ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসন: ট্রাম্পের শান্তি মানে কি তাহলে যুদ্ধ

Spread the love

নতুন বছর শুরু হয়েছে এক নতুন যুদ্ধের মাধ্যমে। শনিবার (১ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে আটক করে তার দেশে নিয়ে আসা হয়েছে। এই হামলা দৃশ্যত একটি শাসনের পট পরিবর্তনের অভিযান।

এর কিছু দিন আগেই বড়দিনের দিন (২৫ ডিসেম্বর) নাইজেরিয়ায় হামলা করে মার্কিন বাহিনী। এছাড়া সোমালিয়ায় বিমান হামলা এবং ভেনেজুয়েলায় সিআইএ ড্রোন হামলার অনুমোদন দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

২৯ ডিসেম্বর, বলা যায় সম্ভাব্য মার্কিন সম্রাট ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার-এ-লাগোতে দাঁড়িয়েছিলেন।

ওই সময় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘যেখানেই নৌকায় মাদক বোঝাই করা হয়, সেখানেই একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে।’ তিনি তখন ভেনেজুয়েলার ওপর তার প্রথম স্থল-ভিত্তিক হামলার কথা উল্লেখ করছিলেন। যেখানে ক্যারিবীয় অঞ্চলের মাছ ধরার নৌকাগুলো কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মারাত্মক হামলার শিকার হয়েছিল। ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন যে, এই হামলার শিকাররা মাদক চোরাচালানকারী। অন্যদিকে কংগ্রেস সদস্যরা এগুলি যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে ট্রাম্প তাতে কোনো তোয়াক্কা করেনি।

নাইজেরিয়ায় কথিত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কথা মিডিয়াতে আসলেও সোমালিয়ায় হামলাগুলো ছিল অঘোষিত এবং অপ্রকাশিত। ট্রাম্প নতুন করে ক্ষমতায় আসার পর থেকে সোমালিয়া মার্কিন হামলার ক্রমবর্ধমান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এটি আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী সামরিক হস্তক্ষেপ যা পশ্চিমা মিডিয়া খুব কমই রিপোর্ট করে।

ইসরাইলের কথা বলতে গেলে, ট্রাম্প ঠিক সেই কথারই পুনরাবৃত্তি করেন, যা নেতানিয়াহু শুনতে পছন্দ করেন। একজন ডামি কৌতুক অভিনেতার মতো ট্রাম্প সরাসরি মুখ ফুটে দাবি করেছেন যে, ‘ইসরাইল গাজায় তার ২০-দফা যুদ্ধবিরতি-র শর্তাবলী ‘১০০ শতাংশ’ মেনে চলে, অন্যদিকে হামাস একতরফাভাবে নিরস্ত্রীকরণ না করে তা লঙ্ঘন করেছে।’

বাস্তবে, ১৩ অক্টোবর থেকে হামাস একমত হওয়া সত্ত্বেও, ইসরাইলের প্রতিদিন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, সাহায্য অবরোধ এবং অসংখ্য হামলায় ৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। তারপরেও হামাস একজন ছাড়া সকল জীবিত ও মৃত জিম্মিকে তাদের হাতে তুলে দিয়েছে । অধিকৃত পশ্চিম তীর দিন দিন তাদের দখলে চলে যাচ্ছে।

ফিলিস্তিনি কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো তাদের বছরের শেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেখানে দেখানো হয়েছে, গাজা উপত্যকায় প্রায় ২,৫৪,০০০ লোকের জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে, যা ২০২৩ সালের অক্টোবরে গণহত্যা শুরু হওয়ার আগের তুলনায় জনসংখ্যার ১০.৬ শতাংশ।

২০২৩ সাল থেকে ১,৫০,০০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি গাজা ছেড়ে চলে গেছে বলে অনুমান করা হয়েছিল, তবে সাম্প্রতিক জার্মান জনসংখ্যার প্রতিবেদনের বলা হয়েছে ইসরাইলের দুই বছরের আক্রমণে ১,০০,০০০ এরও বেশি লোক নিহত হয়েছে।

