ফোন ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে রেকর্ড সংখ্যক ই-বাইক জব্দ করল মেট্রোপলিটন পুলিশ
ডেস্ক রিপোর্টঃ ফোন ছিনতাইকারীদের দমনে বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এ বছর লন্ডনের রাস্তায় রেকর্ড সংখ্যক অবৈধ ই-বাইক ও ই-স্কুটার জব্দ করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ।
গতিসীমা লঙ্ঘনকারী যানবাহনগুলো বাজেয়াপ্ত করার লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনী এখন নতুন ধরনের ‘টেস্টিং কিট’ বা পরীক্ষা করার সরঞ্জাম ব্যবহার শুরু করেছে।
ফোন চুরি প্রতিরোধের লক্ষ্যে মেট্রোপলিটন পুলিশের নেওয়া বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘অপারেশন লেক্সান্ড’ (Operation Lexand) পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানের আওতায় শুক্রবার টটেনহ্যাম কোর্ট রোড স্টেশনের কাছে ২৯টি ই-বাইক ও সাতটি ই-স্কুটার জব্দ করা হয়।
রাজধানীতে এ ধরনের অভিযান এটিই সপ্তম; এছাড়া গ্রীষ্মকালজুড়ে আরও পাঁচটি অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে মেট্রোপলিটন পুলিশ এ পর্যন্ত ২,৫০০-এরও বেশি অবৈধ ই-বাইক ও ই-স্কুটার জব্দ করেছে, যা গত পুরো বছরে জব্দ করা ২,২৪১টি যানের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, এই অভিযানের ফলে ‘ওয়েস্ট এন্ড’ (West End) এলাকায় ফোন চুরির ঘটনা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। উল্লেখ্য, ওই এলাকায় অবৈধ ই-বাইক ব্যবহারকারী চোরদের দ্বারা ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলছিল।
অভিযান তদারককারী কমান্ডার নীরব প্যাটেল বলেন: “আমরা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছি যে, ই-বাইকের অপরাধমূলক ও সমাজবিরোধী ব্যবহারে লন্ডনের বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।”
“আমরা স্বীকার করি যে ই-বাইকের ব্যবহার সম্পূর্ণ বৈধ হতে পারে, কিন্তু এমন অনেক মানুষ আছেন যারা অপরাধমূলক ও সমাজবিরোধী কাজে এগুলো ব্যবহারের জন্য তৎপর। আমরা জানি যে ফোন ছিনতাইয়ের কাজে ই-বাইক ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে লন্ডনের এই অংশে।” কোনো বাহন বেআইনি কি না তা যাচাই করতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে; এর মাধ্যমে দেখা হচ্ছে যে বৈদ্যুতিক সহায়তাযুক্ত প্যাডেল, ব্যাটারি বা থ্রটলের সাহায্যে বাহনটি ঘণ্টায় ১৫.৫ মাইলের বেশি গতিতে চলতে সক্ষম কি না।
টটেনহ্যাম কোর্ট রোড স্টেশনের কাছাকাছি দুটি স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল—যেখানে ই-বাইকের চলাচল এবং ফোন চুরির ঘটনা অস্বাভাবিকভাবে বেশি। সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ সদস্যরা বাইকচালকদের থামানো এবং বাইকের গতি পরীক্ষার কাজে সহায়তা করছিলেন।
যদি বাইকের গতি নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া যেত এবং চালকের যথাযথ লাইসেন্স বা বিমা না থাকত, তবে বাইকগুলো বাজেয়াপ্ত করা হতো। মালিকদের সঠিক নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য ১৪ দিন সময় দেওয়া হতো; এরপর বাহনগুলো থেকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে বাকি অংশ ধ্বংস (ক্রাশ) করে ফেলা হতো।
শুক্রবার পরিচালিত এই অভিযানে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—যার মধ্যে একজন জরুরি সেবাকর্মীর ওপর হামলার দায়ে এবং অন্যজন জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ, চুরি ও কারাগার থেকে মুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের (রিকল টু প্রিজন) দায়ে অভিযুক্ত।
দেশের মাত্র দুটি পুলিশ বাহিনীর একটি হিসেবে ‘মেট’ (লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ)—নটিংহামশায়ার পুলিশের পাশাপাশি—এই “রোলিং রোডস” প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
তাদের কাছে দুটি ‘ডাইনোস্টার’ (Dynostar) এবং দুটি বহনযোগ্য ‘ওয়েঙ্গার’ (Wenger) টেস্ট কিট রয়েছে। এগুলো ট্রেডমিলের মতো কাজ করে এবং দ্রুত যাচাই করতে পারে যে কোনো বাহন আইনসম্মত কি না।
পুলিশ সন্দেহভাজন বা নিয়মবহির্ভূত বাইকগুলোকে থামিয়ে পরীক্ষা করতে পারে। সাধারণত যেসব বিষয়কে সতর্কবার্তা বা ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবে দেখা হয় তার মধ্যে রয়েছে—অতিরিক্ত গতি, প্যাডেল না চালিয়েই দ্রুত চলার সুযোগ করে দেয় এমন থ্রটলের ব্যবহার এবং বড় আকারের বা বাইরে থেকে আলাদাভাবে যুক্ত করা (স্ট্র্যাপ-অন) ব্যাটারি।