ধনী ও ব্যাংক খাতে কর বাড়ালে লন্ডনে চাকরিচ্যুতির শঙ্কা
ডেস্ক রিপোর্টঃ যুক্তরাষ্ট্রের একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকের প্রধান চ্যান্সেলর জন হিলিকে সতর্ক করেছেন যে, সরকার যদি ধনী ব্যক্তি ও আর্থিক খাতের ওপর করের বোঝা বাড়ায়, তবে লন্ডনে কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ব্রিটেনের জন্য তাঁর নেওয়া আমূল সংস্কার কার্যক্রম—যার মধ্যে রয়েছে “আধুনিক যুগে ক্ষমতার বৃহত্তম বিকেন্দ্রীকরণ”—অর্থায়নের জন্য তিনি বিত্তবানদের ওপর কর বাড়াতে পারেন।
তবে জেপি মরগান চেজ-এর প্রধান নির্বাহী জেমি ডাইমন এক ফোনালাপে মিস্টার হিলিকে বলেছেন যে, কর বাড়ালে কর্মসংস্থান অন্য কোথাও চলে যেতে পারে। তিনি উদাহরণ হিসেবে নিউ ইয়র্কে আর্থিক খাতের চাকরির সংখ্যা হ্রাসের কথা উল্লেখ করেন এবং এর জন্য আংশিকভাবে শহরের করের বোঝা বা উচ্চ করহারকে দায়ী করেন।
‘দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ব্যাংকের মুনাফার ওপর বিশেষ কর (উইন্ডফল লেভি) বা সম্পদের ওপর ব্যাপক হারে কর বাড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
‘দ্য স্ট্যান্ডার্ড’-এর তথ্যমতে, কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি নিয়ে মিস্টার ডাইমনের মন্তব্যটি লন্ডনে জেপি মরগানের ৩ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে পরিকল্পিত নতুন সদর দপ্তরের বিষয়ে ছিল না; বরং তিনি সামগ্রিকভাবে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে কর বাড়ালে কীভাবে শহরগুলো আর্থিক খাতের কর্মসংস্থান হারাতে পারে।
আলোচনার বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তির মতে, তাঁর বক্তব্যের মূল কথা ছিল—সরকার যদি সঠিক জননীতি গ্রহণ করতে পারে, তবে কর বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা এড়ানো সম্ভব।
জেপি মরগান চেজ লন্ডন, বোর্নমাউথ, গ্লাসগো এবং এডিনবরায় ২৩ হাজার কর্মী নিয়োগ করে রেখেছে।
মিস্টার হিলি, যিনি শরৎকালে তাঁর প্রথম বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন, আগামী দিনগুলোতে ব্যাংক প্রধানদের সঙ্গে আরও কিছু প্রাথমিক আলোচনা করবেন বলে কথা রয়েছে।
এমন এক সময়ে এই আলোচনাগুলো হচ্ছে যখন ট্রেড ইউনিয়নের নেতারা লেবার সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছেন যেন চার বছরে ব্যাংকগুলোর ওপর ৯ বিলিয়ন থেকে ৬০ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত কর বাড়ানো হয়।
ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পল নোয়াক সম্প্রতি বলেছেন: “এ দেশের বড় চারটি ব্যাংক প্রতি সপ্তাহে প্রায় এক বিলিয়ন পাউন্ড মুনাফা করছে।”
“গত বছর লন্ডনের আর্থিক কেন্দ্র বা ‘সিটি অফ লন্ডন’-এ ব্যাংকারদের বোনাসের ক্ষেত্রে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছিল।”
“যাদের কাঁধে সবচেয়ে বেশি ভার বহনের সক্ষমতা রয়েছে (অর্থাৎ যারা সবচেয়ে বিত্তবান), তাদের কাছে এমন সব পরিবারকে সহায়তা করার আহ্বান জানানোকে আমি অন্যায় মনে করি না—যারা ঘর গরম রাখার বিল মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।”
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল বিনিয়োগকারী ব্যাংক জেপি মরগান চেজ-এর প্রভাবশালী প্রধান নির্বাহী মিস্টার ডাইমন এর আগেও এই শিল্পের ওপর কর বাড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছেন এবং ব্যাংকগুলোর জন্য যুক্তরাজ্যের কর্পোরেশন ট্যাক্স সারচার্জের সমালোচনা করেছেন।
এই মাসের শুরুর দিকে ‘মাস্টার ইনভেস্টর পডকাস্ট’-এর এক সাক্ষাৎকারে মিস্টার ডাইমন বলেছিলেন যে, তিনি “সবসময়ই এটিকে ভুল বলে মনে করেছেন”। ২০০৮-০৯ সালের আর্থিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি যুক্তি দেন: “জেপি মরগান যুক্তরাজ্যের কোনো ক্ষতি করেনি… আমার মনে হয়েছে, যে কোম্পানির সাথে ওই সংকটের কোনো সম্পর্কই ছিল না—এবং যেটি ১৬-১৭ বছর পরেও টিকে আছে—তাকে শাস্তি দেওয়াটা নীতিবহির্ভূত।”
অতিরিক্ত কর বা সারচার্জ বাড়ানোর সম্ভাবনার বিষয়ে মিস্টার ডাইমন বলেন: “সরকার যদি এমন সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আমার কিছু করার থাকবে না; কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এর ফলে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে যা হয়তো তাদের পছন্দ হবে না।
“কর ব্যবস্থা যদি প্রতিযোগিতামূলক না হয়, তবে দেশ থেকে পুঁজি বেরিয়ে যায় এবং… অন্য দেশে চলে যায়”—গত দুই বছরে লন্ডনের শেয়ার বাজার থেকে অনেক কোম্পানির সরে যাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে সতর্ক করেন।