আন্তর্জাতিকশীর্ষ সংবাদ

জর্ডানে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত ও একজন নিখোঁজ

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্টঃ সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, চারজন মার্কিন সেনাকে চিকিৎসার জন্য জর্ডানের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, তবে তাঁদের পরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সামান্য আহত অন্যরা নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরে গেছেন।

এর আগে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছিল যে, তারা রাতের বেলা নিজেদের আকাশসীমায় ধেয়ে আসা ইরানের ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে এবং এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেননি; এছাড়া ঘটনার পরিস্থিতি বা জর্ডানের ঠিক কোথায় এই সর্বশেষ হামলাটি হয়েছে, সে সম্পর্কেও কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

চলতি মাসের শুরুর দিকে নিখোঁজ হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর এক পাইলটকে মৃত ঘোষণা করার পর এই সংঘাতে মার্কিন নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬-তে দাঁড়িয়েছে; এ নিয়ে চলতি সপ্তাহে নিহতের সংখ্যা দ্বিতীয়বারের মতো বাড়ল।

শনিবার এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানিয়েছে: “ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সময় জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া, একজন সেনা সদস্য বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন।

“নিহত সেনাদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, নিকটাত্মীয়দের অবহিত করার ২৪ ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত সেন্টকম তাঁদের পরিচয়সহ এ সংক্রান্ত অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করবে না।”

নিহত হওয়ার এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন: “বিদায়, বীরেরা।” “তাদের আত্মত্যাগ আমাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।”

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে যে, শনিবার ভোরে জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত দুটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে।

এই প্রতিবেদনের বিষয়ে বিবিসি ‘সেন্টকম’-এর (Centcom) সাথে যোগাযোগ করেছিল, কিন্তু তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

গত এক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপ করেছে এবং তেহরান জর্ডানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর হামলা চালিয়েছে ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি “সমাপ্ত” বলে ঘোষণা করার পর থেকে এই নিয়ে টানা সপ্তমবারের মতো ইরানে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত তিন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আরও হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছিল, কিন্তু স্বাক্ষরের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই চুক্তি ভেস্তে যায়।

শনিবার গভীর রাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, চুক্তির শর্ত বারবার লঙ্ঘন করার মধ্য দিয়ে আমেরিকা একটি মৌলিক সত্যকে উন্মোচিত করেছে: “মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য নেই এবং তা বিশ্বাসযোগ্যতাহীন।”

যুদ্ধের শুরুতে যে হামলায় তাঁর বাবা নিহত হয়েছিলেন, সেই ঘটনার পর থেকে খামেনিকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।


Spread the love

Leave a Reply