জানালায় জানালায় জীবনের আর্তি

Spread the love

416A3B6800000578-4601902-image-a-3_1497444163281বাংলা সাংলাপ ডেস্কঃ‘আমি যতোই ওপরের দিকে তাকাচ্ছিলাম,  ফ্লোর থেকে ফ্লোরের জানালাগুলোতে দেখছিলাম সারি সারি মানুষ। বেশিরভাগই শিশু। তাদের আর্তনাদ ভেসে আসছিলো বাতাসে। জীবনের জন্য আর্তনাদ। আমি বোধহয় জীবনভর এমন আর্তনাদ শুনে যাব।’ এক প্রত্যক্ষদর্শী এভাবেই বর্ণনা করেছিলেন লন্ডনের গ্রেনেফেল টাওয়ারের আগুনের ঘটনাকে।

বুধবার রাতে পশ্চিম লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারে আগুন লাগে। রাত ১টা ১৫ এর দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৪০টি ইউনিট ও ২০০ দমকলকর্মী। এখন পর্যন্ত ৬ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালসূত্রের সবশেষ আপডেটে আহতদের সংখ্যা ৭৪ বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে ২০ জন জীবনশঙ্কায় আছেন বলে জানিয়েছে তারা। এদিকে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত বহু মানুষকে উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে। তবে লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলছেন, এখনও নিখোঁজ অনেকে। শিগগির ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে একটি আপডেট দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে  ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।১৯৭৪ সালে নির্মিত ভবনটিতে ১২০টি বাসা ছিলো। ২০০ জনেরও  বেশি মানুষ এখানে বসবাস করতো। তবে আগুন লাগার পর ঠিক কতজন বের হতে পেরেছেন বা কতজন আটকা পড়েছেন সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। বিভিন্ন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ওই ভবনে ৪০০ থেকে ৬০০ মানুষের বসবাসের কথা জানালেও কর্তৃপক্ষ ভবনটির জটিল কাঠামোর কারণে সেখানে থাকা মানুষদের সংখ্যা সম্পর্কে এখনই মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ভবনের ভেতরে বহু মানুষের জিম্মি হয়ে থাকার খবর জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।  তারা জানিয়েছে, এখন কেবলমাত্র জানালাকে আশ্রয় করেই বাঁচার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আগুনে জিম্মি থাকা মানুষেরা।

গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ওই ভবনের আশপাশের লোকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বাড়ি ছেড়ে যেতে হয়েছে অস্থায়ী ভিত্তিতে তৈরি করা আবাসে। তারা জানিয়েছে, একটা সময় পর্যন্ত ভবনের ছাদ থেকেও মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছিল। এখন তারা কেবল নিজেদের জানালাকেই আশ্রয় করতে পারছেন জীবনের তাগিদে। আর্ত চিৎকার করতে থাকা বিপন্ন এইসব মানুষকেই উদ্ধারের প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, বাড়ির ভেতর তারা আলো দেখতে পাচ্ছেন। আর বাইরে সবকিছু ছাইয়ে ঢেকে যাচ্ছে। ব্রিটিশ সাংবাদিক জর্জ ক্লাক জানান, আশপাশের ১০০ মিটার এলাকাজুড়ে ছাইয়ের আবরণ পড়ছে। ভবনটির একাংশ পুরোই আগুনে পুড়ে গেছে। আগুন লাগার আগে টাওয়ারটিতে সংস্কার কাজ চলছিলো। ফলে বের হওয়ার অনেক রাস্তাই বন্ধ থাকতে পরে ধারণা করা হচ্ছে।

জারা নামে ওই টাওয়ারের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, ‘ভবনের ৫ম অথবা ৬ষ্ঠ তলা থেকে ছুঁড়ে দিয়েছিলেন নিজের সন্তানকে। আমার মনে হয়, সে বেঁচে গেছে’। তবে তার হাড়গোড় ভেঙে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ওই প্রত্যক্ষদর্শী।

কেবল ৫ তলা নয়, আগুনে জিম্মি গ্রেনফেল টাওয়ারের বিপন্ন এক মা, ভবনের ৯ তলা থেকে ছুঁড়ে দিয়েছেন নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে তাকে রক্ষার ক্ষীণ এক সম্ভাবনা নিয়ে। ওই শিশুকে ধরে ফেলেছেন লন্ডনের এক সাধারণ নাগরিক। নিজে ওই টাওয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে ঘটনাটি দেখেছেন সামিরা লামরানি নামে লন্ডনের এক বাসিন্দা।

এপির কাছে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন সেই নারী। তিনি জানিয়েছেন, আগুন লাগা ভবনের বাসিন্দারা জানালা দিয়ে লাফিয়ে নামার চেষ্টা চালাচ্ছে। এমনই এক আধখোলা জানালা দিয়ে এক মা তার শিশু সন্তানকে নিচে ছুঁড়ে দেয়। ‘হ্যাঁ, এক ভদ্রলোক সামনে খানিকটা এগিয়ে যান এবং শিশুটিকে ধরে ফেলতে সমর্থ হন।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেখেছি চারপাশ থেকে এগিয়ে আসছিলো মানুষ, ওই একটি শিশুকে রক্ষা করার স্বার্থে।’

