ফ্রান্সের বিপক্ষে ১০ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পর তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড
ডেস্ক রিপোর্টঃ ফ্রান্সের বিপক্ষে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে প্রথমার্ধেই চার গোলের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর, ঠিক যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে—থমাস টুখেল হয়তো এমন কিছুর আশঙ্কা করেননি।
১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে দেশের সেরা সাফল্য নিশ্চিত করার পথে ইংল্যান্ডকে তখন এক দাপুটে জয়ের দিকে এগোতে দেখা যাচ্ছিল; অথচ আবারও সেই একই দৃশ্যপট—ম্যাচের শেষ ‘হাইড্রেশন ব্রেক’-এর সময় মাত্র এক গোলের লিড। তবে এবার, ভাগ্যিস, তারা জয়টা ছিনিয়ে নিতে পেরেছিল।
আটলান্টায় দলের সেই বিপর্যয়ের ঘটনা থেকে ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টুখেল কোনো শিক্ষা নিয়েছেন কি না, তা যাচাই করার এটি ছিল এক উপযুক্ত সুযোগ। তিনি কি রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ভিড় বাড়িয়ে দেবেন? দল কি কেবল রক্ষণাত্মক হয়েই বসে থাকবে? আর শেষ পর্যন্ত কি ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ ভেঙে পড়বে?
এবার আর ড্যান বার্নকে জরুরি তলব (SOS) করার প্রয়োজন পড়েনি; বরং রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের সমান সংখ্যক আক্রমণভাগের খেলোয়াড় নিয়েই ইংল্যান্ড ম্যাচটি শেষ করে। শেষ পর্যন্ত কোনোমতে টিকে থেকে তারা টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থানটি নিশ্চিত করে। এক ধরনের অগ্রগতিই বটে।
তবে বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিক এবং ডেক্লান রাইস, এজরি কনসা ও জুড বেলিংহামের গোলের সুবাদে পাওয়া এই জয়টি টুখেলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেবে—বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সেই মুহূর্তগুলোতে তাঁর নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে। আর সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো, কেন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পুরো ম্যাচটি সাকাকে সাইডলাইনে বসে কাটাতে হয়েছিল।

পাগলাটে এক ম্যাচ। প্রথমার্ধ শেষে ৪ গোলে পিছিয়ে ছিল ফ্রান্স। তবে দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ২১ মিনিটে তিন গোল শোধ করে ম্যাচে ফিরে ফরাসিরা। তবে ম্যাচের শেষ হাসি হেসেছে ইংল্যান্ড। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বুকো সাকার হ্যাটট্রিকে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়েছে ইংলিশরা।
ম্যাচের ৩ মিনিটেই প্রথম গোলের দেখা পায় ইংল্যান্ড। মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে বেশ খানিকটা দৌড়ে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দারুণ শটে গোল করেন ডেক্লান রাইস।
এরপর ম্যাচের ১২ মিনিটে আবারও ফ্রান্সের জালে বল জড়ায় ইংল্যান্ড। তবে কায়ো সাকার সেই গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। এরপর ম্যাচের ১৮ মিনিটে ঠিকই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ইংল্যান্ড। রাইসের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন এজরা কনসা।
এরপর ম্যাচের ৩৭ মিনিটে স্কোরশিটে নাম লেখেন সাকা। মার্কাস রাশফোর্ডের পাস থেকে বল জালে জড়ান তিনি। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ে কনসার পাস থেকে বাঁ পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান সাকা। এতে ৪-০ গোলের বড় লিড নিয়ে বিরতিতে যায় ইংল্যান্ড।
বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৪৮ মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে গোল পায় ফ্রান্স। মাইকেল ওলিসের পাস থেকে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এরপর ম্যাচের ৫৪ মিনিটে এমবাপ্পে পাস থেকে দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোল করেন বারকোলা।
এরপর ম্যাচের ৬৬ মিনিটে ওলিসের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপ্পে। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার দশম গোল। সেইসঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়লেন তিনি।
এরপর ম্যাচের ৮৪ মিনিটে জেড স্পেনসকে বক্সের ভেতরে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। স্পট কিক থেকে বল জালে জড়িয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাকা। এরপর যোগ করা সময়ে গোল করে ব্যবধান কমান উসমান ডেম্বেলে।
তবে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে মাঝমাঠ থেকে বল টেনে নিয়ে বক্সে ঢুকে গোল জুড বেলিংহাম। এটি বিশ্বকাপে তার ৭ম গোল। শেষ পর্যন্ত ৬-৪ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংলিশরা।


