শুক্রবার , ১৪ আগস্ট ২০২০
Menu
Home » কোভিড-১৯ » দৈনিক সিলেটের ডাক” এর ৩৩ তম জন্মবার্ষিকী ও প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ ফয়জুর রহমানের কিছু কথা (১ম পর্ব )

দৈনিক সিলেটের ডাক” এর ৩৩ তম জন্মবার্ষিকী ও প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ ফয়জুর রহমানের কিছু কথা (১ম পর্ব )

1বাংলা সংলাপ ডেস্কঃ  ১৮৭৫ কে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সাংবাদিকতার সূচনাকাল ধরা হলে ১৯৭৫ সালেই এ অঞ্চলের সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা শতবর্ষ পেরিয়েছে। আর এবছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে আমাদের গৌরবময় সাংবাদিকতা ১শ ৪২ বছরে পদার্পণ করছে। এটি শুধু সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার সাথে সংশ্লিষ্টদের জন্যেই নয়,বরং সমগ্র সিলেট অঞ্চলবাসীর জন্যে গৌরব এবং আত্নশ্লাঘার বিষয় এটি।
বাংলাদেশের স্বাধানীতা লাভের পর থেকেই সিলেট অঞ্চলের অধিবাসী সচেতন জনগোষ্ঠি একটি দৈনিক পত্রিকার অভাব অনুভব করে আসছেন। বৃহত্তর সিলেট জেলা সদর থেকে সেসময় ৩/৪ টি সাপ্তাহিক প্রকাশিত হলেও একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশে কেউই এগিয়ে আসেননি। বলা চলে, এ দুঃসাহসী কাজের ঝুঁকি নিতে কেউ সাহস করেননি।
জানা যায়, সুবিশাল চিত্ত ও বিত্ত-বৈভবের অধিকারী, সিলেট থেকে প্রকাশিত দেশের অন্যতম প্রাচীন সাপ্তাহিক যুগভেরী’র প্রাণপূরুষ ও সু্যোগ্য সম্পাদক, সিলেটবন্ধু আমিনুর রশীদ চৌধুরী দৈনিক সিলেটের ডাক প্রকাশের পূর্বে একবার যুগভেরীকে দৈনিকে রূপান্তরিত করার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছিলেন। কিন্ত নানা হিসেব-নিকেষ ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় এহেন পরিকল্পনা এবং উদ্যোগ থেকে সরে আসতে বাধ্য হন প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্বেও।
দিন যায়, মাস যায়, বছরের পর বছর যায়। কিন্তু সুপ্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্য, সা্হিত্য-সংস্কৃতি, মনন-মেধা, ঞ্জান-গরিমা এবং সম্পদ-সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ সিলেট থেকে একটি দৈনিক পত্রিকা বের হয়না। বরং এ অভাব প্রকট থেকে প্রকটতর হতে থাকে দিনে দিনে এঅঞ্চলের অগণিত পাঠক হৃদয়ে। এমনি প্রক্ষাপটে বিত্ত-বৈভবহীন এক তরুণ সাংবাদিক শুধুমাত্র সৎ সাহস,আত্মবিশ্বাস এবং নিজের কমিটমেন্টকে পূঁজি করে দীপ্ত পদভারে এগিয়ে আসলেন দুঃসাহসী ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এ মিশন বাস্তবায়ন তথা বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের প্রথম দৈনিক পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে এঅঞ্চলের শতাধিক বছরের ঐতিহ্যমণ্ডিত সাংবাদিকতার ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে। আর তিনি হলেন সেসময় রাজধানী ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক দেশ ( অধূনালুপ্ত)এর তদানীন্তন বৃহত্তর সিলেট এর বার্তা প্রতিনিধি মুহাম্মদ ফয়জুর রহমান।

