বার্নহ্যামের অধীনে যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটি থেকে ইরানে বোমা হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র
ডেস্ক রিপোর্টঃ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন নতুন করে হামলা চালানোর অভিযান জোরদার করছেন, তখন ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র একটি ব্রিটিশ ঘাঁটি থেকে বি-১ (B1) বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে।
‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-এর তথ্যমতে, সংঘাত শুরুর পর এই প্রথম ওয়াশিংটন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে এই দূরপাল্লার বিমানটি ব্যবহার করল।
বি-১ বিমানটি—যা ২৪টি ২,০০০ পাউন্ড ওজনের বোমা বহন করতে সক্ষম—মঙ্গলবার গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে তার অভিযান শুরু করে এবং বিমান চলাচলের গতিপথ পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইটগুলোতে সেটিকে দেখা যায়।
অ্যান্ডি বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যের কোনো ঘাঁটি থেকে কোনো অভিযান পরিচালনা করল।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্নহাম ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’র জন্য চাগোস দ্বীপপুঞ্জের দিয়েগো গার্সিয়া বিমানঘাঁটি এবং আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে স্যার কিয়ার স্টারমারের নীতি অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন।
তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই এই অবস্থানের বিরোধিতা করে আসছেন, যার ফলে তাঁর নিয়োগ নিয়ে হোয়াইট হাউসে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন বোমারু বিমানের জন্য যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি ব্যবহারের বিরুদ্ধে বিরোধিতার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যা স্যার কিয়ার এবং ট্রাম্পের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিল।
বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে ইরান প্রতিটি জাহাজে হামলা চালালে তার জবাবে তিনি কোনো সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানবেন।
অ্যান্ডি বার্নহাম ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’র জন্য চাগোস দ্বীপপুঞ্জের দিয়েগো গার্সিয়া বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছেন।
হরমুজ থেকে প্রায় ৭০০ মাইল দূরে ইরাক-সংলগ্ন শালামচেহ সীমান্ত ক্রসিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক রাতের হামলায় দুজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন; ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন শিয়া ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে পবিত্র ইরাকি স্থানগুলোতে প্রবেশের জন্য অনেক সাধারণ মানুষ সেখানে সমবেত হচ্ছিলেন।
এর জবাবে তেহরান ‘চোখের বদলে চোখ’ বা সমোচিত প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকি দিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন: “আমাদের প্রতিরক্ষা নীতি স্পষ্ট: চোখের বদলে চোখ।
“ইরানের বিরুদ্ধে—আমাদের অবকাঠামোসহ—যেকোনো আগ্রাসন একটি শক্তিশালী ও চূড়ান্ত জবাব দিতে আমাদের বাধ্য করবে।
“যারা এ ধরনের আগ্রাসনে সহায়তা করবে—যেকোনো ধরনের সমর্থনই হোক না কেন—তাদেরও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করা হবে।” ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থাকে একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে যে, পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাবে।
‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র এই ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির বিরুদ্ধে তাদের অভিযান জোরদার করার কথা বিবেচনা করছে এবং এর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী বাহিনী, চিকিৎসা কর্মী ও অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন করছে।
একজন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরো অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধবিমানের বিভিন্ন স্কোয়াড্রন মোতায়েন করা হয়েছে এবং অভিযান জোরদার করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিতে থাকা বোমারু বিমানগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।
সপ্তাহান্তে চারজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর, আহত সেনাদের চিকিৎসার প্রধান কেন্দ্র জার্মানির ল্যান্ডস্টুল রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে ১৫০ জনেরও বেশি চিকিৎসা কর্মীকে পাঠানো হয়েছে।
যুদ্ধের ব্যয় ক্রমাগত বাড়তে থাকায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তাঁর এই ব্যয়বহুল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি প্রতিরক্ষা নীতি বিল পাস করেছে।
এই বাজেট প্রস্তাবটি পেন্টাগন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য অতিরিক্ত ৭৩ বিলিয়ন ডলার তহবিল বরাদ্দ করতে সহায়তা করবে, যার বড় অংশই ব্যয় হবে সংঘাতজনিত বিভিন্ন খরচের জন্য।
রিপাবলিকানরা দলীয় আনুগত্যের পরিচয় দিয়ে ডেমোক্র্যাটদের আপত্তি উপেক্ষা করেছে। ডেমোক্র্যাটরা যুক্তি দেখিয়েছিল যে, কংগ্রেস ট্রাম্পের যুদ্ধকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে—যে যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
ইরানও তাদের পাল্টা হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে ক্ষয়ক্ষতি সাধনের ক্ষেত্রে আরও উন্নত সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে।
‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি স্থাপনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, এসব হামলায় সেনাদের থাকার জায়গা, কর্মক্ষেত্র, ড্রোন রাখার আস্তানা, রাডার ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে বা ধ্বংস হয়ে গেছে বলে ট্রাম্প প্রশাসন যে দাবি বারবার করে আসছে, এই ঘটনাপ্রবাহ তার সম্পূর্ণ বিপরীত।