ব্যর্থ শান্তি প্রচেষ্টা

মার-এ-লাগোতে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথেও দেখা করেছেন, তবে তাদের আলোচনাটি কোনো ফল বয়ে আনেনি। কেননা ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধের অবসান চান না। আর কিয়েভে ড্রোন হামলার মধ্য দিয়ে তা প্রকাশ করেছে রাশিয়া।

এর প্রতিশোধ হিসেবে, রাশিয়া অধিকৃত কৃষ্ণ সাগরের একটি রিসোর্টের একটি ক্যাফে এবং হোটেলে হামলা চালায় ইউক্রেন। এর নববর্ষ উদযাপনের সময় ২৪ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়। ইউক্রেনে হামলার এই ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সিআইএ-র গোয়েন্দা তথ্য দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল।

ট্রাম্পের তথাকথিত সব শান্তি উদ্যোগ—গাজা হোক বা ইউক্রেন-রাশিয়া—কোনোটাই এগোচ্ছে না। এগুলোকে তিনি তুলনা করছেন একটি অস্বচ্ছ ও অবিশ্বাসযোগ্য রিয়েল এস্টেট চুক্তির সঙ্গে, যেখানে ট্রাম্প একজন অসৎ ছলনাময় মধ্যস্থতাকারী। নিউইয়র্কে এপস্টাইন-সম্পর্কিত পার্টির সময় থেকে শুরু করে গত কয়েক দশক ধরে ট্রাম্প যে ধরনের চুক্তি করে এসেছেন, সেগুলো তিনি স্থান ত্যাগ করলেই ভেঙে পড়ে—মানে দীর্ঘমেয়াদে টেকে না।

ট্রাম্পের পরামর্শদাতা ছিলেন রয় কন, যিনি কুখ্যাত সিনেটর জো ম্যাকার্থির রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন। যিনি ১৯৫০-এর দশকে কমিউনিস্ট-বিরোধী জাদুকরী শিকার অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কন ট্রাম্পকে ‘একটি সাপ’, ‘বদমাশ’ কিংবা ‘নতুন কুকুরের বাচ্চা’ হতে শিখিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের মতো, কনও স্টক-জালিয়াতি, ন্যায়বিচারে বাধা, মিথ্যা শপথ, ঘুষ, ষড়যন্ত্র, চাঁদাবাজি এবং ব্ল্যাকমেইলের মতো অভিযোগে ধারাবাহিকভাবে অভিযুক্ত। ট্রাম্পের মতো তিনিও বেশিরভাগ সময়ই অব্যাহতি পেয়েছিলেন।

প্রকৃতপক্ষে, ট্রাম্প যদি সত্যিকারার্থে তার মিত্রের মধ্যে কোন বৈশিষ্ট্য পছন্দ করেন, তা হল- তারা তার মতো অভিযুক্ত অপরাধী। যেমন ট্রাম্পের বন্ধু নেতানিয়াহু দুর্নীতি, হত্যা, যুদ্ধাপরাধে সম্পৃক্ত।

ইসরাইলের স্বীকৃতির পর সোমালিল্যান্ডের বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

এই বড়দিনে নেতানিয়াহু সোমালিল্যান্ডের বিচ্ছিন্ন অঞ্চলটিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এছাড়া এই অঞ্চলটির প্রধানমন্ত্রীর সাথে ব্যাপকভাবে নিন্দিত কিছু চুক্তি করেছেন নেতানিয়াহু। যেখানে সোমালিল্যান্ড গাজা থেকে দশ লক্ষেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রহণ করতে এবং ইয়েমেনকে উপেক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্ডাল প্রণালীতে ইসরাইলকে একটি ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই চুক্তির প্রতিবাদে হাজার হাজার সোমালি রাস্তায় নেমে আসে, অনেকেই ফিলিস্তিনি পতাকা উড়িয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সোমালিয়ার ঐতিহাসিক সমর্থনের প্রদর্শন করে।

সোমালিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমেদ মোয়ালিম ফিকির বলেছেন যে মোগাদিসু ‘কোনও অবস্থাতেই উত্তরাঞ্চলের উপর ইসরাইলের স্বীকৃতি মেনে নেবে না।