১৯৮৪ সাল। দেশে চলছে সামরিক শাসন। লে. জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। অসীম ক্ষমতার অধিকারী । সামরিক শাসন জারির পর জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। সংবাদপত্রের উপর খড়গহস্ত, নানা অদৃশ্য-অলিখিত বিধি-নিষেধের বেড়াজালে দেশের মিডিয়া জগৎ। নতুন সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন ও প্রকাশনার অনুমোদন বন্ধ।
এমনি এক পরিবেশ-পরিস্থিতিতে ১৯৮৪ সালের ১৮ জুলাই আমার সম্পাদনা, প্রকাশনা ও মালিকানায় প্রকাশিত হয় বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের ১শ’ ৯ বছরের গৌরবময় সাংবাদিকতার ইতিহাসে প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র “সিলেটের ডাক”। আর এর মাধ্যমে সূচিত হয় এ অঞ্চলের সাংবাদিকতায় এক নতুন অধ্যায়ের। সংযোজিত হয় নতুন মাইলফলক।
আজ ১৮ জুলাই ২০১৭ দৈনিক সিলেটের ডাক ৩৪ বছরে পদার্পণের কথা ছিল। কিন্তু একটি মামলায় মাননীয় আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে গত মাসে সিলেট বিভাগের বহুল প্রচারিত এবং সর্বাধিক জনপ্রিয় ও পাঠক নন্দিত এ পত্রিকাটির ডিক্লারেশন তথা প্রকাশনার অনুমোদন সরকার বাতিল করেন। যার ফলে দৈনিক সিলেটের ডাক এর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। বেকার হয়ে পড়েন পত্রিকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংবাদিক-কর্মচারী।
দৈনিক সিলেটের ডাক প্রকাশনার তেত্রিশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে ইতোমধ্যে। এ দীর্ঘ পথ-পরিক্রমায় স্বচ্ছ সলিলা সুরমা- কুশিয়ারা-মনু-খোয়াই নদীর জল গড়িয়েছে বহু দূর। দিনে দিনে স্মৃতির ভান্ডারে জমা হয়েছে অনেক কথা, অনেক ঘটনা এবং অসংখ্য স্মৃতি। আমার মতো একজন নগণ্য সংবাদকর্মীর হাত ধরে সিলেট অঞ্চলের ঐতিহ্যমণ্ডিত সাংবাদিকতার গৌরবময় ইতিহাসের প্রথম দৈনিকের আত্মপ্রকাশের যুগান্তকারী ঘটনা, নতুন অধ্যায়ের এবং অধ্যায়ের না বলা কথা, এর সাথে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং এদের কারো কারো অপরিসীম ত্যাগ-তীতিক্ষা, মনন-মেধার বিনিয়োগ, অনেক চড়াই-উৎরাই এবং সেই সাথে নানা অর্জন ও সাফল্যগাঁথা সিলেটের ডাক এর সঠিক ইতিহাস রচনার বৃহত্তর স্বার্থে সুধী পাঠক তথা সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মুখে উপস্থাপন করা একান্ত প্রয়োজন।
সিলেট বিভাগের প্রথম দৈনিক ‘সিলেটের ডাক’-এর স্বপ্নদ্রষ্টা, একক উদ্যোক্তা, জনক, প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, প্রকাশক এবং মূদ্রাকর হিসেবে এসব কথা ও বিষয়গুলো জননন্দিত পত্রিকাটির অগণিত পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের কাছে তুলে ধরা আমার নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করছি। আর সেই দায়িত্ববোধ থেকেই সিলেটের ডাক-এর প্রকাশনার ইতিহাস, বিস্তারিত পটভূমি, পর্যায়ক্রমে উপস্থাপনের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। ( চলবে)

ছবি : ১. দৈনিক সিলেটের ডাক প্রকাশে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাভের নিমিত্তে তদানীন্তন উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক, নৌবাহিনী প্রধান ও যোগাযোগ মন্ত্রী রিয়ার এডমিরাল এম এ খান বরাবরে আবেদন ১৮ জানুয়ারী ১৯৮৪, ২) পত্রিকার মূদ্রাকর ও প্রকাশক হিসেবে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর সম্মুখে সরকার বরাবরে প্রদত্ত ডিক্লারেশন ৩) আমার মালিকানা ও সম্পাদনায় সিলেটের ডাক প্রকাশনার অনুমতি সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পত্র, ৪) সিলেটের ডাক প্রকাশের ব্যাপারে সম্পাদক, প্রকাশক ও মূদ্রাকরের কাছে জেলা প্রশাসকের চিঠি ৫) সিলেটের ডাক প্রকাশের নিমিত্তে সরকারী অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট সচিব বরাবরে সিলেট জেলা প্রশাসকের ১৬.০২.১৯৮৪ তারিখের চিঠি এবং ৬–১১) সিলেটের ডাক এর প্রথম সংখ্যা ১৮ জুলাই ১৯৮৪.2

আরও দেখুন

রফিকুল ইসলাম সজিব ও মাহবুব আরা চপলার অভিনন্দন

সাবেক ছাত্রদল অর্গানাইজেশন ইউরোপ কেন্দ্রীয় কমিটিতে মাহবুব আরা চপলা (গ্রিস) কে সহ-সভাপতি ও রফিকুল ইসলাম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *