ম্যানচেস্টার–সিলেট সরাসরি ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ নর্থ ওয়েস্ট ইংল্যান্ড ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্টঃ আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে ম্যানচেস্টার থেকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগামী বিমানের (বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স) সরাসরি ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের নর্থ ওয়েস্ট অঞ্চলের ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটি। কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক, বৈষম্যমূলক এবং হাজারো প্রবাসীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে অভিহিত করেছেন।

ম্যানচেস্টার-সিলেট রুটটি হলো যুক্তরাজ্যের নর্থ ওয়েস্ট অঞ্চল থেকে সিলেটের একমাত্র সরাসরি বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা। বৃহত্তর ম্যানচেস্টার, ওল্ডহ্যাম, রচডেল, বোল্টন, টেমসাইড, ব্র্যাডফোর্ড, বার্নলি, চেস্টার, নর্থ ওয়েলস, লিভারপুলসহ আশপাশের এলাকায় বসবাসরত বিপুলসংখ্যক ব্রিটিশ বাংলাদেশি সিলেট অঞ্চলের অধিবাসী। বিশেষ করে বয়স্ক যাত্রী, পরিবার ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য এই সরাসরি ফ্লাইট দীর্ঘদিন ধরে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জীবনরেখা হিসেবে কাজ করে আসছে।

সভায় বক্তারা বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের দ্বিমুখী ও পরস্পরবিরোধী নীতির তীব্র সমালোচনা করেন।
বক্তারা বলেন, একদিকে মন্ত্রণালয় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্য কোনো আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিচ্ছে না, ফলে কার্যত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়া হচ্ছে; অপরদিকে একই সময়ে একমাত্র বিদ্যমান সরাসরি ফ্লাইটটি স্থগিত করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নর্থ ওয়েস্ট যুক্তরাজ্য থেকে সিলেটের সঙ্গে সরাসরি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

সভায় সর্বসম্মতভাবে দাবি জানানো হয়, যদি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এই রুটে ফ্লাইট চালু রাখতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হয়, তবে বাংলাদেশ সরকারকে অবিলম্বে এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সকে সিলেটে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিতে হবে। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে নামমাত্র নয়, বাস্তব অর্থেই একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে কার্যকর করতে হবে।

এই প্রতিবাদ ও পরামর্শমূলক সভাটি আহ্বান করেন কাউন্সিলর আবদুল জব্বার এমবিই, যিনি ওল্ডহ্যাম মেট্রোপলিটন বরো কাউন্সিলের ডেপুটি লিডার, ফাইন্যান্স কমিটির লিড মেম্বার, সাবেক মেয়র এবং নর্থ ইউকে বাংলাদেশি হেরিটেজ কাউন্সিলর ফোরামের কনভেনর। এই ফোরাম উত্তর ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডজুড়ে ৩৩ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নির্বাচিত কাউন্সিলরের প্রতিনিধিত্ব করে। সভায় বিভিন্ন নির্বাচিত প্রতিনিধি, কমিউনিটি সংগঠন, মসজিদ কমিটি, ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- উয়ারিংটন কাউন্সিলের মেয়র কাউন্সিলর মোয়াজ্জেম হোসেন, টেমসাইডের মেয়র কাউন্সিলর শিবলী আলম, কাম্বারল্যান্ডের সাবেক মেয়র কাউন্সিলর আবদুল হারিদ, লিডস সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর আবদুল হান্নান, টেমসাইড কাউন্সিলের কাউন্সিলর আবদুল করিম, ব্র্যাডফোর্ডের কাউন্সিলর আশরাফ মিয়া, ম্যানচেস্টার সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর আহমেদ আলী এবং নিউক্যাসলের সাবেক লর্ড মেয়র কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান।

সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন- মোহাম্মদ মনছাব আলী, যিনি সরাসরি ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি জাতীয় বিমান নীতিতে সিলেট অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবহেলা এবং প্রবাসী পরিবারগুলোর ওপর এর গভীর প্রভাব তুলে ধরেন।
সভা শেষে একটি প্রতিনিধিদল ম্যানচেস্টারে অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার মোহাম্মদ জুবাইদ হোসেনের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন এবং কমিউনিটির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জোরালো আপত্তি ও দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন।

সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ সতর্ক করে বলেন, প্রবাসী কমিউনিটির যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করা হলে ধারাবাহিক আন্দোলন, গণসংযোগ, গণমাধ্যমে প্রচার এবং বাংলাদেশ সরকার, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে আনুষ্ঠানিক দাবি উপস্থাপনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

নর্থ ওয়েস্ট অঞ্চলের ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটি ঐক্যবদ্ধভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ বিমান যোগাযোগ রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রবাসীদের স্বার্থে দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহবান জানায়।


Spread the love

Leave a Reply