ফাসলেন পারমাণবিক ঘাঁটিতে প্রবেশের চেষ্টায় এক ইরানি ব্যক্তি গ্রেপ্তার

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্টঃ যুক্তরাজ্যের পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত সাবমেরিনের ঘাঁটি ফাসলেন নৌঘাঁটিতে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে এক ইরানি পুরুষ ও এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ স্কটল্যান্ড জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রায় বিকেল ৫টার দিকে এইচএম নেভাল বেস ক্লাইড থেকে ৩৪ বছর বয়সী এক পুরুষ ও ৩১ বছর বয়সী এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মহিলাটির জাতীয়তা জানা যায়নি।

রয়্যাল নেভি জানিয়েছে, সন্দেহভাজনরা আর্গিল অ্যান্ড বুটের হেলেনসবার্গের কাছে অবস্থিত ঘাঁটিটিতে প্রবেশের “ব্যর্থ চেষ্টা” করেছিল।

একজন মুখপাত্র আরও বলেন: “যেহেতু বিষয়টি একটি চলমান তদন্তাধীন, তাই আমরা এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করব না।”

জানা গেছে, ওই দুজন জোর করে ঘাঁটিতে প্রবেশের চেষ্টা করেননি।

তারা প্রবেশের অনুমতি চেয়েছিলেন, কিন্তু অনুমতি না পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্রেপ্তার হন। পুলিশ স্কটল্যান্ড জানিয়েছে, তাদের তদন্ত চলমান রয়েছে।

ফাসলেন হলো রয়্যাল নেভির সমস্ত পারমাণবিক সাবমেরিনের ঘাঁটি, যার মধ্যে ট্রাইডেন্ট পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী ভ্যানগার্ড-শ্রেণির ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিনও রয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করার পর এই গ্রেপ্তারগুলো করা হয়।

ইরান এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, যুক্তরাজ্য তার সন্ত্রাসবাদের হুমকির মাত্রা পর্যালোচনা করছে। এটি এখনও ‘সাবস্ট্যানশিয়াল’ বা ‘উল্লেখযোগ্য’ পর্যায়ে রয়েছে, যার অর্থ একটি হামলা ‘সম্ভাব্য’।

প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার বলেছেন, যুক্তরাজ্য “ব্রিটিশ ঘাঁটি এবং কর্মীদের জন্য সুরক্ষা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে।”

তিনি শুধু মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরের ঘাঁটিগুলোর কথা বলছিলেন, নাকি দেশে ও বিদেশের সমস্ত ঘাঁটির কথা বলছিলেন, তা স্পষ্ট ছিল না।

গ্যার লক-এর তীরে অবস্থিত ফাসলেন ঘাঁটিটি দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পেইন ফর নিউক্লিয়ার ডিসআর্মামেন্ট (সিএনডি)-এর মতো গোষ্ঠীগুলোর যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

১৯৮২ সাল থেকে এই স্থানটির ঠিক বাইরে একটি শান্তি শিবির অবস্থিত।

ফাসলেনের চারটি ভ্যানগার্ড সাবমেরিন হলো যুক্তরাজ্যের পারমাণবিক অস্ত্রের একমাত্র প্ল্যাটফর্ম এবং ২০৩০ সালের পর নতুন ড্রেডনট-শ্রেণির সাবমেরিন দ্বারা এগুলো প্রতিস্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এটি অ্যাস্টিউট-শ্রেণির পারমাণবিক শক্তিচালিত কিন্তু প্রচলিত অস্ত্রে সজ্জিত আক্রমণকারী সাবমেরিনগুলোরও ঘাঁটি।

যুক্তরাজ্যের পারমাণবিক ওয়ারহেডের মজুদ নিকটবর্তী লখ লং-এর তীরে অবস্থিত রয়্যাল নেভাল আর্মামেন্টস ডিপো (আরএনএডি) কুলপোর্টে রাখা আছে।

যুক্তরাজ্য ১৯৬৯ সাল থেকে সমুদ্রে নিরবচ্ছিন্ন প্রতিরোধ ব্যবস্থা পরিচালনা করে আসছে। প্রথমে পোলারিস এবং পরে ট্রাইডেন্ট ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনে মজুত রাখা হয় এবং সেখান থেকেই উৎক্ষেপণ করা হয়, যেগুলোর সমুদ্রে কয়েক মাস ডুবে থাকার ক্ষমতা রয়েছে।


Spread the love

Leave a Reply