তিনি আরো বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা বা তাদেরকে [সোমালি] ভূখণ্ডে স্থানান্তর করার যে কোনো আলোচনা সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য। কেননা এটি তাদের নিজস্ব ভূমিতে বসবাসের মৌলিক অধিকারকে লঙ্ঘন করে।’

সোমালিয়ায় জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘে ইসরাইলি প্রতিপক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন । নিউইয়র্কে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত দাবি করেছেন যে সাবেক সিয়াদ বারের তার শাসনামলে গণহত্যা করেছে,তাই সোমালিল্যান্ডকে ইসরাইল ন্যায্য স্বীকৃতি দিয়েছে।

এর প্রতুত্তরে তিনি জানিয়েছেন, ‘এই জায়গায় এসে মানবতা ও গণহত্যা, মানবাধিকার, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের উপর আমাদেরকে বক্তৃতা দেওয়া ‘এটা কেবল অপমান’ কেননা আমরা জানি আপনারা প্রতিদিন কী করছেন।’

একটি নতুন মনরো মতবাদ

ভেনেজুয়েলার উপর ট্রাম্পের আক্রমণ কিংবা আফ্রিকায় বিমান হামলার ঘটনাগুলো নভেম্বরে প্রকাশিত নতুন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল (এনএসএস) এর প্রতিফলন। এই কৌশলগত নথিতে একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় প্রান্তিকে মার্কিন সাম্রাজ্যের জন্য একটি নতুন জাতীয়তাবাদী এবং নব্য-ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গির রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল। এটি মার্কিন নেতৃত্বে যুদ্ধ-পরবর্তী ট্রান্সআটলান্টিক যুগের সমাপ্তির একটি আনুষ্ঠানিক স্ট্যান্ড দিয়েছে।

এই নথিটি বিংশ শতাব্দীর পেছনের ইতিহাসকে দেখতে চায়, যখন ল্যাটিন আমেরিকা ছিল ওয়াশিংটনের আঙ্গিনা এবং তারা কিউবা থেকে চিলি পর্যন্ত কর্তৃত্ববাদী, মার্কিন-পন্থী শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করে তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দখল বজায় রাখার জন্য ইচ্ছামত হস্তক্ষেপ করেছিল।

এতে বলা হয়েছে ‘আমরা মনরো মতবাদের একটি ‘ট্রাম্প সায়েন্স’ জোরদার করব এবং প্রয়োগ করব।

আরো বলা হয়েছে, ‘গত কয়েক দশকে যেখানে আইন প্রয়োগ ব্যর্থ হয়েছে সেসব জায়গায় যেখানে প্রয়োজন সেখানে প্রাণঘাতী শক্তির ব্যবহার করা হবে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রবেশাধিকার প্রতিষ্ঠা বা সম্প্রসারণ করা হবে”।

ট্রাম্প খোলাখুলিই বলেছেন যে তিনি ভেনেজুয়েলা থেকে তার দাবি করা ‘আমাদের তেল ফিরিয়ে নিতে চান’। দেশটি কয়েক দশক আগেই তার বিশাল তেলের মজুদ জাতীয়করণ করেছিল। বিশেষত মাদুরোর পূর্বসূরী হুগো শ্যাভেজের অধীনে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ একীভূত করেছিল। আর তখন থেকেই এটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে।

ট্রাম্পের সময়ে অতি-ডানপন্থী প্রার্থীরা ক্ষমতার সুযোগ পেয়েছেন। তার প্রথম মেয়াদে এল সালভাদরে তারপরে সম্প্রতি আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, ইকুয়েডর এবং এখন চিলি এবং হন্ডুরাসে মার্কিন সমর্থনে অতি-ডানপন্থী প্রার্থীরা ক্ষমতায় এসেছেন। যার ফলে ট্রাম্প-পন্থি মিত্রদের একটি দল তৈরি হয়েছে। তারপরেও, এই অঞ্চলের বৃহৎ শক্তি – ব্রাজিল এবং মেক্সিকোর মতো দেশগুলো দৃঢ় গণতান্ত্রিক বাম সরকারগুলির হাতে রয়েছে।

