শীর্ষ সংবাদব্রিটেনের সংবাদ

বার্নহ্যামের প্রথম বড় নীতিগত প্রতিশ্রুতি: বাতিল হতে চলেছে ডিজিটাল আইডি পরিকল্পনা

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্টঃ সোমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অ্যান্ডি বার্নহ্যাম যুক্তরাজ্যের সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের জন্য সরকারি ডিজিটাল আইডি চালুর পরিকল্পনা বাতিল করবেন।

বার্নহ্যামের কার্যালয় জানিয়েছে, উত্তর সাগরে নতুন করে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের পরিকল্পনার পর নেওয়া এই পদক্ষেপটি দেশের মানুষের দৈনন্দিন অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগ নিবদ্ধ করবে।

স্যার কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে সরকার এর আগেই যুক্তরাজ্যের কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক ডিজিটাল আইডি চালুর প্রস্তাবগুলো কিছুটা শিথিল করেছিল।

এখন এই পরিকল্পনাটি পুরোপুরি বাতিল করার বিষয়ে বার্নহ্যামের মুখপাত্র বলেন, “জাতীয় আইডি প্রকল্পের পেছনে যে সময় ও সম্পদ ব্যয় হওয়ার কথা ছিল, তা এখন সবচেয়ে প্রয়োজনীয় খাতগুলোতে—যেমন জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে সহায়তা করার কাজে—ব্যয় করা হবে।”

“সরকারি সম্পদের এই নতুন বিন্যাস ব্যয়বহুল জাতীয় সরকারি প্রকল্পের পরিবর্তে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার দিকে একটি নতুন যাত্রাপথ নির্দেশ করে।”

গত বছর লেবার পার্টির সম্মেলনের আগে স্যার কিয়ারই মূলত ডিজিটাল আইডি প্রকল্পের পরিকল্পনাটি সামনে এনেছিলেন।

সে সময় তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক ডিজিটাল আইডি থাকলে অবৈধভাবে কর্মরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করা সহজ হবে।

অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলার পাশাপাশি স্যার কিয়ার বলেছিলেন, ডিজিটাল আইডি ব্যবস্থা থাকলে নাগরিকদের বিভিন্ন পরিষেবার জন্য ইউটিলিটি বিল বা নথিপত্র খোঁজার ঝামেলা পোহাতে হবে না; বরং তারা সহজেই নিজেদের পরিচয় প্রমাণ করে দ্রুত সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

গত নভেম্বরে ‘অফিস ফর বাজেট রেসপন্সিবিলিটি’ (OBR) প্রাক্কলন করেছিল যে, এই কর্মসূচিতে তিন বছরে ১.৮ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ হবে; তবে ডাউনিং স্ট্রিট এই হিসাব প্রত্যাখ্যান করেছিল।

জানুয়ারি মাসে, ডিজিটাল আইডি চালুর বিরোধিতা করে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ পার্লামেন্টে একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করার পর সরকার তাদের কৌশল পরিবর্তন করে।

এর পরিবর্তে মন্ত্রীরা প্রকল্পের বাধ্যতামূলক অংশটি বাদ দিয়ে এটিকে ঐচ্ছিক হিসেবে পুনরায় চালু করেন। তাঁরা বলেন, ডিজিটাল আইডির মাধ্যমে ভবিষ্যতে মানুষ একটি ‘ওয়ান-স্টপ’ অ্যাপ ব্যবহার করে শিশুদের দেখভাল বা পরিচর্যা (childcare) সংক্রান্ত কাজ থেকে শুরু করে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল—সবকিছুই করতে পারবে।

এর পরপরই ‘হোম অ্যাফেয়ার্স কমিটি’র চেয়ার ডেম ক্যারেন ব্র্যাডলি বলেন, ডিজিটাল আইডি চালুর সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল ঠিকই, কিন্তু সরকার এর বাস্তবায়ন বা শুরুর প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেনি।

এই প্রকল্প চালু এবং পরবর্তীতে নীতিতে আনা পরিবর্তনগুলো নিয়ে কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের সময় ডেম ক্যারেন পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাকে “একটি চরম ব্যর্থতা” (fiasco) হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগটি “মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে সরকারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি করেছিল”। সোমবার রাজা তৃতীয় চার্লসের সাথে সাক্ষাতের পর বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হবেন। তাঁর কার্যালয় জানিয়েছে, “এই সরকারের অন্যতম প্রথম কাজ হবে জনগণের বর্তমান প্রয়োজনগুলোর ওপর মনোযোগ নিবদ্ধ করা।”

মুখপাত্র জানান, ডিজিটাল আইডি ব্যবস্থা বাতিল করার অর্থ হলো “এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত সম্পদ জনগণের দৈনন্দিন অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোতে কাজে লাগানো”।

‘সানডে উইথ লরা কুন্সবার্গ’ (Sunday with Laura Kuenssberg) অনুষ্ঠানে লেবার পার্টির উপ-নেতা ও বার্নহামের সহযোগী লুসি পাওয়েল বলেন, এই প্রকল্প বাতিলের ফলে যে অর্থ সাশ্রয় হবে তা “সামান্য কোনো অঙ্ক নয়” এবং সেই অর্থ “নতুন করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও বিভিন্নভাবে পুনর্বণ্টন করা হবে”।

তিনি বলেন, “তবে বিষয়টি কেবল অর্থের নয়—মূলত মনোযোগ ও লক্ষ্যের বিষয় এটি; যাতে পুরো সরকারি কাঠামোটি সেই এজেন্ডা ও ভিশন বাস্তবায়নে কাজ করতে পারে, যা অ্যান্ডি বার্নহামের নেতৃত্বে লেবার সরকার নির্ধারণ করছে।”

কনজারভেটিভদের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ছায়া প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী জুলিয়া লোপেজ অভিযোগ করেন যে, লেবার পার্টি “এই প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ পাউন্ড অপচয় করার” পর বার্নহাম এখন “ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার ভান করছেন”।

তিনি বলেন, “কনজারভেটিভদের চাপের মুখে বাধ্যতামূলক আইডি ব্যবস্থা আগেই কার্যত বাতিল করা হয়েছিল। অ্যান্ডি বার্নহামকে এখন ব্যাখ্যা করতে হবে যে সেই তথ্যটি কি মিথ্যা ছিল, নাকি তিনি কেবল এমন একটি সিদ্ধান্তের কৃতিত্ব নিচ্ছেন যা আগেই নেওয়া হয়ে গিয়েছিল।”

লিবারেল ডেমোক্র্যাট এমপি লিসা স্মার্ট বলেন, মানুষ জেনে “অত্যন্ত স্বস্তি পাবে যে, দৈনন্দিন কাজকর্ম চালানোর জন্য তাদের আর জোরপূর্বক নিজেদের তথ্য (ডেটা) হস্তান্তর করতে হবে না”।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি যে ডিজিটাল আইডির জন্য বরাদ্দকৃত বিপুল পরিমাণ অর্থ করদাতাদের অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়; তাই বার্নহাম যে বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছেন, তা স্বস্তিদায়ক।”


Spread the love

Leave a Reply