শীর্ষ সংবাদব্রিটেনের সংবাদ

ভোটদান পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে পরবর্তী নির্বাচনে লড়বেন বার্নহাম

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্টঃ অ্যান্ডি বার্নহাম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, যুক্তরাজ্যের ভোটদান পদ্ধতি পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে লেবার পার্টি পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দলীয় সম্মেলনে দেওয়া নিজের প্রথম ভাষণে তিনি নির্বাচনী সংস্কারের বিভিন্ন উপায় খতিয়ে দেখার লক্ষ্যে একটি জাতীয় কমিশন গঠনের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন।

তিনি অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে এই কমিশনের সাথে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে “প্রত্যেকের ভোটই গুরুত্বপূর্ণ এবং সবার কণ্ঠস্বরই যেন শোনা হয়”।

এর আগে তিনি ‘আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ (Proportional Representation বা PR) পদ্ধতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে সমর্থন জানিয়েছিলেন; গত বছরের সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, “এখন সময় এসেছে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালুর।”

ওয়েস্টমিনস্টারের প্রচলিত ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ (সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীর জয়ী হওয়ার) পদ্ধতিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক দৃশ্যপট খণ্ডিত হয়ে পড়েছে।

২০২৪ সালে মাত্র ৩৪ শতাংশ ভোট পেয়েও লেবার পার্টি পার্লামেন্টে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর এই পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক আরও জোরদার হয়েছে।

সম্প্রতি প্রায় ১০০ জন লেবার দলীয় এমপি বিকল্প পদ্ধতি পর্যালোচনার জন্য একটি কমিশন গঠনের পক্ষে একটি সংসদীয় সংশোধনীকে সমর্থন জানিয়েছেন—এমন একটি উদ্যোগ যা বার্নহাম নিজেও গত বছর গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র থাকাকালীন সমর্থন করেছিলেন।

ভাষণে বার্নহাম প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন: “আমরা যদি বর্তমান ধারা অব্যাহত রাখি এবং ৩০ শতাংশ বা তার চেয়ে কম ভোট পাওয়া কোনো বিভাজনকারী সরকারের জন্য ‘নম্বর ১০’-এর (প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও কার্যালয়) দরজা খুলে দিই, তবে জনসেবার ক্ষেত্রে আমরা সবাই ব্যর্থ বলে গণ্য হব।”

তিনি আরও বলেন: “সাম্প্রতিক সময়ে আমরা যে মাত্রার রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখেছি, তা যদি চলতে থাকে তবে বিশ্বের দরবারে আমরা সফল হতে পারব না।”

‘অনেকগুলো পদ্ধতি’
বার্নহাম তাঁর প্রস্তাবিত কমিশনের নেতৃত্ব কে দেবেন বা এর কার্যক্রম কখন শুরু হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ভোটদান পদ্ধতি পরিবর্তনের যেকোনো উদ্যোগকে লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা সমর্থন জানাবে; তারা এর আগেই বার্নহামের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল যেন ২০২৯ সালের মধ্যে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী নির্বাচনের আগেই আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালু করা হয়।

তবে, ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ পদ্ধতি থেকে সরে আসার যেকোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করতে পারে কনজারভেটিভরা। গত নির্বাচনে ‘রিফর্ম ইউকে’ আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালুর পক্ষে থাকলেও, বর্তমানে এ বিষয়ে তাদের আগ্রহ কমে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লেবার পার্টির মধ্যেও ভোটদান পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়ে সর্বসম্মত মত নেই; বার্নহ্যামের বক্তব্যের পর দলের উপ-নেতা লুসি পাওয়েল স্বীকার করেছেন যে, লেবার পার্টির একাংশ এই পরিবর্তনের পক্ষে নয়।

বিবিসি ২-এর ‘পলিটিক্স লাইভ’ অনুষ্ঠানে তিনি জানান যে ব্যক্তিগতভাবে তিনি নির্বাচনী সংস্কারের পক্ষে, তবে কোনো নির্দিষ্ট নতুন পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকেন; তিনি আরও বলেন যে এ ক্ষেত্রে অনেকগুলো ‘মডেল’ বা পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের গত নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা ‘সিঙ্গেল ট্রান্সফারেবল ভোট’ (এসটিভি) বা একক হস্তান্তরযোগ্য ভোট পদ্ধতি চালুর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিল—যে পদ্ধতিটি স্কটিশ কাউন্সিলের নির্বাচনে ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য বিকল্পের মধ্যে রয়েছে ‘অ্যাডিশনাল মেম্বার সিস্টেম’ বা অতিরিক্ত সদস্য পদ্ধতি; এটি একটি মিশ্র বা হাইব্রিড মডেল যা ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ (সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীর জয়ী হওয়ার পদ্ধতি) এবং আঞ্চলিক দলীয় তালিকার সমন্বয়ে গঠিত এবং স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচনে ব্যবহৃত হয়।


Spread the love

Leave a Reply