মতবাদের মারাত্মক ত্রুটি

কিন্তু আমেরিকার নিরাপত্তা কৌশলে বর্ণিত ‘নতুন আমেরিকাই প্রথম’ মতবাদের একটি প্রধান ও মৌলিক ত্রুটি লক্ষ্যণীয়। বিশেষত ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্য।

গত মাসে দোহায় মিডল ইস্ট আই-এর আশফাক কারিমকে প্রবীণ সাংবাদিক জেরেমি স্কাহিল যেমন বলেছিলেন, ৯/১১ হামলা এবং জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের পর থেকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে পৃথক রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে দেখা ভুল। ওয়াশিংটনে নির্বাহী ও আইনসভা শাখা শৃঙ্খলে ইসরাইলের সাথে যুক্তরাষ্ট্র জড়িত, কিন্তু স্কাহিল যেমন বলেছেন, ‘ইসরাইল একটি সিরিয়াল কিলার যে একটি জাতিরাষ্ট্র হওয়ার ভান করে এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনে পিএইচডি অর্জন করেছে, যা ট্রাম্প, তার আগের বাইডেনের মতোই দেখতে পাবেন না এবং দেখতে পাবেন না।

যেমন স্কাহিল বলেছেন, ‘ইসরায়েল হলো একটি সিরিয়াল কিলার যে নিজেকে একটি জাতিরাষ্ট্র হিসেবে ভান করে’ এবং ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনে পিএইচডি’ অর্জন করেছে, যা ট্রাম্প কিংবা তার আগের বাইডেন দেখতে পান না বা দেখবেন না।

ট্রাম্প গাজার বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ইসরাইলকে নিজের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন। কিন্তু এর মাধ্যমে গাজা এবং পশ্চিম তীরে পুনর্উপনিবেশ স্থাপনের একটি হাইব্রিড যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যতদিন মার্কিন প্রশাসন ইসরাইলের নির্দেশ পালন করতে থাকবে, ততদিন লেবানন এবং সিরিয়ায় ইসরায়েলের অবিরাম যুদ্ধাপরাধ এবং ঔপনিবেশিক সম্প্রসারণকে বাড়তেই থাকবে। এটি অনিবার্যভাবে আরো সংঘাতের দিকে টেনে আনতে হবে।

নেতানিয়াহু তার সর্বশেষ মার্কিন সফরের সাক্ষাৎকারে আবারো আমেরিকাকে ইরানে আক্রমণ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তেহরানের সাথে তিনি ভেনেজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্টের যোগসূত্র স্থাপন করেছিলেন ।

যুক্তরাষ্ট্র যদি শক্তির শ্রেষ্ঠত্ব ও কঠোর জাতিরাষ্ট্র-কেন্দ্রিক সার্বভৌমত্বের একটি নীতি অনুসরণ করে, তাহলে বিশ্বব্যাপী এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে যে কোনো দেশ বা দেশজোট একই শক্তিনির্ভর নীতি ব্যবহার করার বৈধতা পেয়ে যায়।

যেমনটি আমেরিকান মিত্ররা ইতোমধ্যেই করছে: রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় পুনর্নির্মাণ পরিকল্পনা থেকে শুরু করে আমিরাতের নতুন লোহিত সাগর সাম্রাজ্য, ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পদের ওপর সৌদি আরবের আক্রমণ পর্যন্ত । বহুপাক্ষিকতার মৃত্যু এমনই দেখাচ্ছে।

আর ভেনেজুয়েলার ওপর সর্বশেষ আক্রমণের ফলে, ২০২৬ সালে পৃথিবী ইতিমধ্যেই আগের চেয়ে আরো বিপজ্জনক দেখাচ্ছে।

এই প্রবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব এবং মিডল ইস্ট আই-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের প্রতিফলন ঘটায় না।
মিডল ইস্ট আইয়ে প্রকাশিত জো গিলের নিবন্ধ অনুবাদ করেছেন মাহফুজুর রহমান।


Spread the love

Leave a Reply