শীর্ষ সংবাদব্রিটেনের সংবাদশীর্ষ

যুক্তরাজ্যের নতুন ভিসা অফার

Spread the love

মোঃ মশাহিদ আলীঃ
যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করতে এবং প্রযুক্তি খাতে বিশ্বের শীর্ষস্থানে পৌঁছাতে চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস এবং বাণিজ্য সচিব পিটার কাইল এক যুগান্তকারী যৌথ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। ফ্রন্ট-লাইন বা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাজ্যে ধরে রাখতে এবং দেশের প্রথম ‘ট্রিলিয়ন ডলার’ (এক লাখ কোটি ডলার) কোম্পানি তৈরিতে এই মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার ঘোষিত এই পরিকল্পনার অধীনে সরকার উচ্চ-প্রবৃদ্ধির কোম্পানিগুলো বিদেশ থেকে দক্ষ কর্মী ও তাদের পরিবার আনার জন্য ভিসা খরচ মেটাতে পাবে ৫০০০ পাউন্ড , যা  বছরে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত অনুদান দেবে। এই প্রকল্পটি, যা আন্তর্জাতিক ব্যবসাগুলোর জন্য স্পনসর লাইসেন্সের আবেদনগুলোকেও দ্রুততর করবে, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল, জীবন বিজ্ঞান এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে নেওয়া হচ্ছে যখন দেশটি ক্রমবর্ধমান সংখ্যক দেশীয় স্নাতকদের যুক্তরাজ্যে চাকরি খুঁজে পেতে সংগ্রামের সম্মুখীন হচ্ছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে প্রতি ১০ জনে ১ জন স্নাতক এই বছরেই যুক্তরাজ্য ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। দেশের চাকরির বাজারে এমন সংকটমূহুর্তে সরকারের বিদেশী কর্মী ভিসায় ভর্তুকী দেওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিরোধীরা এই পরিকল্পনাগুলোকে তরুণ ব্রিটিশ স্নাতকদের জন্য একটি বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যারা “ইতিমধ্যেই এক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ চাকরির বাজারের মুখোমুখি”।

ভিসা ফি ফেরত স্কিমঃ
যুক্তরাজ্যের দ্রুত বর্ধনশীল এবং উচ্চ সম্ভাবনাময় (ঝপধষব-ঁঢ়) কোম্পানিগুলোর জন্য বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক প্রতিভা আকর্ষণ করা এখন অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। যোগ্য কোম্পানিগুলো তাদের বিদেশি কর্মীদের ভিসা আবেদনের খরচের জন্য কর্মী প্রতি সর্বোচ্চ ৫,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত সরকারের কাছ থেকে ফেরত (জবরসনঁৎংবসবহঃ) দাবি করতে পারবে। কোনো একটি নির্দিষ্ট কোম্পানি এক বছরে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত এই রিফান্ড সুবিধা পাবে। অর্থাৎ, একটি কোম্পানি বছরে সর্বোচ্চ ৫ জন শীর্ষ কর্মীর জন্য এই সুবিধা ভোগ করতে পারবে।
এই সুবিধা ঢালাওভাবে সব ব্যবসার জন্য নয়। এটি শুধুমাত্র ডিজিটাল ও টেকনোলজি (যেমন অও ও কোয়ান্টাম), লাইফ সায়েন্সেস (চিকিৎসা ও জীবন বিজ্ঞান) এবং ক্লিন অ্যানার্জি (পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি) খাতের কোম্পানিগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে। এই টাকা সরাসরি সরকারের বিদ্যমান বাজেট থেকে “আগে আসলে আগে পাবেন” (ঋরৎংঃ-পড়সব, ভরৎংঃ-ংবৎাবফ) ভিত্তিতে দেওয়া হবে।

বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত গ্রাহক সেবাঃ
এটি মূলত একটি উচ্চ-পর্যায়ের ওয়ান-স্টপ সরকারি সেবা ব্যবস্থা, যা সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোর পথ থেকে সব ধরনের প্রশাসনিক বাধা দূর করবে। কোম্পানিগুলোর আকার এবং প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা অনুযায়ী আলাদা আলাদা স্তরের বিশেষ যতœ দেওয়া হবে, যাতে তারা দ্রুত বিশ্বমানের জায়ান্টে পরিণত হতে পারে। কোনো কোম্পানির প্রবৃদ্ধির পথে যদি সরকারি নিয়মকানুন (জবমঁষধঃরড়হং), অর্থায়নের অভাব (অপপবংং ঃড় ভরহধহপব) বা সরকারি কাজের চুক্তি (চৎড়পঁৎবসবহঃ) পাওয়ার ক্ষেত্রে আইনি বাধা থাকে, তবে এই কনসিয়ার্জ টিম সরাসরি হস্তক্ষেপ করে তা দ্রুত সমাধান করবে। সরকারের নীতি হবে—”প্রয়োজনে সর্বোচ্চ সাহায্য করো, অন্যথায় ব্যবসার পথ থেকে সরে দাঁড়াও।” ব্যবসা পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সফল উদ্যোক্তা পেনি ভার্বে-কে সরকারের বিশেষ ‘স্কেল-আপ উপদেষ্টা’ (ঝপধষব-টঢ় অফারংবৎ) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি সরাসরি ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী এই সেবা পরিচালনা করবেন।

