শীর্ষ সংবাদকোভিড-১৯

ব্রিটেনে প্রথমবারের মতো প্রাণঘাতী জিকা ভাইরাস বহনকারী মশার বংশবৃদ্ধি ঘটেছে

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্টঃ ব্রিটেনে এমন সব মশার প্রজনন বা বংশবিস্তার শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলো প্রাণঘাতী জিকা ভাইরাস, ডেঙ্গু এবং ইয়েলো ফিভার বা পীতজ্বর ছড়াতে সক্ষম।

সাধারণত আফ্রিকা ও এশিয়ায় বসবাসকারী ‘এডিস ইজিপ্টি’ (Aedes aegypti) প্রজাতির মশার লার্ভা পূর্ব লন্ডনে খুঁজে পেয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থা (UKHSA)।

রাজধানীতে এই মশাগুলোর স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন ও বিস্তার রোধের লক্ষ্যে এদের নির্মূল করতে সংস্থাটি বিশেষ দল মোতায়েন করেছে। ব্রিটেনে এর আগেও এই প্রজাতির মশা শনাক্ত করা হয়েছিল, তবে প্রজননক্ষম কোনো দলের (কলোনি) সন্ধান পাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।

ইউকেএইচএসএ (UKHSA)-এর মেডিকেল এন্টোমোলজি (কীটতত্ত্ব) ও জুনোসিস ইকোলজি বিভাগের প্রধান ড. জোলিয়ন মেডলক এক বিবৃতিতে বলেন: “জলবায়ু উষ্ণ হওয়ার সাথে সাথে আমরা আরও বেশি করে বহিরাগত বা আগ্রাসী প্রজাতির মশার আগমন এবং যুক্তরাজ্যে তাদের টিকে থাকার খবর দেখতে পাব বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।”

ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া গ্রীষ্মমণ্ডলীয় মশার টিকে থাকার জন্য খুব বেশি শীতল ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে তারা ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল হয়ে উত্তর দিকে ছড়িয়ে পড়ছে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে ধারণা করা হচ্ছে যে এই মশাগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং এর ফলে আফ্রিকা ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রোগও এখানে দেখা দিতে পারে।

সরকারের আগের একটি পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল যে ২০৪০ সালের আগে ব্রিটেনে এই মশাগুলোর স্থায়ীভাবে টিকে থাকার সম্ভাবনা কম; কিন্তু লন্ডনে এদের প্রজননক্ষম দলের সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ঘটনাটি আরও আগেই ঘটতে পারে।

এর অর্থ হলো, ডেঙ্গু জ্বরের মতো রোগ—যা তীব্র জ্বর ও হাড়ের জয়েন্টে বা গাঁটে প্রচণ্ড ব্যথার কারণ হয় এবং বিশেষ করে বয়স্ক ও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হতে পারে—তা দক্ষিণ ইংল্যান্ডে সাধারণ ঘটনায় পরিণত হতে পারে।


Spread the love

Leave a Reply