ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার—বললেন নেতানিয়াহুর ছেলে
ডেস্ক রিপোর্টঃ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ঘোষণা করেছেন যে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার।
শুক্রবার, ৩৫ বছর বয়সী পডকাস্টার ও রাজনৈতিক কর্মী ইয়াইর নেতানিয়াহু ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ স্প্যানিশ ভাষায় পোস্ট করেন, “ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার।”
‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, ব্রিটেন যদি তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় না বাড়ায়, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দাবির প্রতি সমর্থন জানাতে পারেন—এই খবর প্রকাশের পরই তিনি এমন মন্তব্য করেন।
নেতানিয়াহুর কোনো সরকারি পদ নেই, তবে ইসরায়েল এবং প্রবাসী ইহুদিদের ডানপন্থী মহলে তিনি একজন প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর।
ইসরায়েল ও আর্জেন্টিনার মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে; এর কারণ হলো ইসরায়েলে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক আর্জেন্টাইন-ইহুদি জনগোষ্ঠী এবং আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের নেতৃত্ব। মিলেই ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক, ট্রাম্পের মিত্র এবং ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’-এর সদস্য।
এর বিপরীতে, ইহুদি রাষ্ট্রটির সঙ্গে লন্ডনের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড ও পশ্চিম তীরে সহিংসতার বিষয়ে লেবার সরকারের ধারাবাহিক সমালোচনা এবং গত বছর ব্রিটেনের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি।
পশ্চিম তীরের বসতিগুলোর বিরুদ্ধে ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞার নতুন একটি প্যাকেজ ঘোষণার হুমকির মুখেও রয়েছে ইসরায়েল; বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ইসরায়েলের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
হোয়াইটহলের সূত্রগুলো ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-কে জানিয়েছে যে, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হতে পারে।
গত জুলাই মাসে আইনজীবী ও ‘রিপাবলিকানস ওভারসিজ ইসরায়েল’-এর চেয়ারম্যান মার্ক জেল তাঁর দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন যেন তারা ট্রাম্পকে দিয়ে আর্জেন্টিনার দাবির পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা (লবিং) করে। ইরান-বিরোধী যুদ্ধে যোগ না দেওয়ার মাধ্যমে ব্রিটেন যে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তার জবাবেই তিনি এই পদক্ষেপের কথা বলেছিলেন।
সে সময় ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আর্জেন্টিনার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসরায়েলের লবিং করার সম্ভাবনাকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি।
তবে প্রধানমন্ত্রীর ছেলের এই নতুন বক্তব্য ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন ডানপন্থী মহলে সেই ধারণাকেই আরও জোরালো করে তুলবে।
সোমবার নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন: “ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ—আপনাদের উপকূল থেকে ৮ হাজার মাইল দূরের একগুচ্ছ পাথুরে দ্বীপ—সেটা নিয়ে আমার মন্তব্যে আপনারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন? ভালোই হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন: “এবার কল্পনা করুন, আমাদের পৈতৃক ভূমি জুডিয়া ও সামারিয়ার (পশ্চিম তীর) ওপর আপনাদের সরকারের ‘ফিলিস্তিন’-কে স্বীকৃতি দেওয়া, আমাদের রাজধানী জেরুজালেম ও গোলান মালভূমির ওপর আমাদের সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করা এবং আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ক্রমাগত হস্তক্ষেপ ও আমাদের দেশের সমালোচনা—এসব বিষয়ে আমরা ইসরায়েলিরা কেমন অনুভব করি।” এরপর মি. নেতানিয়াহু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির ওপর বোমা হামলার জন্য ব্রিটেনকে সমালোচনার মুখে ঠেলে দেওয়ার মতো মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেন জার্মানিকে প্রায় মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছিল এবং লক্ষ লক্ষ জার্মান বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছিল। আফগানিস্তান ও ইরাকে ব্রিটিশ বাহিনীর হাতে হতাহতের সংখ্যা গাজার তুলনায় অনেক বেশি ছিল—অথচ ওই দেশগুলোর কোনোটিই ব্রিটেনকে আক্রমণ করেনি বা ব্রিটেনের জন্য কোনো প্রত্যক্ষ হুমকি হয়ে ওঠেনি।”
আর্জেন্টিনা ইসরায়েলে ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের ওপর তাদের দাবির পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবলো কুইর্নো গত জুলাই মাসে ‘জেরুজালেম পোস্ট’-এ বুয়েনস আইরেসের দাবির সপক্ষে একটি দীর্ঘ নিবন্ধ লিখেছিলেন।
এই নিবন্ধের জবাবে তেল আবিবে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সাইমন ওয়ালটার্স পাল্টা বক্তব্য দেন এবং আর্জেন্টিনীয় মন্ত্রীকে “ঐতিহাসিক মিথ্যা” প্রচারের দায়ে অভিযুক্ত করেন।
এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি কর্মকর্তারা কিরিয়াত গাতে গাজা যুদ্ধবিরতি তদারককারী আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর থেকে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছেন। এর আগে “ইসরায়েল-বিরোধী” নীতির অভিযোগে স্পেন ও নেদারল্যান্ডসের কর্মকর্তাদের বহিষ্কার করা হয়েছিল।