিনি রাজি হয়ে যান। আমার গাড়ী রেখে স্কুটার নিয়ে আমার শ্বশুর বাড়ীতে  তিনিসহ আত্মগোপন করি। ঐ  সময় একদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং তারেক রহমান, কোকোসহ বড় বড় রাজনৈতিক নেতারা কারাগারে। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঐ শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় বিএনপি মহাসচিবের দৃঢ় মনোবল ছিল সত্যিই বিস্ময়কর। পরে দিন বেলা ১১টায় পুনরায় বারডেম হাসপাতালে আমাকে সাথে নিয়ে ফিরে আসার পর একে একে রিজভী আহম্মদ, এড.শিমূল বিশ্বাস,  মহিউদ্দিন খান মোহন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শিরিন সুলতানা, এ বি এম মোশারফ হোসেন,মীর সরাফত আলী সফু, রেহানা আক্তার রানু, মেজর আক্তারুজ্জামান,রফিক শিকদার, শামসুজ্জামান মেহেদী, ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত হন। আমিসহ মহাসচিবের দুই কণ্যা ডাঃ লুনা ও ডাঃ পান্না কেবিনে তার পাশে অবস্থান নেই। দুপুরে মহাসচিব প্রেসব্রিফিং করেন। এর পূর্বে রাতে অসুস্থ মহাসচিবকে দেখতে আসলেন ব্রি. জেনারেল (অবঃ) হান্নান শাহ । মহাসচিবকে না পেয়ে চলে যান। ২৯ অক্টোবর দুপুর থেকে ৩০ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত আত্মগোপন করেছিলেন বিএনপি মহাসচিব। কেবিনে শোয়া থাকা অবস্থায় মুখে অক্সিজেন নিয়ে সাংবাদিকেদের বলেন, “সাইফুর রহমানের বাসার বৈঠক অবৈধ। বিএনপির নেতা কর্মীরা ষড়যন্ত্র মেনে নিবেনা। তারা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল।” ঐ দিন রাতে তার ছোট ছেলে আকতার হামিদ পবনকে গ্রেপ্তার করে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। তাঁর বড় মেয়ে ডাঃ লুনা ও ছোট মেয়ে ডাঃ পন্না হাসপাতালে বাবার কাছে থাকার কারণে কর্তৃপক্ষ তাদেরকে শোকজ করে। সেদিন সরকারের উদ্দেশ্য ছিলো খোন্দকার দেলোয়ারের উপর মানসিক নির্যাতন করা। বিএনপি ও জিয়া পরিবারের ব্যাপারে মহাসচিবের বলিষ্ঠ ভূমিকা ঐ সময় দেশে-বিদেশে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ভূয়োসী প্রশংসা পায়।

সরকার ২০০৭ সেপ্টেম্বর ১০ তারিখ হতে ঘরোয়া রাজনীতি শুরুর নির্দেশ দেয়। দেড়টায় মহাসচিব বিএনপি অফিসের সামনে আসেন। হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে মহাসচিব বলেন, জরুরী অবস্থা শিথিল করা হয়েছে, কিন্তু তার কার্যকারিতা দেখা যাচেছ না। সরকার তার ঘোষনা রক্ষা করেনি। তিনি বলেন, আমি আমার অফিসে বসে কাজ করবো। কিন্তু কেন কোন কারণে আমাকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না এটা সরকারের কাছে জানতে চাই। মৃত্যুর দুই মাস আগে বিএনপি’র  দলীয় কার্যালয়ে এক প্রেস বিফিংয়ে সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন- “যদি প্রশাসন আপনাদের কথা না শোনে, না মানে, আপনাদের কথামত প্রশাসন যদি বিরোধী দলের কথায় পরিচালিত হয়, যদি আপনারা দ্রব্য মূল্যের দাম কমাতে না পারেন, আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি রোধ করতে না পারেন, যদি শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগের নৈরাজ্য সন্ত্রাশ দমন করতে না পারেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের সন্ত্রাস ও টেন্ডারবাজী দমন করতে না পারেন, যদি দেশ পরিচালনায় সকল ক্ষেত্রে  আপনাদের সীমাহীন অযোগ্যতা, ব্যর্থতা, দুর্নীতির জন্য বিরোধী দলকে দায়ী করেন, তাহলে আপনারা বসে আছেন কেন? আমাদের কাছে ক্ষমতা ছাইরা দেন। দেখেন, আমরা কিভাবে দেশ পরিচালনা করি। দেশ পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। আজ দেশের জনগণ উপলব্ধি করছে দেশ পরিচালনায় কে বেশি দক্ষ – খালেদা জিয়া না শেখ হাসিনা”? আজ যতই সময় পার হচ্ছে ততই দেশবাসী উপলব্ধি করছে, তার সেই দিনের এই মন্তব্য কত সঠিক। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রায়ই বলতেন- আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তারা কখনও গণতন্ত্র চর্চা করে না। আওয়ামী লীগের জন্মলগ্ন থেকে তারা সন্ত্রাসী কায়দায় দল ও দেশ পরিচালনা করে। জিয়া পরিবারের প্রতি তার কি দরদ, একটি উদাহরণ দিলে তা বুঝা যাবে। ১৯৯০  সালে ২০শে নভেম্বর ক্যান্টনমেন্টস্থ শহীদ জিয়াউর রহমানের বাসভবনে জনৈক লে. কর্ণেল রশিদ কর্তৃক তারেক রহমান শারীরিক ভাবে আক্রান্ত হন।  ঘটনার প্রতিবাদে ঐ দিন বিকালে গুলিস্তানে ৭ দলের প্রতিবাদ সভা হয়। তার নেতৃত্বদেন খোন্দকার দেলোয়ার। আবার ১/১১এর পর দুঃসময়ে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও কোকো গ্রেফতার হওয়ার পর প্রতিবাদের মূল দায়িত্ব নেন খোন্দকার দেলোয়ার। যাকে ফখরুদ্দিন ও মইন উদ্দিন সরকার কর্তৃক শত শত কোটি টাকা ও প্রেসিডেন্ট হওয়ার লোভ আকৃষ্ট করে নাই। তার কাছে বিএনপি ও আমরা সবাই ঋণী। আমরা তাঁকে স্মরণের মধ্য দিয়ে এবং তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে কিছুটা হলেও ঋণ পরিশোধ করার প্রয়াস পাবো।

