শীর্ষ সংবাদব্রিটেনের সংবাদ

‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর নেতাকে বহিষ্কারের জন্য জরুরি আইন বিবেচনা করছে লেবার পার্টি

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্টঃ রচডেলের একটি ‘গ্রুমিং গ্যাং’ বা শিশুদের যৌন শোষণে লিপ্ত চক্রের পাকিস্তান-বংশোদ্ভূত মূল হোতাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের লক্ষ্যে লেবার পার্টি জরুরি আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

হাউস অফ কমন্সে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যালেক্স নরিস বলেন, শাবির আহমেদকে বহিষ্কারের পথ সুগম করতে সরকার দ্রুত কোনো আইন প্রণয়ন করতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে “সব বিকল্পই বিবেচনাধীন” রয়েছে।

শিশুদের ধর্ষণের ৩০টি অপরাধের দায়ে ২২ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৭৩ বছর বয়সী আহমেদ ১৪ বছর সাজা ভোগ করার পর গত সপ্তাহে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব বাতিল হওয়া সত্ত্বেও তাকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না।

বহিষ্কারাদেশ এড়াতে তিনি সক্ষম হয়েছেন কারণ ১৯৭১ সালের অভিবাসন আইনে (Immigration Act 1971) কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে; আহমেদ সেই আওতাভুক্ত (তিনি ১৯৭৩ সালের আগে ব্রিটেনে এসেছিলেন এবং অন্তত পাঁচ বছর এখানে বসবাস করেছেন)।

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে মিস্টার নরিস বলেন, “শাবির আহমেদের মতো জঘন্য অপরাধের জন্য দায়ী কোনো ব্যক্তিকে এখন পর্যন্ত বহিষ্কার করা সম্ভব হয়নি—বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য।”

“আমি সদনকে আশ্বস্ত করছি যে আমরা হাল ছেড়ে দিইনি এবং ভবিষ্যতেও দেব না। যদিও সংশ্লিষ্ট আইনের মূল উদ্দেশ্য বিবেচনায় নিয়ে আমাদের সতর্কতার সাথে অগ্রসর হতে হবে, তবুও এই মামলার অপরাধের ধরন এমন যে আমাদের সব বিকল্প খতিয়ে দেখতে হবে—এবং আমরা সেটাই করছি।”

মিস্টার নরিস জানান, তিনি কনজারভেটিভ পার্টির (টোরি) প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করবেন। দলটির প্রস্তাবে ১৯৭১ সালের অভিবাসন আইনের দুটি ধারা বাতিলের কথা বলা হয়েছে, যেসব ধারার কারণে কমনওয়েলথভুক্ত দেশের নাগরিকরা বহিষ্কারাদেশ থেকে সুরক্ষা পান।

দলটি ‘ইউকে বর্ডারস অ্যাক্ট ২০০৭’ (UK Borders Act 2007) সংশোধনেরও প্রস্তাব দিয়েছে। এই সংশোধনী কার্যকর হলে আহমেদকে অন্যান্য বিদেশি অপরাধীর মতোই বিবেচনা করা সম্ভব হবে; কারণ বিদেশি অপরাধীদের ক্ষেত্রে নিয়ম হলো—এক বছর বা তার বেশি মেয়াদে কারাদণ্ড বা স্থগিত কারাদণ্ড (suspended sentence) হলে তাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহিষ্কার করা হয়।

টোরি এমপি রবি মুর বলেন: “শাবির আহমেদকে বহিষ্কার নিশ্চিত করতে জরুরি আইন আনার ক্ষমতা মন্ত্রীর রয়েছে। আমার বিশ্বাস, এই পদক্ষেপটি সদনের সব পক্ষের সমর্থন পাবে।”

“মন্ত্রী কবে এই আইনটি উত্থাপন করবেন? যাতে আমরা সদনে এ বিষয়ে ভোট দিতে পারি এবং রচডেলজুড়ে জঘন্য অপরাধ সংঘটনকারী এই ব্যক্তিকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারি?”

জবাবে মিস্টার নরিস বলেন: “বহিষ্কারের বিষয়টি অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এর মধ্যে রয়েছে আমাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ আইনের বাধা, সম্ভবত অন্যান্য আইনের বাধা এবং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সাথে আমাদের সম্পাদিত ‘ফেরত পাঠানোর চুক্তি’ (returns agreements) সংক্রান্ত বিষয়াদি।” “এই বিষয়ে আমরা কী মনোভাব নিয়ে কাজ করছি, তা তিনি আমার কাছ থেকে শুনেছেন। আমি কেবল এটুকু স্পষ্টভাবে বলতে পারি যে, সব বিকল্পই এখন বিবেচনাধীন রয়েছে।”

আইন পরিবর্তনের জন্য মন্ত্রীদের ওপর লেবার পার্টির এমপিদের—যেমন জিম ম্যাকমাহন, পল ওয়াহ এবং এলসি ব্লান্ডেল—পক্ষ থেকেও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁরা ওল্ডহ্যাম ও রচডেল এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন; আহমেদ এই এলাকাতেই বসবাস করতেন এবং অপরাধগুলো সংঘটিত করেছিলেন।

রচডেলের নয় সদস্যের একটি ‘গ্রুমিং গ্যাং’ বা কিশোরীদের প্রলোভন দেখিয়ে যৌন শোষণের চক্রের সাথে জড়িত থাকার দায়ে ২০১২ সালে আহমেদকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। এই চক্রটি দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ১২ বছর বয়সী কিশোরীদের ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছিল।

আইন পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো ঘোষণা এমনভাবে দেওয়া হতে পারে যাতে তা ১৩ জুলাই, সোমবার শাবানা মাহমুদ-এর অভিবাসন বিলের দ্বিতীয় পাঠের (সেকেন্ড রিডিং) সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

তবে আহমেদকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে এটিই একমাত্র বাধা নয়; পাকিস্তান তাকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এর কারণ হলো, তার পাকিস্তানি নাগরিকত্ব আছে কি নেই—তা নিয়ে একটি বিরোধ চলছে। শোনা যায় যে, আহমেদ তার পাসপোর্ট ছিঁড়ে ফেলেছিলেন এবং পাকিস্তানি নাগরিকত্ব বর্জন করেছিলেন।

ব্রিটেন আহমেদের এই দাবিকে অস্বীকার করে আসছে; কিন্তু পাকিস্তানের মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা তাদের নথিপত্রের ভিত্তিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। তাঁদের মতে, নথিপত্র অনুযায়ী আহমেদ আর পাকিস্তানের নাগরিক নন, আর এ কারণেই তাকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।


Spread the love

Leave a Reply