প্রাক্তন টরি মন্ত্রী অ্যান উইডেকম্বকে হত্যার সন্দেহে এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার
ডেস্ক রিপোর্টঃ অ্যান উইডেকম্বকে হত্যার সন্দেহে ২৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডেভন ও কর্নওয়াল পুলিশ একজন “শ্বেতাঙ্গ পুরুষ”-এর সন্ধানে ছিল; বৃহস্পতিবার সকালে ডেভনের ডার্টমুরে নিজ বাড়িতে ৭৮ বছর বয়সী এই প্রাক্তন টরি মন্ত্রীর মৃতদেহ পাওয়া যায়।
এক সংবাদ সম্মেলনে সহকারী চিফ কনস্টেবল ম্যাট লংম্যান জানান, নিউটন অ্যাবটের একটি ঠিকানা থেকে এক শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, এই মৃত্যুকে সন্ত্রাসবাদী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
শুক্রবার সকালে যখন মিস উইডেকম্বের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, তখন স্বাভাবিক কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
তবে পুলিশ জানিয়েছে যে, ২০১০ সালে মেইডস্টোন অ্যান্ড দ্য উইল্ড-এর এমপি পদ থেকে অবসরের পর থেকে হেইটরের বাড়িতে একা বসবাসকারী মিস উইডেকম্ব গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন।
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মিস উইডেকম্ব ২০১৯ সালে টরি দল ছেড়ে ব্রেক্সিট পার্টিতে এবং পরবর্তীতে রিফর্ম ইউকে-তে যোগ দিয়েছিলেন। বুধবার তাঁকে ‘টক টিভি’-তে দেখা গিয়েছিল।
কী ঘটেছে?
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের (বিএসটি) দিকে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার পক্ষ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা ডার্টমুরের হেইটর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় উইডেকম্বের মৃতদেহ উদ্ধার করেন।
শুক্রবার সকালে তাঁর ব্যবস্থাপনা দল উইডেকম্বের মৃত্যুর খবর জানায়, তবে তিনি কখন, কীভাবে বা কোথায় মারা গেছেন কিংবা কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি ছিল কি না—সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
বিবৃতিতে আংশিকভাবে বলা হয়: “আমরা জানি, দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁর যেসব সহকর্মী ও বন্ধু তৈরি হয়েছিল, তাদের কাছে এই খবরটি বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে আসবে।”
শুক্রবার বিকেলে পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায় যে তারা একটি হত্যা মামলা তদন্ত শুরু করেছে এবং সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির বিবরণ প্রকাশ করেছে।
এরপর উইডেকম্বের ব্যবস্থাপনা দল আরেকটি বিবৃতি দেয়; এতে বলা হয়, “অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক ২৪ ঘণ্টা পার করার পর” পুলিশের তদন্তের খবরে তারা “গভীরভাবে মর্মাহত”।
বাড়িটিতে পুলিশের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে; বিবিসি-র একজন সংবাদদাতা জানিয়েছেন যে বাড়ির বাইরের রাস্তায় বেশ কয়েকটি পুলিশের গাড়ি এবং বাড়ির প্রবেশপথে একটি পুলিশ ভ্যান দেখা গেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জনসাধারণকে আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা “কোনো ধরনের জল্পনা-কল্পনা না করেন এবং পুলিশি তদন্ত এগিয়ে যেতে সহায়তা করেন”। এক্স (X)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি অ্যান উইডেকম্বের মৃত্যুর পরিস্থিতিকে “অত্যন্ত মর্মান্তিক” বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে তার “সমবেদনা অ্যানের পরিবার ও প্রিয়জনদের সাথে রয়েছে”।
এদিকে, ডেভন, প্লাইমাউথ এবং টরবের করোনারের (মৃত্যু তদন্তকারী কর্মকর্তার) কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে “প্রাথমিক তদন্ত চলছে”।
মানুষ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে?
উইডেকম্বের রাজনৈতিক জীবন ছিল কয়েক দশকব্যাপী—তিনি কেন্টের মেইডস্টোনের এমপি হিসেবে ২৩ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে জন মেজরের সরকারে স্বরাষ্ট্র দপ্তর ও কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন।
পুলিশি তদন্তের খবর পাওয়ার পর স্টারমার এটিকে “স্তম্ভিত করার মতো খবর” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন যে “এই কঠিন সময়ে” উইডেকম্বের পরিবারের প্রতি তার সহানুভূতি রয়েছে।
তিনি জানান, তিনি হাউস অফ কমন্সের স্পিকার লিন্ডসে হয়েল, কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক, রিফর্ম ইউকে-র নাইজেল ফারাজ এবং অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সাথে কথা বলেছেন এবং “সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন”।
ব্যাডেনক বলেন যে তিনি “হতবাক” এবং “ভাষা খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন”।
তিনি আরও বলেন: “অ্যান উইডেকম্ব ছিলেন অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও স্পষ্টভাষী একজন নারী, যিনি সবসময় নিজের মনের কথা বলতেন।
“তাঁর বয়স ছিল ৭৮ বছর। তিনি একজন বয়োজ্যেষ্ঠ নারী ছিলেন। আমি বুঝতে পারছি না কীভাবে কেউ একজন বয়স্ক মানুষের ওপর এমন ভয়াবহ কিছু করতে পারে।
“এটি ছিল একটি জঘন্য ও ভয়াবহ হামলা। তাঁর পরিবারের জন্য আমার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন: “কারও মৃত্যু এক বিষয়, কিন্তু তাঁকে যে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে—তা জানাটা সত্যিই মর্মান্তিক।”
উইডেকম্ব ১৯৪৭ সালে সমারসেটের বাথ (Bath)-এ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাটিন এবং পরবর্তীতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেন।
সংসদ থেকে বিদায় নেওয়ার পর তিনি শো-বিজ বা বিনোদন জগতে পা রাখেন; ২০১০ সালে ‘স্ট্রিক্টলি কাম ড্যান্সিং’ এবং ২০১৮ সালে ‘সেলিব্রিটি বিগ ব্রাদার’ অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা গিয়েছিল।
‘স্ট্রিক্টলি’-তে উইডেকম্বের নাচের সঙ্গী অ্যান্টন ডু বেক তাঁর মৃত্যুকে “সবচেয়ে দুঃখজনক খবর” বলে অভিহিত করেছেন। “আমরা একসঙ্গে দারুণ সময় কাটিয়েছি,” ‘এক্স’ (X)-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি এ কথা বলেন।
যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগের কট্টর সমর্থক উইডকম্ব ‘ব্রেক্সিট পার্টি’-র হয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য (এমইপি) নির্বাচিত হন এবং ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন।
২০২৩ সালে, ‘ব্রেক্সিট পার্টি’ নাম পরিবর্তন করে ‘রিফর্ম ইউকে’ (Reform UK) নাম ধারণ করার পর উইডকম্ব নাইজেল ফারাজের এই দলে যোগ দেন এবং অভিবাসন ও বিচার বিষয়ক মুখপাত্র হিসেবে দলের হয়ে বেশ কয়েকবার জনসমক্ষে উপস্থিত হন।