ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন-২০২৬ঃ সিলেটের ৬টি আসনে বিএনপি থেকে যারা লড়তে চান

Spread the love

বিশেষ প্রতিবেদনঃ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ভরপুর সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে খ্যাত সিলেট। কোটি প্রবাসীর জন্মভূমি এবং রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাঘার সিলেট আধ্যতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত।
বৃটিশ আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সিলেটবাসী ও প্রবাসীদের রয়েছে অগ্রণী ভূমিকা। রাজনৈতিক সচেতন এই ভূমি থেকে জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন অনেক বিশিষ্টজন। রাজনীতির উর্বরভূমি সিলেট।
বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে সিলেট জেলায় রয়েছে ৬টি। এর মধ্যে সিলেট-১ (মহানগর-সদর) হেভিওয়েটদের আসন হিসেবে বিবেচিত। হযরত শাহজালালের পুণ্যভূমির এই আসনে সব সময় হেভিওয়েট প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছেন। সব দলই শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রম শুরু করে থাকেন।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সফল বৈঠকের পর বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ আবার শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি কিংবা এপ্রিলে হতে যাওয়া এ নির্বাচনে বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন প্রতিটি আসনে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী রয়েছেন। আর জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও অন্য ইসলামি দলগুলো এখনো তাদের মাঠ গোছাতে পারেনি। মূলত মাঠে এখন বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীরাই রয়েছেন।
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরপরই বিএনপির মনোনয়ন পেতে আগ্রহীরা তৎপরতা শুরু করেন। লন্ডন-ঢাকায় যোগাযোগ রাখছেন তারা এবং স্থানীয় পর্যায়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও নিজ সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা করে মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টায় রয়েছেন। সে সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীও তাদের দলীয় ফোরামে আলোচনা করে আসনভিক্তিক প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেছে।
আগামী নির্বাচনে সিলেট জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপি এখন পর্যন্ত কারো নাম ঘোষণা করেনি।
২০২৪-এর গণহত্যায় দায়ী নিষিদ্ধ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী মাঠে নেই। ‘ ডামি’খ্যাত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনও গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।

সিলেট-১ (মহানগরী ও সদর উত্তর)
একটি ‘মিথ’ প্রচলিত রয়েছে ‘সিলেট-১ আসনে যে দলের প্রার্থী বিজয়ী হন, সে দলই সরকার গঠন করে। কাকতালীয়ভাবে এ ধারাই চলে আসছে। এই আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে বিএনপি চেয়ারপারসনের দুই উপদেষ্টা সরাসরি লড়াইয়ে নেমেছেন। তাদের একজন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। অন্যজন সিলেট সিটি করপোরেশনে দুবারের নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সম্প্রতি তিনি লন্ডনে গিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর নির্বাচনের আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন।
এ আসনে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে আসছেন। মাঠ পর্যায়ে নেতা কর্মীদের নিয়ে তিনি ফ্যাসিস্টের ১৬ বছর আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ছিলেন। অপরদিকে আরিফুল হক ফ্যাসিস্ট আমলে দুবারই সিটি মেয়র নির্বাচিত হন। প্রচলিত আছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের অর্থমন্ত্রী মরহুম আবুল মাল মুহিতের সাথে সমঝোতা করে সিলেটে রাজনীতি করেছেন। মরহুম মুহিতের পর তারই ভাই সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনেরও ঘনিষ্ট হয়ে উঠেন আরিফ। মিঃ মোমেন গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। পরবর্তীতে বিগত সিটি নির্বাচনে আওয়ামী প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান নির্বাচিত হলে তিনি ছিলেন একেবারে অজ্ঞ। মাত্র কয়েকমাসের মধ্যে মেয়রের ব্যর্থতায় জনমনে অশস্তি দেখা দিলে আরিফুল হক আড়াল থেকে আনোয়ারুজ্জামানকে সকল কাজে সহযোগিতা করেছেন বলে মনে করা হয়। ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর পালিয়ে যান আনয়ারুজ্জামান, সাবেক মন্ত্রী শফিকুর রহমান, সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান। ধারনা করা হয় আওয়ামীলীগের সাথে অতি সখ্যতার কারনে ফ্যাসিস্ট মন্ত্রী মেয়র ও এমপিদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন আরিফুল হক চৌধুরী। এছাড়া গণঅভ্যুত্থানের সময় কোন আন্দোলন সংগ্রামে আরিফুল হক চৌধুরীকে মাঠে দেখা যায়নি। সম্প্রতি লন্ডন এসে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে দেখা করে নিজের সুর পরিবর্তন করে সিলেট ১ আসনে প্রার্থীতা দাবি করছেন। তিনি এও বলেছেন জিয়া পরিবারের কেউ সিলেট ১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলে তিনিই এই আসনের দাবীদার। মিঃ আরিফ লন্ডন অবস্থানকালে তারই গাড়ীর ড্রাইভার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহ ধর্মিনী ডাঃ জুবায়দা রহমানকে প্রার্থী ছেয়ে একটি পোস্টার সিলেটের বিভিন্ন দেয়ালে টানিয়ে দেন। ধারনা করা হয় এই আসনে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে আসা খন্দকার মোক্তাদিরকে বিভ্রত করার উদ্দেশ্যে আরিফুল হক তার ড্রাইভারকে দিয়ে এই কাজ করিয়েছেন।
জনমনে প্রত্যাশা যে আরিফুল হককে সিটি মেয়র হিসেবে মানায়, সিলেট ১ আসনের এমপি হিসেবে তার তেমন কোন গ্রহযোগ্যতা নেই।

