বাংলাদেশশীর্ষ সংবাদ

প্রবাসী ভোটাধিকার বিষয়ে এনসিপির সংবাদ সম্মেলনঃ রাজনৈতিক ঐক্য না হওয়ার অজুহাতে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন শুরু করা হয়নি

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্টঃ আমার ভোট আমি দেব প্রবাস থেকেও অংশ নেবো কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রবিবার ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় নাগরিক পার্টির- এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের কো-অর্ডিনেটর তারিক আদনান মুন এই কর্মসূচী ঘোষণা করেন।

এতে ৩ দফা দাবি সহ ঘোষিত কমর্সূচীর মধ্যে রয়েছে ২৭ জুলাই থেকে ১৩ই আগস্ট – আমার ভোট আমি দেব, প্রবাস থেকেও অংশ নেব — সর্বাত্মক অনলাইন ক্যাম্পেইন, প্রবাসী গণজমায়েত, ও নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রবাসীর চিঠি প্রেরণ। ১৪ই আগস্টের মধ্যে রোডম্যাপ ও গাইডলাইন প্রকাশিত না হলে, ১৫, ১৬ ও ১৭ আগস্ট গ্লোবাল প্রটেস্ট – Diaspora Rising for Voting Rights।

জুলাই গণ অভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা দলটি রবিবার সংবাদ সম্মেলনে বলে, রাজনৈতিক ঐক্য না হওয়ার অজুহাতে এখনো প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন শুরু করা হয়নি। শুধুমাত্র কয়েকটি দেশে সীমিত পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে। পোস্টাল ব্যালট বা অনলাইন ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো কোন স্পষ্ট রোডম্যাপ, সময়সীমা বা গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়নি । যেসকল প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, অবকাঠামো, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রাকে বাঁচিয়ে রেখেছে তারা আজও ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত।

সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখে দেড় কোটিরও বেশি প্রবাসীদের পক্ষ থেকে এনসিপি এলায়েন্স বলে প্রবাসীরা কি দেশের নাগরিক নয়? তারা কি শুধু রেমিটেন্স পাঠানোর যন্ত্র? জুলাই বিপ্লব সহ বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রবাসীরা সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রেখেছে। প্রবাসীদের পাঠানো প্রতি মাসের ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স কেবল দেশের পরিবারকে নয়, দেশের অর্থনীতি বাঁচিয়ে রেখেছে।

এনসিপি অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনটি স্পষ্ট দাবি তুলে ধরা হয় :
প্রথমত:প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করতে হবে, এবং এই প্রক্রিয়ার একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ১৪ই আগস্টের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে ঘোষণা করতে হবে । যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, যাঁরা নতুন ভোটার, তাঁদের বিদেশে অবস্থানের তথ্য হালনাগাদ করার সুযোগ দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত: পোস্টাল ব্যালটে বা অনলাইনে প্রদত্ত ভোট যেন সময়মতো এবং স্বচ্ছতার সাথে গণনায় অন্তর্ভুক্ত হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। কীভাবে এই ব্যালটগুলো যাচাই হবে, কোথায় পাঠাতে হবে, তা স্পষ্টভাবে বলা জরুরি। বিশেষ করে জানাতে হবে:
● ভোট গণনার জন্য পোস্টাল ব্যালটগুলো কীভাবে যাচাই (verification) বা অনুমোদন (validation) করা হবে?
● এগুলো পাঠাতে হবে কোথায় (উদাহরণস্বরূপ: নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়, সংশ্লিষ্ট দূতাবাস, বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা)?
● ব্যালট পৌঁছানোর সময়সীমা ও গৃহীত ব্যালট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম কীভাবে নির্ধারিত হবে?
● প্রক্রিয়াটি যেন স্বচ্ছ হয় এবং কোনো ভোট যেন বাদ না পড়ে – তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কী ধরনের মনিটরিং বা ট্র্যাকিং ব্যবস্থা গ্রহণ করবে?

তৃতীয়ত: প্রবাসীদের ভোটাধিকার কার্যকর করার জন্য একটি স্থায়ী উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটি গঠন করতে হবে যা ২০২৬ পরবর্তী নির্বাচনগুলো নিয়েও দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করবে ।এই কমিটিতে প্রযুক্তিবিদ, আইনজ্ঞ, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও প্রবাসী প্রতিনিধিদের যুক্ত করতে হবে, এবং দীর্ঘমেয়াদে কাজ করতে হবে |

এতে বলা হয় এই প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল ও সময় সাপেক্ষ – অথচ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন না হলে ভোট আয়োজন সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়বে । আমাদের দূতাবাস ও কনসুলেট গুলতে এখনো নিবন্ধন শুরুর কোন কার্যকরী উদ্যোগ নেয়া হয়নি । এনিয়ে সকল প্রবাসীরা অনেক ধোঁয়াশার মধ্যে আছে।


Spread the love

Leave a Reply