শীর্ষ সংবাদব্রিটেনের সংবাদ

ট্রাম্পকে বিশ্বাস করেন কি না, তা বলতে দুবার অস্বীকৃতি জানালেন বার্নহ্যাম

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্টঃ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে প্রথম ফোনালাপের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশ্বাস করেন কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এই সপ্তাহের শুরুর দিকে ২০ মিনিটের এক ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ’ ফোনালাপের পর তিনি ট্রাম্পের সাথে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেবেন; তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কিন্তু মিস্টার বার্নহ্যাম বারবারই ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানান।

বিবিসির ‘সানডে উইথ লরা কুয়েন্সবার্গ’ (Sunday with Laura Kuenssberg) অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আগাম সাধারণ নির্বাচনের সম্ভাবনাও নাকচ করে দেন।

তিনি বলেন, “আমি কোনোভাবেই বলতে পারি না যে তাঁর [ডোনাল্ড ট্রাম্পের] সাথে আমার মতের অমিল হবে না; কারণ ব্রিটেনের স্বার্থে ভিন্ন কোনো মত বা ধারণা প্রকাশ করার প্রয়োজন হতেই পারে।”

ট্রাম্পকে বিশ্বাস করেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বার্নহ্যাম বলেন: “আসলে, আমার সাথে তাঁর একবারই ফোনালাপ হয়েছে এবং সেই আলোচনাটি বেশ ভালো ছিল।

“মানুষকে আমি সবসময় সরাসরি অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বিচার করি। সারা জীবন আমি এভাবেই চলেছি এবং সোমবার তাঁকে বেশ আন্তরিক মনে হয়েছে। তবে স্বাভাবিকভাবেই, সামনের দিনগুলোতে আমরা এই সম্পর্ক আরও গড়ে তুলব।”

ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখা সম্ভব কি না—এ বিষয়ে দ্বিতীয়বার প্রশ্ন করা হলে বার্নহ্যাম বলেন: “পৃথিবীটা তো প্রতিনিয়ত পাল্টাচ্ছে, তাই না? আর পরিস্থিতি যেমন দাঁড়াবে, সে অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

লেবার পার্টির নেতা হিসেবে ডাউনিং স্ট্রিটে দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পরই সোমবার ট্রাম্প মিস্টার বার্নহ্যামের সাথে কথা বলেন।

প্রেসিডেন্ট জানান, বার্নহ্যামের সাথে তাঁর ‘খুব ভালো’ আলোচনা হয়েছে। কোনো বিদেশি নেতার সাথে প্রথম ফোনালাপেই বার্নহ্যাম ট্রাম্পকে আগামী বছরের জি-২০ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ম্যানচেস্টারে আমন্ত্রণ জানান।

ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social) প্ল্যাটফর্মে লেখেন, “আমরা অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি, যার মধ্যে যুক্তরাজ্যের সাথে আমাদের চমৎকার সম্পর্কের বিষয়টিও ছিল।” আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল “উত্তর সাগরের তেল, বাণিজ্য, সামরিক জোট, হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণ এবং আরও অনেক প্রসঙ্গ”।

প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন: “ফোনালাপটি বেশ আকর্ষণীয় ও ফলপ্রসূ ছিল। আমি প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যামের জন্য শুভকামনা ও সাফল্য কামনা করেছি।” মিঃ বার্নহ্যামের শিবিরের কেউ কেউ আশঙ্কা করেছিলেন যে তাঁদের দুজনের মধ্যে হয়তো টানাপড়েন সৃষ্টি হতে পারে। এর আগে মিঃ ট্রাম্প মিঃ বার্নহ্যামকে “একটি শহরের মেয়র” এবং “অত্যন্ত উদারপন্থী” (লিবারেল) হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

মিলিব্যান্ড: মতপার্থক্যের একটি কারণ
মিঃ বার্নহ্যাম যখন এড মিলিব্যান্ডকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেন, তখন হোয়াইট হাউসও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। নিয়োগের পর মিঃ মিলিব্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে সম্পর্ক জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং “যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ব্রিটেনের অপরিহার্য মৈত্রী”র কথা উল্লেখ করেন।

মিঃ ট্রাম্পের দল আগেই সতর্ক করেছিল যে, সাবেক এই জ্বালানি মন্ত্রীর সাথে কাজ করা তাদের জন্য কঠিন হতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-কে বলেছেন যে, ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মিঃ মিলিব্যান্ড “মতপার্থক্যের একটি কারণ” হয়ে উঠতে পারেন; কারণ তিনি এমন সব ‘গ্রিন এনার্জি’ বা পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রকল্পের সমর্থক, যেগুলোর সমালোচনা করেছিলেন মিঃ ট্রাম্প।

ব্রিটেনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রদেশের নেতার ওপর তিনি আস্থা রাখেন কি না—এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানানোর বিষয়টি তাঁর নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের কথায়ও প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

স্কাই নিউজের ‘সানডে মর্নিং উইথ ট্রেভর ফিলিপস’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মিঃ স্ট্রিটিং বলেন, মিঃ ট্রাম্পকে তিনি যথেষ্ট ভালোভাবে চেনেন না বলে তাঁর ওপর আস্থা আছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।

তিনি বলেন: “আসলে আমি তাঁকে চিনি না, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমার আস্থা আছে। আমরা এখন একে অপরকে বোঝার প্রাথমিক পর্যায়ে আছি। এই পদে আমার এক সপ্তাহও পূর্ণ হয়নি।”

মিঃ স্ট্রিটিং ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিশেষ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন যে, নতুন দায়িত্ব তাঁকে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এই সম্পর্কের গুরুত্ব সম্পর্কে এক “অনন্য ধারণা” দিয়েছে।

তিনি বলেন: “দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ মন্ত্রী পিট হেগসেথের সাথে দেখা করতে পেরে আমি অত্যন্ত আগ্রহী ও আনন্দিত ছিলাম। সেখানে আমি স্পষ্টভাবে জানিয়েছি যে, ইরানে কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপকে আমরা সমর্থন করিনি এবং ভবিষ্যতেও করব না।”

“তবে ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে—সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ও সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া এবং আমাদের ও ন্যাটোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এমন অনেক কিছুই আছে যা আমরা যৌথভাবে করতে পারি এবং করা উচিত।”

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘদিনের অত্যধিক নির্ভরতার অবসান ঘটিয়ে “ইউরোপকে আত্মতুষ্টির ঘোর থেকে জাগিয়ে তোলা এবং নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে বাধ্য করার” জন্য মিঃ ট্রাম্পকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হবে।


Spread the love

Leave a Reply