ফকল্যান্ডে তেল খননকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা
ডেস্ক রিপোর্টঃ ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে প্রথম বাণিজ্যিক তেল খনন প্রকল্পের সাথে জড়িত একটি ইসরায়েলি জ্বালানি কোম্পানির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা।
হাভিয়ের মিলেই-এর সরকার নিশ্চিত করেছে যে, তারা ওই অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ‘নাভিটাস পেট্রোলিয়াম’-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের পাশাপাশি তাদের করপোরেট পরিচালকদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবে।
গত বৃহস্পতিবার আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে এই পদক্ষেপের কথা জানান। সেখানে তিনি ব্রিটিশ শাসিত এই অঞ্চলে তেল খননকারী কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের অঙ্গীকার করেন এবং একই সাথে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির সার্বভৌমত্বের দাবি আরও জোরালো করেন।
মন্তব্যের অনুরোধে নাভিটাস তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি।
সরকারের অভিযোগ, নর্থ ফকল্যান্ড বেসিনে ব্রিটেন কর্তৃক ইস্যুকৃত হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান ও উত্তোলনের লাইসেন্স গ্রহণ করে কোম্পানিগুলো আর্জেন্টিনার আইন লঙ্ঘন করেছে।
ফকল্যান্ডে তেল ও গ্যাস কার্যক্রমের সাথে জড়িত কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন পদক্ষেপ ঘোষণার সময় গত সপ্তাহে মিলেই বিশেষ করে ‘সি লায়ন’ (Sea Lion) অফশোর তেল প্রকল্পটির কথা উল্লেখ করেছিলেন।
‘সি লায়ন’ ক্ষেত্রটি তেল আবিব-ভিত্তিক কোম্পানি ‘নাভিটাস পেট্রোলিয়াম’ পরিচালনা করে এবং এতে তাদের ৬৫ শতাংশ মালিকানা রয়েছে।
এটি ফকল্যান্ডের উত্তরে ১৩৬ মাইল দূরে অবস্থিত; এর অবস্থান প্রায় ৫০০ মিটার পানির নিচে এবং আরও ২,০০০ মিটার পাথরের স্তরের নিচে। আধুনিক খনন পদ্ধতি ব্যবহার করে এখানে পৌঁছানো তুলনামূলকভাবে সহজ।
ইসরায়েলের জ্বালানি খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং কোম্পানিটির চেয়ারম্যান গিডিয়ন ট্যাডমোর এর প্রায় ৯ শতাংশ মালিকানার অংশীদার।
আর্জেন্টিনার ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ফকল্যান্ডে খনন কাজের প্রস্তুতি নেওয়া তেল কোম্পানিগুলো গত সপ্তাহে প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছিল।
নাভিটাস জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার ফলে ফকল্যান্ডের জলসীমায় খনন কাজে কোনো প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছে না।
এদিকে, বিশাল ‘সি লায়ন’ তেল ক্ষেত্রটি আবিষ্কারকারী ও এর অংশীদার ব্রিটিশ কোম্পানি ‘রকহপার এক্সপ্লোরেশন’-ও জানিয়েছে যে, তারা কোনো বিলম্বের আশঙ্কা করছে না।
তবে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে, বুয়েনস আইরেস ফকল্যান্ড পুনরুদ্ধারের প্রচারণাকে আরও জোরদার করছে—যার অন্যতম কারণ হলো ওই জলসীমায় আবিষ্কৃত বিপুল পরিমাণ তেলের মজুদ।
নাভিটাস ও রকহপারের উপার্জিত অর্থের একটি অংশ ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জেই যাবে; দ্বীপের প্রতিটি বাসিন্দার জন্য মাথাপিছু ১ মিলিয়ন পাউন্ড সমমূল্যের বিশাল আয়ের আশা করা হচ্ছে। মুনাফার বাকি অংশ ‘রকহপার’ (Rockhopper) ও ‘নাভিটাস’ (Navitas)-এর শেয়ারহোল্ডারদের কাছে চলে যাবে; এর কোনো কিছুই আর্জেন্টিনার হাতে পৌঁছাবে না।
টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে মি. মিলেই ব্রিটেনকে একটি ‘পতনোন্মুখ’ দেশ হিসেবে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন যে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ‘বিজয়ী’ হবে।
তিনি বলেন, “বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পরিস্থিতি আমাদের দাবির অনুকূলে রয়েছে।”
“ফকল্যান্ড আমাদের ভবিষ্যৎ—জাতীয় স্বার্থের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপগুলোকে আমাদের পুনরুদ্ধার করতেই হবে। এছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই।”
এই ভাষণের পর যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে যুক্তরাজ্য ‘দৃঢ়ভাবে সমুন্নত রাখবে’।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, ফকল্যান্ডের প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতি ‘অবিচল ও অটুট’।