৪ মার্চ মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়ার আগ মুহুর্তে সন্ধ্যার পর ডাঃ ও দলীয় নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত খোন্দকার দেলোয়ার গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অক্সিজেন মাক্স খুলে স্পষ্টভাবে দেশবাসীর কাছ থেকে বিদায় নিলেন ও কৃতজ্ঞতা জানালেন; বললেন- ‘‘আমি কারও বিরুদ্ধে কখনও মনে কিছু পোষণ করি না, অতীতে করিনি, এখনও না। দেশবাসী, আমার দলের নেত্রী খালেদা জিয়া, দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি তারেক রহমান, দলীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তারা সবসময়ই আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমার খোঁজ-খবর নিয়েছেন, এইজন্য আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। দেশের সকল স্তরের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞা জানাচ্ছি। যা কিছু করেছি, আল­াহর হুকুমে করেছি, সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন’’। অসুস্থ শরীরে এই আনুষ্ঠানিক বিদায় সবার মনে দাগ কাটে। এরপরে দেশের মানুষ ১৭ই মার্চ তাঁর আর কোন কথা শুনতে পেল না। আমরা পেলাম তাঁর নিথর দেহ।

জীবন্ত খোন্দকার দেলোয়ারের চাইতে মৃত খোন্দকার দেলোয়ার ছিলেন অনেক জনপ্রিয়। বাংলাদেশে ১৭ই মার্চ ২০১১ তাঁর মরদেহ আসার পর প্রথমে বিকালে বিএনপি অফিসে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। বাদ-এশা আরমানিটোলা মাঠে হাজার হাজার লোকের উপস্থিতিতে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পর দিন ১৮ই মার্চ শুক্রবার ১০ টা হাইকোর্টে, ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিন প্লাজা, বাদ জুম্মা বায়তুল মোকাররম, বাদ আসর বিএনপি অফিসসহ ৫টি জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯ মার্চ সকালে শহীদ মিনার অতঃপর মানিকগঞ্জ দেবন্দ্র কলেজ, ডি.এন বিদ্যালয় মাঠ ও পাঁচুরিয়া হাই স্কুল মাঠে তিনটি জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়েতে ইসলামী, জাতীয় পার্টিসহ সকল স্তরের হাজার হাজার জনতা জানাযায় অংশ গ্রহণ করেন।
পরিশেষে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ভাষা সৈনিক বিএনপি’র সাবেক সফল এই মহাসচিবের মরদেহ ঘিওর পাঁচুরিয়া মস্জিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। বিএনপি ৫ দিনের শোক  পালন করেন।

ফুটনোট-
 এরহুম এড. খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের দেশপ্রেম, দলের প্রতি আনুগত্য, লোভ লালসার উর্ধ্বে থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত দলের জন্য কাজ করেছেন।
 সাদাসিদে চলাফেরা, তাকে তৃণমূলে নেতা কর্মীদের কাছে জনপ্রিয় করেছে।
 দেশের সর্ববিহত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়তে অর্থনীতি ও আইন বিষয়ে পড়াশুনা করেন।
 ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ ও সকল সামরিক ও স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেন এই সৌভাগ্যবান নেতা। তিনি  সু-দীর্ঘ ৫০ বছর  আইনপেশায় কাজ করেন ।
 মৃত্যুর পর তার ঢাকায়  ৫টি মানিকগঞ্জ ৩টি, মোট ৮ টি জানাজায় সকল দলের ও মতের হাজার হাজার জনতার উপস্থিতিতে তাঁর কর্মের মূল্যায়ন হয়।
 তিনি ছিলেন জাতীয়তাবাদী শক্তির আপোষহীন নেতা। মইন আহম্মদ সমর্থিত সরকার তাকে প্রেসিডেন্ট ও শত কোটি টাকার লোভ,  তার এবং তার পরিবারের প্রতি ভয়-ভীতি মামলা হামলা তাকে আদর্শচ্যুত করতে পারে নাই।
 তিনি ছিলেন রাজনীতির পোড়খাওয়া আপাদমস্তক তৃণমূল হতে উঠে আসা পড়াশুনা জানা জাতীয়তাবাদী শক্তির এক আপোষহীন নেতা।
 বর্তমান জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে তাঁর অভাব অনুভব হচ্ছে প্রতিটি পদক্ষেপে।

লেখক- খোন্দকার দেলোয়ারের একান্ত সহকারী ও  রাজনৈতি কলামিস্ট

আরও দেখুন

ইট আউট টু হেল্প আউট স্কিমটি আজ থেকে ৭২,০০০ এরও বেশি রেস্তোঁরায় চালু

বাংলা সংলাপ রিপোর্টঃআজ সেই দিনটি যা ইউকেতে ক্যাফে এবং রেস্তোঁরাগুলিতে লোকদের খাওয়ার জন্য সরকার-সমর্থিত স্কিম। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *