টাওয়ার হ্যামলেটসে কনজারভেটিভ এমপির বিতর্কিত ভিডিও: তীব্র সমালোচনার ঝড়
মোঃ জয়নুল আবেদীনঃ ক্রয়ডন সাউথের কনজারভেটিভ এমপি এবং শ্যাডো হোম সেক্রেটারি ক্রিস ফিলিপ (Chris Philp) পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসের হোয়াইটচ্যাপেল রোডে এসে ভিডিও ধারণ করায় স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
১৬ জুলাই ২০২৪-এ যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনের পর বর্তমান ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ক্রিস ফিলিপ একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে তিনি হোয়াইটচ্যাপেলের কাঁচা বাজার (Kacha Bazaar) ও গ্রামীণ বাজারসহ (Grameen Bazaar) বিভিন্ন বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দিকে আঙুল তুলে ‘স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা’ (Skilled Worker Visa) জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে ।

অশোভন আচরণ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য:
সমালোচক ও স্থানীয়রা এটিকে একটি সস্তা “পলিটিক্যাল স্টান্ট” বা রাজনৈতিক নাটক হিসেবে দেখছেন। নিজের নির্বাচনী এলাকা (ক্রয়ডন) ছেড়ে অন্য এলাকায় এসে ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে এভাবে লক্ষ্যবস্তু করা এবং জনসম্মুখে জালিয়াতির তকমা দেওয়াকে চরম অশোভন বলে গণ্য করা হচ্ছে।
অধিকার ও আইনি এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন:
সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় কমিউনিটি মিডিয়াগুলো প্রশ্ন তুলেছে যে, কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই একজন এমপির এভাবে রাস্তায় ক্যামেরা ক্রু নিয়ে এসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার কোনো আইনি অধিকার নেই।

বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও বাংলাদেশি কমিউনিটিকে টার্গেট:
অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, পুরো ব্রিটেনের ভিসা ব্যবস্থার মূল সমস্যা বা বড় বড় কেয়ার হোম স্ক্যান্ডালগুলোকে এড়িয়ে গিয়ে তিনি কেবল বাংলাদেশি ও জাতিগত সংখ্যালঘু পরিচালিত দোকানগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিশানা করেছেন।সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিওটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে এবং অনেকেই টাওয়ার হ্যামলেটসের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকায় এসে তাঁর এই ধরনের আচরণকে অনধিকারচর্চা ও উস্কানিমূলক বলে নিন্দা জানাচ্ছেন।
ক্রিস ফিলিপের হোয়াইটচ্যাপেল রোডের ভিডিও স্টান্টের জবাবে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল এবং স্থানীয় এমপিদের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ এবং আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ক্রিস ফিলিপের এই কর্মকাণ্ডকে একটি সস্তা রাজনৈতিক প্রচার বা “সোশ্যাল মিডিয়া স্টান্ট” হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। নিজের নির্বাচনী এলাকা ছেড়ে এভাবে পূর্ব লন্ডনে এসে সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশি কমিউনিটিকে টার্গেট করার প্রতিবাদ:
স্থানীয় এমপি এবং কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, পুরো যুক্তরাজ্যের ভিসা ব্যবস্থার মূল ত্রুটি এবং বড় বড় কেয়ার হোম খাতের আসল ভিসা কেলেঙ্কারিগুলোকে আড়াল করতেই তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হোয়াইটচ্যাপেলের মাছ বাজার , কাচা বাজার বা গ্রামীণ বাজারের মতো ক্ষুদ্র বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিশানা করেছেন।
বর্ণবাদী ও বিভেদমূলক রাজনীতির অভিযোগ:
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ তুলেছেন যে, এই ধরণের ভিডিও টাওয়ার হ্যামলেটসের বহুসাংস্কৃতিক ও শান্তিপূর্ণ কম্যুনিটির মধ্যে উস্কানি ও বিভেদ তৈরি করার একটি অপচেষ্টা। কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি প্রমাণ বা Home Officeআনুষ্ঠানিক তদন্ত ছাড়াই প্রকাশ্য রাস্তায় আঙুল তুলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের “জালিয়াতি” বা “স্ক্যাম” এর তকমা দেওয়া আইনপ্রণেতা হিসেবে সম্পূর্ণ অশোভন।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার আশ্বাস:
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল স্পষ্ট করেছে যে, স্থানীয় ছোট ছোট ব্যবসাগুলো এই বরোর (Borough) অর্থনৈতিক ভিত্তি। কোনো প্রমাণ ছাড়া বহিরাগত কোনো রাজনীতিকের দ্বারা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের এভাবে হেনস্তা ও তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টাকে বরদাশত করা হবে না।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় কম্যুনিটি অ্যাক্টিভিস্টরাও ক্রিস ফিলিপের এই ভিডিওর তীব্র সমালোচনা করে একে বর্ণবাদী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বলে নিন্দা জানাচ্ছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা’ (Skilled Worker Visa) ব্যবস্থার সংস্কার এবং এটি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক নেতাদের প্রশ্ন তোলা বা পরিদর্শনের বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে তীব্র বিতর্ক চলছে।

বিতর্কের মূল কারণ:
কতিপয় ব্রিটিশ রাজনৈতিক নেতা, যেমন সাবেক মন্ত্রী ক্রিস ফিলপ এবং কেটি ল্যাম, সম্প্রতি দাবি করেছেন যে গ্রোসারি শপ, টেক-অ্যাওয়ে এবং রেস্তোরাঁর মতো খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এই উচ্চ-দক্ষতার ভিসা রুটটির অপব্যবহার করে নিম্ন-দক্ষতার কর্মী নিয়ে আসছে।
স্থানীয় ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের ক্ষোভ:
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কমিউনিটির একটি বড় অংশ মনে করে, আইন মেনে বৈধভাবে লাইসেন্স নেওয়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এভাবে টার্গেট করা এবং গণমাধ্যমে প্রশ্নবিদ্ধ করা মোটেও ঠিক হয়নি। তাদের মতে, এই সমালোচনাগুলো স্থানীয় অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করা বৈধ উদ্যোক্তাদের প্রতি অন্যায় অবিচার এবং এটি তাদের ব্যবসায়িক সুনামের ক্ষতি করছে।
ভিডিও লিংকঃ
@chris.philp.official I heard that dozens of convenience stores, mobile phone shops and bazaars on Whitechapel Road in East London are sponsoring skilled worker visas. I went there yesterday to investigate this scam. Here’s what I found: #EastLondon #Whitechapel #VisaScam #Investigation #UKPolitics #HomeSecretary #ChrisPhilpMP #Immigration #NewsUpdate #London