ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ কবে শুরু হবে, খেলার সময়, কোন দেশে কোন খেলা
ডেস্ক রিপোর্টঃ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ এর জন্য কাউন্টডাউন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, যে টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশগ্রহণ করবে এবং সবমিলিয়ে ১০০টিরও বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্বকাপের এই ২৩তম আসরটি ১১ই জুন থেকে ১৯শে জুলাই পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে।
২০২৬ সালের ট্রফির জন্য রেকর্ড সংখ্যক ৪৮টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যা চার বছর আগে কাতারে অংশগ্রহণকারী দলের চেয়ে ১৬টি বেশি।
এর ফলে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে এবং ম্যাচসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১০৪-এ, যা প্রথমবারের মতো তিনটি দেশে অনুষ্ঠিত হবে।
খানে উত্তর আমেরিকায় আয়োজিত এই বিশ্বকাপ সম্পর্কে জানার মতো বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।
১২টি গ্রুপ কীভাবে হবে?
এই বিশ্বকাপে নতুন ফরম্যাটে চার দলের ১২টি গ্রুপ থাকবে।
প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং আটটি সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দল নকআউট পর্যায়ে উঠবে।
সেরা তৃতীয় স্থান নির্ধারণে পয়েন্ট, গোল পার্থক্য এবং মোট গোল—এই তিনটি মানদণ্ড প্রধান হিসেবে বিবেচিত হবে।
কখন অনুষ্ঠিত হবে?
এবারের বিশ্বকাপের আসর ১১ই জুন থেকে ১৯শে জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
এর মানে হলো, এটি রেকর্ড সংখ্যক ৩৯ দিন ধরে চলবে, যা কাতারের ২৯ দিন এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালের আসরের ৩২ দিনের চেয়ে ১০ দিন বেশি।
বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনী দিন থেকে ২৭শে জুন, শনিবার পর্যন্ত ১৭ দিনে মোট ৭২টি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর অনুষ্ঠিত হবে ৩২ দলের পর্ব (২৮শে জুন-৩রা জুলাই), তারপরে ১৬ দলের পর্ব (৪ঠা-৭ই জুলাই), কোয়ার্টার-ফাইনাল (৯ই-১১ই জুলাই), সেমি-ফাইনাল (১৪ই-১৫ই জুলাই) এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ (১৮ই জুলাই)।
আগামী ১৯শে জুলাই, রবিবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের হাতে কাপ তুলে দেওয়া হবে।
কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
এই বিশ্বকাপ প্রথমবারের মতো তিনটি দেশের ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে: যুক্তরাষ্ট্রে ১১টি, মেক্সিকোতে তিনটি এবং কানাডায় দুটি।
যেহেতু ফিফা স্টেডিয়ামের জন্য আগে থেকে বিদ্যমান বাণিজ্যিক নাম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাই ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ভেন্যুগুলোর নামকরণ আয়োজক শহরের নামে করা হবে।
মেক্সিকোতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে, যেটি বিশ্বকাপের তিন সংস্করণ আয়োজনকারী প্রথম ভেন্যু হিসেবে ইতিহাস গড়বে। এর পাশাপাশি ম্যাচ হবে গুয়াদালাহারা এবং মন্টেরেতেও।
কানাডায় দুটি স্থানে খেলা হবে, টরন্টো এবং ভ্যাঙ্কুভারে।
বিশ্বকাপের প্রধান আয়োজক হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানকার আটলান্টা, বোস্টন, ডালাস, হিউস্টন, কানসাস সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, মিয়ামি, নিউ ইয়র্ক বা নিউ জার্সি, ফিলাডেলফিয়া, সান ফ্রান্সিসকো বা সান্তা ক্লারা এবং সিয়াটলে খেলা হবে।
খেলার সময়সূচি
যেহেতু ম্যাচগুলো চারটি ভিন্ন টাইম জোনে এবং ৪,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে অবস্থিত ভেন্যুগুলোতে খেলা হবে, তাই মোট ১৩টি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ম্যাচ শুরু হবে।
আমেরিকাই হবে সেই মহাদেশ, যারা সবচেয়ে সহজে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারবে, কারণ সব ম্যাচ নিজ নিজ ভেন্যুতে দুপুর ১টার আনুষ্ঠানিক বাঁশি বাজার পর থেকে মধ্যরাতে খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
কিন্তু আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে এবং ব্রাজিলের বেশিরভাগ অংশের ক্ষেত্রে, যদি তারা দিনের শেষ ম্যাচগুলো দেখতে চায়, তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের ভোর চারটার পরেও জেগে থাকতে হবে।
অন্যান্য মহাদেশের ক্ষেত্রে সময় ভিন্ন হবে। ইউরোপে বেশিরভাগ ম্যাচ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের দিন ভোর ৫টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। পূর্ব এশিয়া ও ওশেনিয়ায় এগুলো মূলত ভোরবেলা দেখানো হবে।