‘যুক্তরাষ্ট্রের সেই কংগ্রেস মেম্বার সেই মানুষদের আশ্বস্ত করেছিলেন শিশুটির জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ব্যাপারে। বলছিলেন, যা করার সেটা আমরা করেছি। ৯৯৯ (জরুরি সার্ভিস)-এ ফোন করেছি।’ আমার মেয়ের বন্ধু জানালো, তিনি এক প্রবীণকে দেখেছেন যিনি বাড়িতে বানানো এক প্যারাসুটের মতো কিছু একটায় করে জানালা দিয়ে নেমে আসার চেষ্টা করছিলেন।’

এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবারের অগ্নিকাণ্ডের  ১৮ মাস আগেই বসবাসরতদের আগুনের ঝুঁকির ব্যাপারে সাবধান করে দেওয়া হয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১২ সালে ভবনটির অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ে একটি রিপোর্ট তৈরি করেছিলো গ্রেনফেল অ্যাকশন গ্রুপ। রিপোর্টে বলা হয়, বেসমেন্ট, লিফটের মোটর রুপ ও গ্রাউন্ড ফ্লোরের ইলেক্ট্রিকাল রুমের অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্র এক বছরেরও বেশি পুরাতন ছিলো। আর ২০০৯ সালের পর থেকে সেগুলো পরীক্ষাও করা হয়নি বলে দাবি করে গ্রুপটি। সেসময় তারা আরও জানায় যে টেনান্ট ম্যানেজমেন্ট অর্গানাইজেশন বাড়ি নির্মাণের সময় রাবিশ ব্যবহারের অনুমতি দেয়।

গ্রেনফেল অ্যাকশন গ্রুপ নিজেদেরকে ল্যাঙ্কাস্টার ওয়েস্ট কমিউনিটর সেবায় নিয়োজিত বলে দাবি করে। ২০১০ সালে গঠিত এই সংস্থাটি এর আগে ল্যাঙ্কাস্টার গ্রিনের নির্মাণের বিরোধীতাও করেছিলো। এবিসিরি প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেনফেল টাওয়ারের বাসিন্দাদের কাছে এটা পরিষ্কার ছিল যে দায়িত্বে অবহেলা ও ব্যক্তিগত শত্রুতা যেকোনও সময় বিপদ ডেকে আনতে পারে। আর জমির মালিকরাও টাওয়ারটিতে প্রবেশ ও বাহিরপথে নিরাপত্তা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

Police would not confirm how many people are unaccounted for because the building is still on fire 14 hours after it started (pictured this morning) - 12 are known to be dead but the death toll is likely to be significantly much higher

Police would not confirm how many people are unaccounted for because the building is still on fire 14 hours after it started (pictured this morning) – 12 are known to be dead but the death toll is likely to be significantly much higher

The blaze has been described as a once in a generation disaster and could prove to one of the worst disasters Britain has seen in recent years

The blaze has been described as a once in a generation disaster and could prove to one of the worst disasters Britain has seen in recent years

There are real fears that that nobody who lived on the top three residential floors may have survived the unprecedented fire 

There are real fears that that nobody who lived on the top three residential floors may have survived the unprecedented fire

A brave firefighter is pictured inside the burnt remains of the 27-storey building, as efforts are made to investigate what caused the blaze 

A body wrapped up in a blanket, obscured by MailOnline,  lies in the ground floor of the White City tower block largely destroyed by fire over night

A body wrapped up in a blanket, obscured by MailOnline, lies in the ground floor of the White City tower block largely destroyed by fire over night

Undertakers remove bodies from Grenfell Tower today but the recovery of the dead is likely to take several more days as the fire is still not out

Undertakers remove bodies from Grenfell Tower today but the recovery of the dead is likely to take several more days as the fire is still not out

A drone inspects the top floors of the wrecked tower block, where residents on the highest storeys are all feared dead after being trapped in their homes and then engulfed

A drone inspects the top floors of the wrecked tower block, where residents on the highest storeys are all feared dead after being trapped in their homes and then engulfed

Firefighters continue to battle large scale blaze in London tower block more than 14 hours after it broke out on the fourth floor

Firefighters continue to battle large scale blaze in London tower block more than 14 hours after it broke out on the fourth floor

Emergency services are still running through falling debris including glass and its controversial cladding continues to rain down

Emergency services are still running through falling debris including glass and its controversial cladding continues to rain down

An emotional woman wearing a breathing mask holds her head in despair as she rests on the pavement near the scene of the blaze in west London

An emotional woman wearing a breathing mask holds her head in despair as she rests on the pavement near the scene of the blaze in west London

A woman puts a face mask to her mouth as smoke and the smell of burning hangs in the air around Grenfell tower

A woman puts a face mask to her mouth as smoke and the smell of burning hangs in the air around Grenfell tower

Residents wearing masks to help filter out fumes in the air call loved ones and drink water as they wait near the scene 

Grenfell Tower is in one of London's most diverse communities and this group sit on the pavement outside a temporary aid centre nearby, some of whom were in tears

Many residents who gathered outside the smoldering ruins of the building said the fire had been caused by a faulty fridge in one of the flats, but the fire service told MailOnline it could not confirm the reports at this stage

Many residents who gathered outside the smoldering ruins of the building said the fire had been caused by a faulty fridge in one of the flats, but the fire service told MailOnline it could not confirm the reports at this stage

The trapped, some of whom are still inside, were heard begging for their lives while waving white towels, torches and mobile phones


Spread the love

Leave a Reply