পূর্ব লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে তুমুল উত্তেজনা: পুলিশি বাধায় আওয়ামী লীগের চেষ্টা নস্যাৎ
মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীনঃ এনসিপি কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক ( দক্ষিনাঞ্চল) জুলাই যোদ্ধা হাসনাত আব্দুল্লাহ সম্মানে আয়োজিত পূর্ব লন্ডনে মায়েদাগ্রীল বেনকুইটিং হলে শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানকে ঘিরে আওয়ামী সমর্থিত কিছু দুস্কৃতিকারী বিশৃংখূলা সৃষ্টি করে। তারা হাসনাত আব্দুল্লাহ সমাবেশ পন্ড করার ব্যাপক পায়তারা চালিয়ে পুলিশি বাধার মুখে ব্যর্থ হয়। এসময় কাউন্টার টেররিজম পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতিতে হাসনাত আব্দুল্লাহ নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে সমাবেশে প্রবেশ করেন।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে থেকে হোয়াইটচ্যাপেল এবং পূর্ব লন্ডনের অন্যান্য স্থানে আওয়ামী লীগের কর্মীরা জড়ো হয়ে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এর আগে বিকেলে লন্ডনের রমফোর্ড এলাকায় হাসনাত আবদুল্লাহকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ ও ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
মায়েদাগ্রীল বেনকুইটিং হলের বাইরে একদিকে যেমন আওয়ামী লীগের সমর্থকরা লাউডস্পিকারে স্লোগান ও গালিগালাজ করতে থাকে, অন্যদিকে হলের ভেতরে ও আশেপাশে থাকা এনসিপি (NCP) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকরাও প্রতিবাদের মুখে পাল্টা স্লোগান দেয়।
সভার শুরুতে এনসিপি কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক ( দক্ষিনাঞ্চল) জুলাই যোদ্ধা হাসনাত আব্দুল্লাহ আজকের অনুষ্ঠানে নিক্ষেপকৃত সকল ডিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসীদের উৎসর্গ করে বক্তব্য শুরু করেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন এখানে প্রত্যেক মানুষ বাংলাদেশকে পছন্দ করে। ১৭ বছরেরও বেশি দিন থেকে বাংলাদেশ নামক দেশটি পরিচালিত হতো সীমান্তের ওপার ভারত থেকে । আমাকে অক্সফোর্ডে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল আওমীলীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে কি না, আমি বলেছি এটা জনগন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ রাজনীতি করবে কি না। এই দলের নেত্রী ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। কোন রাজনৈতিক দল কখনও নিজ দেশের মানুষকে গুলি করে হত্যা করে না, যেটা আওয়ামীলীগ করেছে। জুলাই আন্দোলনে শিশু নারী বৃদ্ধ যুবক মাদ্রাসা কলেজের ছাত্র হিন্দু মুসলমান বাবা মারা সহ প্রত্যেক শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল। আওয়ামীলীগ কাউকেই ছাড় দেয়নি তাদেরকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। আপনারা দেখেছেন হেলিকপ্টার থেকে শিশুদের ওপর গুলি করা হয়েছে। এই আন্দোলনে যারা আসছিল তাদের চাকরির কোন প্রয়োজন ছিল না। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্থ থেকে যারা জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল কেউ চাকরির জন্য করেনি। আপনারা প্রবাসীরা বাংলাদেশকে হৃদয়ে ধারণ করেন বলে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। যার ফলে দিল্লি থেকে পরিচালিত একটি দলকে বাংলাদেশ থেকে পালাতে হয়েছে। আমি ইউকে এনসিপি ডায়াসপোরা ফোরাম সহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই যারা রেমিটেন্স বন্ধ সহ বিভিন্ন ভাবে এই আন্দোলনে আমাদেরকে সাপোর্ট দিয়েছেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন আমি যত জায়গায় গিয়েছি সবার আতিথেয়তা পেয়েছি। কেই আমার কাছে কিছু চায়নি। সবার একটি চাওয়া আমরা যখন বাংলাদেশে যাই এয়ারপোর্টে আমাদের সাথে এমনভাবে আচরণ করা হয় মনে হয় আমরা এদেশের মানুষ না। আমাদের সাথে চোর ডাকাতের মতো আচরণ করা হয়। হাসনাত বলেন এটা আমাদের রাষ্ট্র কাঠামোর দুর্বলতা। আমাদের কাঠামোটা এভাবেই তৈরি করা হয়েছে যাদের পাওয়ার আছে তাদেরকে ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হয়, যারা বিদেশে টাকা পাচার করে বেগম পাড়া বানিয়েছে। তাদেরকে রাষ্ট্র পৃষ্টপোষকতা করে। আমাদের কাঠামোটা এমন যেখানে আপনাকে স্যার হইতে বাধ্য করা হবে। হাসনাত বলেন আমি যখন এয়ারপোর্টে আসলাম তখন আমাকে স্যার স্যার বলে তুলোধনি করলো। এর আগে যখন ডমেস্টিক ফ্লাইটে যেতাম তখন আমার সাথেও এরকম আচরন করা হতো না। হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রমিজ করে বলেন এখান থেকে যাওয়ার পর আমি আর কখনও ভিভিআইপি মর্যাদা নেব না, এটাই শেষ। যতদিন পর্যন্ত আমি সবার জন্য সমতা প্রতিষ্টা করতে না পারছি ততোদিন পর্যন্ত ভিভিআইপি সুবিধা নেব না। একই সাথে সকল বিমানবন্দরে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রদান এবং হয়রানী বন্ধ করা নিশ্চিত করবো।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন সিলেট বিমান বন্দরকে আধুনিকায়ন করা সহ পূর্নাজ্ঞ সুযোগ সুবিধা প্রদান, সিলেটের সাথে সকল যোগাযোগ আধুনিকায়নে আমি কথা বলবো।
হসাসনাত বলেন ৫৫ বছরের বাংলাদেশে মানুষের না পাওয়ার ক্ষোভ রয়েছে। আমরা চাই বাংলাদেশে এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক যেখানে আপনারা স্বাধীনভাবে সব কিছু করতে পারেন। হাসনাত এনসিপিকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করার আহবান জানান। তিনি বলেন বিদেশ যেন মানুষের স্বপ্ন না হয়। আমরা যাতে করে হাদী ভায়ের স্বপ্ন , আবরার ফাহাদ ও ফেলানিদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপি এলায়েন্স ইউকের আহবায়ক মাকসুদুল হক শাকুর। এতে বক্তব্য রাখেন কমিউনিটির ব্যক্তিত্ব ব্যারিষ্টার আতাউর রহমান, ব্যারিস্টার নাজির আহমদ, জামায়াতের মুখপাত্র আবু বকর মুল্লাহ, সাবেক কাউন্সিলর সাইফ উদ্দিন খালেদ, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা এহতেশামুল হক, ব্যারিস্টার জুনায়েদ, মহিলানেত্রী সহ শতাধিক নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের বাহির থেকে বিশৃংখূলার দায়ে আওয়ামীলীগের একাধিক কর্মীকে আটক করে পুলিশ।