গ্রিন পার্টির উত্থান সত্ত্বেও লন্ডনের মেয়র হিসেবে চতুর্থ মেয়াদে জয়ের পথে সাদিক খান
ডেস্ক রিপোর্টঃ একটি নতুন জনমত জরিপ অনুযায়ী, গ্রিন পার্টির প্রতি সমর্থন বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও লন্ডনের মেয়র হিসেবে স্যার সাদিক খান চতুর্থ মেয়াদে জয়ী হতে পারেন।
কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের (QMUL) মাইল এন্ড ইনস্টিটিউটের জন্য সাভান্তা (Savanta)-র করা এই জরিপে দেখা গেছে, মেয়র পদের লড়াইয়ে লেবার পার্টি অন্য সব দলের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে আছে।
জরিপ অনুযায়ী, স্যার সাদিকের দলের সমর্থন ৩৩ শতাংশ; কনজারভেটিভ ও রিফর্ম ইউকে-র সমর্থন ১৮ শতাংশ করে; গ্রিন পার্টির ১৭ শতাংশ; লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের ৯ শতাংশ এবং অন্যান্য প্রার্থীর সমর্থন ৬ শতাংশ।
QMUL-এর ব্রিটিশ রাজনীতি বিষয়ক পোস্ট-ডক্টরাল গবেষক ড. ইওগান কেলি বলেন, “দ্বিতীয় পছন্দের ভোট (সেকেন্ড প্রেফারেন্স) গণনার পর এটি লেবার পার্টির জয়ের দিকেই ইঙ্গিত করে।”
লেবার প্রার্থী ইনার লন্ডনে ৪০ শতাংশ ভোট পাবেন—যা অন্য যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রাপ্ত ভোটের দ্বিগুণেরও বেশি—এবং আউটার লন্ডনে পাবেন ২৯ শতাংশ ভোট। আউটার লন্ডনেও তিনি নাইজেল ফারাজের ‘রিফর্ম’ এবং টোরি (কনজারভেটিভ) পার্টির চেয়ে এগিয়ে থাকবেন; ওই দুই দলের সমর্থন সেখানে ১৯ শতাংশ করে।
ড. কেলি আরও বলেন, “অনেক কিছুই নির্ভর করবে মেয়র পদের প্রার্থীরা কারা হচ্ছেন তার ওপর।
“প্রধান দলগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত কেবল ‘রিফর্ম’ দলই তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।
“তবে এটা স্পষ্ট যে লায়লা কানিংহামের প্রচারণায় তেমন কোনো সাড়া মেলেনি; কারণ আমাদের আগের জরিপের তুলনায় ‘রিফর্ম’-এর প্রতি সমর্থন ১ শতাংশ কমেছে।”
গত ফেব্রুয়ারিতে স্যার সাদিক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ২০২৮ সালের নির্বাচনে তিনি সিটি হলে চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এটিই ছিল এ বিষয়ে তাঁর সবচেয়ে জোরালো ইঙ্গিত।
হাউস অফ কমন্সে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে মেয়র পদের লড়াই সম্পর্কে তিনি বলেন, “নির্বাচন শুরু হলে এবং প্রার্থীরা কারা তা জানা গেলে, কাউন্ট বিনফেস এবং রিফর্ম—উভয়ের মোকাবিলা করার জন্য আমার একটি কৌশল থাকবে।”
সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন যে, পুনর্নির্বাচনে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি আগামী বছর সিদ্ধান্ত নেবেন।
গত মাসে লন্ডনের পরিস্থিতি বিষয়ক বার্ষিক বিতর্কে (State of London debate) তিনি বলেন, “সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাথে সাথেই আমি আপনাদের জানাব—সাধারণত প্রতিটি নির্বাচনী চক্রের যে সময়ে আমি সিদ্ধান্ত নিই, অর্থাৎ সম্ভবত তৃতীয় বছরেই।”
তিনি যদি নির্বাচনে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, তবে লেবার পার্টির প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে থাকতে পারেন ব্রেন্ট ইস্ট-এর এমপি ডন বাটলার, বিচারমন্ত্রী ও টটেনহ্যামের এমপি ডেভিড ল্যামি এবং টুটিং-এর এমপি রোসিনা অ্যালিন-খান।
মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য টোরি প্রার্থী হিসেবে লন্ডনের সাবেক অ্যাসেম্বলি সদস্য স্যার জেমস ক্লেভারলিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সাবেক স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং পাশাপাশি নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনা ও সেনাবাহিনীতে কাজ করার অভিজ্ঞতার কারণে, টরি নেতা কেমি ব্যাডেনচ যে ধরনের প্রার্থী খুঁজছেন, তার সবকটি যোগ্যতাই যেন তাঁর মধ্যে রয়েছে।
একটি জনমত জরিপ অনুযায়ী, আগামী সাধারণ নির্বাচনে লন্ডনে জ্যাক পোলানস্কির গ্রিন পার্টি ১৩টি আসন জিততে পারে; যেখানে লেবার পার্টির আসন সংখ্যা ৫৯ থেকে কমে ২৮-এ নেমে আসতে পারে এবং নাইজেল ফারাজের রিফর্ম পার্টি ১১টি আসন পেতে পারে।
জরিপে দেখা গেছে, যদি আগামীকাল লন্ডন অ্যাসেম্বলি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো, তবে ৩১ শতাংশ ভোট পেয়ে লেবার পার্টি প্রথম স্থান অধিকার করত।
রাজধানীতে মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে সাফল্যের পর গ্রিন পার্টি ২০ শতাংশ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসত; এরপর কনজারভেটিভরা ১৮ শতাংশ, রিফর্ম পার্টি ১৬ শতাংশ, লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা ১০ শতাংশ এবং অন্যান্যরা ৪ শতাংশ ভোট পেত।
ড. কেলি তাঁর ‘DevolvedElections.co.uk’ প্রজেকশন মডেল ব্যবহার করে যে বিশ্লেষণ করেছেন, তাতে দেখা যায়—এর ফলে লেবার পার্টি ১১টি আসন ধরে রাখত, গ্রিন পার্টি সর্বোচ্চ পাঁচটি, কনজারভেটিভরা চারটি, রিফর্ম পার্টি তিনটি এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা দুটি আসন পেত।
তিনি বলেন, “গ্রিন পার্টির দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসাটা পোলানস্কির দলের জন্য এক বিশাল অর্জন হবে।”
“তাদের সব আসনই সম্ভবত ‘লিস্ট’ বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের তালিকা থেকে আসবে।”
ড. কেলি আরও বলেন: “বেক্সলি অ্যান্ড ব্রোমলি এবং হ্যাভারিং অ্যান্ড রেডব্রিজ এলাকায় রিফর্ম পার্টি ভালো অবস্থানে রয়েছে।”
“তারা যদি এর কোনো একটিতেও জয়ী হতে পারে, তবে লেবার, কনজারভেটিভ ও লিবারেল ডেমোক্র্যাট ছাড়া অন্য কোনো দলের কোনো নির্বাচনী এলাকার (কনস্টিটিউয়েন্সি) আসনে জয়লাভের ঘটনাটি প্রথমবারের মতো ঘটবে।”
অ্যাসেম্বলিতে নির্বাচনী এলাকা থেকে ১৪ জন সদস্য এবং লন্ডন-ব্যাপী তালিকা (লিস্ট) থেকে ১১ জন সদস্য নির্বাচিত হন।
* সাভান্তা (Savanta) ৩০শে জুন থেকে ৮ই জুলাইয়ের মধ্যে অনলাইনে লন্ডনের ১,০৩৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তথ্যগুলো ‘ওয়েটেড’ বা গুরুত্ব অনুযায়ী বিন্যস্ত করা হয়েছে।