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর)
জেলার অন্যতম আলোচিত আসন সিলেট-২ (ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ)। এ আসনে সাবেক এমপি ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা এম ইলিয়াস আলী। তিনি গুমের শিকার হওয়ার পর ২০১৮ সালের নির্বাচনে তার সহধর্মিণী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ডেপুটি রেজিস্ট্রার তাহসিনা রুশদীর লুনাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়; তবে তিনি নির্বাচন করতে পারেননি। পরে বিএনপি এই আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে গণফোরামকে ছেড়ে দেয়। বিএনপির সমর্থনে গণফোরামের মোকাব্বির হোসেন খান এ আসনে বিজয়ী হন।
প্রবাসী অধ্যুষিত আসনটিতে বিএনপির নেত্রী হিসেবে একক আধিপত্য লুনার। এতদিন থেকে তিনি ছিলেন এই আসনে একক মনোনয়নপ্রত্যাশী। তবে সম্প্রতি তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা লন্ডনপ্রবাসী হুমায়ুন কবির এই এলাকায় যাতায়াত বাড়িয়েছেন এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন। তবে মাঠ পর্যায়ে তাকে কেউ চিনেন না বলে মনে করা হয়।
এখানে লুনাই একা সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিগত দিনে নির্বাচিত মোকাব্বির হোসেন এবং ২৪ সালের ডামি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরীÑএ দুজনই দেশ ছেড়ে পালিয়ে রয়েছেন। নির্বাচনি এলাকায় তাদের নিয়ে কোনো আলোচনা নেই।

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ)
সিলেট-৩ আসনে এবার বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। তবে জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের একক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মাঠে রয়েছেন।
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা সভাপতি এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সিন্ডিকেট সদস্য আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এমএ মালেক, বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মানবাধিকারবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এমএ সালাম, সিলেট মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম হক আদনান ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল আহাদ খান জামাল।
এ আসনে বিএনপিদলীয় সাবেক এমপি শফি আহমদ চৌধুরী ডামি নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে দল থেকে বহিষ্কৃত হন। আর আওয়ামী দলীয় ডামি এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব ৫ আগস্টের পর লন্ডনে পালিয়ে গেছেন।
সিলেট ৩ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌঃ ও ব্যারিস্টার সালাম দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। এদিকে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক মাঠে না থাকলেও দলে তার অবদান অনস্বীকার্য। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের পতনের একজন প্রথম সারির যোদ্ধা মি; মালেক। তারই নেতৃত্বে সংকটকালীন সময় বর্হিবিশ্বে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত ছিল।

সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ)
পর্যটন এলাকা হিসেবে খ্যাত কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর নিয়ে সিলেট-৪ আসন। এখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ অন্তত পাঁচজন এবং জামায়াতের একক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। অন্য দলগুলোর কাউকে এখনো তাদের কার্যক্রম শুরু করতে দেখা যায়নি।
বিশাল সম্ভাবনাময় এলাকা নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসনে এবার প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। গত ১৫ বছরের অবৈধ নির্বাচনে এককভাবে বিজয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ। এ আসনের সাবেক এমপি ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী এমরান আহমদ বর্তমানে বিভিন্ন অপরাধের কারণে কারাগারে রয়েছেন। সম্ভাবনাময় এই আসনের প্রাকৃতিক সম্পদ লুটপাট করেছেন এমরান ও তার আস্থাভাজনরা।
আসন্ন নির্বাচনে এই আসনের দিকে চোখ পড়েছে বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর। ৫ আগস্টের পর থেকে নির্বাচনি লক্ষ্য নিয়ে সভা-সমাবেশ ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন তারা। কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ঢাকায় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তৃণমূলের সমর্থনের জন্য নানা কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন তারা।
এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগ|ঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা মিফতাহ্ সিদ্দিকী, মহানগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। প্রবাস থেকে ফিরে নির্বাচনের আগ্রহ নিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছেন সেলিম। তিনি ঢাকায় মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করে মনোনয়নের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া এ আসনে মনোনয়ন চান জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও গোয়াইনঘাটের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম চৌধুরী। উল্লেখিত প্রার্থীদের মধ্যে মিফতাহ সিদ্দিকী পরিচিত মুখ। আন্দোলন সংগ্রামে তার অবদান অতুলনীয় ।

সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট)
জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট নিয়ে গঠিত সিলেট-৫ আসন থেকে বিএনপিদলীয় কোনো প্রার্থী ১৯৯১ সালের পর থেকে জোট ও সমঝোতার কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পাননি। শুধু ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব মরহুম হারিছ চৌধুরী নির্বাচন করে পরাজিত হন। এরপর থেকে জোটের প্রার্থীদেরই ছেড়ে দেওয়া হয় আসনটি। এবার বিএনপি প্রার্থীরা আর ছাড় দিতে চাচ্ছেন না। দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের পক্ষে তারা একজোট হয়েছেন।
আসনটিতে জোটপ্রার্থী হিসেবে একবার নির্বাচিত হন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। পরে তিনি আবারও এ আসনে জোটের মনোনয়ন পান। ২০১৮ সালে এ আসনে জোটের অংশ হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রখ্যাত আলেম শায়খুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
আসন্ন নির্বাচনে এ আসনে মনোনয়ন চেয়ে বিএনপির অত্যন্ত ৪ জন তৎপরতা চালাচ্ছেন। তারা হলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন), জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী ও হারিছ চৌধুরীর কন্যা যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী।

সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ)
বিপুলসংখ্যক প্রবাসী অধ্যুষিত গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার হেভিওয়েটসহ সবচেয়ে বেশি ব্যক্তি বিএনপির মনোনয়নের লড়াইয়ে রয়েছেন। দেশি ও প্রবাসী বিএনপির বিভিন্ন পদধারী অন্তত ৯ জন মনোনয়নের জন্য উচ্চপর্যায়ে লবিং শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই শিল্পপতি, বিত্তশালী ও লন্ডন-আমেরিকা প্রবাসী রয়েছেন।
আসনটিতে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা এমরান আহমদ চৌধুরী, ২০১৮ সালে দলের মনোনীত প্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফয়সল আহমদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মো. এনামুল হক চৌধুরী, সাবেক জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম। এ ছাড়াও মনোনয়ন চান টাওয়ার হেমলেটের সাবেক কাউন্সিলর অহিদ আহমদ, জেলা বিএনপির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সহসম্পাদক তামিম ইয়াহিয়া আহমদ, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক হেলাল খান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠজন মরহুম কমর উদ্দিনের মেয়ে যুক্তরাজ্যের কাউন্সিলর পপি খান এবং সাবেক এমপি ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেছু মিয়ার মেয়ে ব্যবসায়ী সামিরা হোসেন।
এদিকে পপি খান ও সামিরা হোসেন সম্প্রতি নিজ নিজ এলাকায় এসে তাদের বাবার অনুসারী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করে নিজেদের প্রার্থিতার জানান দিয়েছেন।

সিলেট ৬ আসনের উল্লেখিত প্রার্থীদের মধ্যে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীকে একজন ত্যাগী পরিচ্ছন্ন প্রার্থী মনে করা হয়। মাঠ পর্যায়ে তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বস্থরের মানুষের সাথে রয়েছে তার সুপরিচিতি। তাছাড়া ফ্যাসিস্ট পতন আন্দোলনে তিনি ছিলেন প্রথম সারিতে। পুলিশের গুলিতে গুরতর আহত হন বিএনপির এই ত্যাগী নেতা। এমরান আহমদ চৌধুরী সিলেট জেলা ছাত্রদলের সভাপতি থাকাকালিন সময় থেকে একজন পরিচ্ছন্ন ত্যাগী ছাত্রনেতা হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরী করেন। মিঃ চৌধুরী ২০১৮ সাল থেকে এই আসনে মনোনয়ন চেয়ে আসছেন।  ২০১৮ সালে দলের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফয়সল আহমদ চৌধুরী, যিনি মূলত একজন ব্যবসায়ী, এর বাইরে কোন দলীয় কার্যক্রম বা আন্দোলন সংগ্রামে তাকে কোনদিন দেখা যায়োনি, তাছাড়া মাঠ পর্যায়ে জনগনের সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মো. এনামুল হক চৌধুরীকে মাঠে কখনও দেখা যায়নি। সাবেক জেলা সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম ফ্যাসিস্ট পতন আন্দোলনে তেমন তৎপর ছিলেন না। এছাড়া এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী মরহুম কমর উদ্দিনের মেয়ে পপি খান এবং সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের মেয়ে সামিরা হোসেনের জনগণের সাথে কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে মনে করা হয়।

(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন বাংলা সংলাপ এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও আমার দেশ সিলেট ব্যুরো প্রধান খালেদ আহমদ)


Spread the love

Leave a Reply