ফাস্ট-ট্র্যাক স্পনসর লাইসেন্সঃ
বিদেশি সফল কোম্পানিগুলো যাতে আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে না পড়ে সহজেই যুক্তরাজ্যে তাদের শাখা খুলতে পারে, সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। অফিস ফর ইনভেস্টমেন্ট (ঙভও)-এর মাধ্যমে একটি ফাস্ট-ট্র্যাক রেফারেল সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ‘ইউকে এক্সপেনশন ওয়ার্কার’ (টক ঊীঢ়ধহংরড়হ ডড়ৎশবৎ) স্পনসর লাইসেন্সের আবেদন প্রক্রিয়াটি মাত্র ১০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে, যা আগে করতে কয়েক সপ্তাহ বা মাস পার হয়ে যেত।

বিশাল অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও বড় বিনিয়োগঃ
যুক্তরাজ্যের মোট ব্যবসার মধ্যে এই দ্রুত বর্ধনশীল স্কেল-আপ কোম্পানিগুলোর সংখ্যা মাত্র ০.৮%। কিন্তু ক্ষুদ্র এই অংশটিই ২০২৩ সালে ২.২ ট্রিলিয়ন পাউন্ডের টার্নওভার তৈরি করেছে এবং দেশের প্রায় ৩৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান জুগিয়েছে। সরকার ইতিমধ্যেই এই খাতের কিছু বড় কোম্পানিকে বড় অঙ্কের তহবিল দিয়েছে: ঙীভড়ৎফ ছঁধহঃঁস ঈরৎপঁরঃং গত সপ্তাহে ব্রিটিশ বিজনেস ব্যাংক থেকে ১০ কোটি পাউন্ডের বিনিয়োগ পেয়েছে। ছঁধহঃবীধ গত বছর সিরিজ এফ রাউন্ডে সরকারি সমর্থন পাওয়ার পর, এই মে মাসে এইচএমআরসি (ঐগজঈ) থেকে ১৭.৫ কোটি পাউন্ডের একটি ১০ বছর মেয়াদী চুক্তি পেয়েছে।
‘ব্রিটিশ গ্রোথ পার্টনারশিপ ফান্ড ১’-এর মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের পেনশন সঞ্চয়ের টাকা এখন সরাসরি ঊষষরঢ়ঃরপ এবং ডধুাব-এর মতো শীর্ষ ব্রিটিশ টেক স্টার্ট-আপে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

May be an image of text that says "বাংলা সংলাপ Sanglap Bangla London: Fridayur 2026 Year:16 ま sMe:24 Page প্রবাসে আপনার কথা English Section 18-24 Out MeafLendoN যুক্রাজ্যের নতুন ভিসা অফার বিদেশি কর্ম্ী আনলে কোম্পানিগুলো পাবে জনপ্রতি ,000 পাউন্ড, বছরে সবোবচ ২৫,0০0 পাউন্ত পর্যন্ত অনুদান শুধুমাত্র প্রযুক্তি ខ ভিজিটাল, জীবন বিজ্ঞান এবং খিন এনার্জি খাতের কোম্পানিগুলো এই সুবিধা পাবে। স্পনসর লাইসেন্স এবং ভিসা মাত্র ၁၀ দিনে দেওয়া হবে কেয়ার ওয়ার্কারদের ভিসার নিয়ম পরিব্তন ভুল হবে বলে অ্যাজেলা রেইনারের মন্তব্য যুকরাজ্য ছাড়ছেন শিক্ষিত বেকাররা fte ဘသ) UK Visas and Immigration SCOTLAND NGRELAND AND FRELAND WALES ES WA ENGLAND"

তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কঃ
এই চমৎকার উদ্যোগটি ঘোষণার পর থেকেই যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সাম্প্রতিক ‘মিলবার্ন রিভিউ’ অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য বর্তমানে গত ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ তরুণ বেকারত্ব সংকটের মুখোমুখি। দেশের ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় ১০ লাখের বেশি তরুণ বর্তমানে সম্পূর্ণ বেকার বা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণহীন (ঊপড়হড়সরপধষষু ওহধপঃরাব) অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। মাইগ্রেশন ওয়াচ ইউকে’ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মতে, যেখানে দেশের হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েট চাকরির বাজারে হন্যে হয়ে ঘুরছেন, সেখানে দেশীয় তরুণদের প্রশিক্ষণ না দিয়ে বিদেশি কর্মীদের পেছনে সরকারি টাকা ঢালা এক ধরনের “ব্যাকডোর বা পেছনের দরজা দিয়ে সস্তা শ্রমিক আনা”র শামিল।
রিটেল বা খুচরা ব্যবসা খাতের জায়ান্টরা (যেমন ঞবংপড়, ঝধরহংনঁৎু’ং) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, সরকারের নতুন নিয়মের কারণে সাধারণ চাকরির খরচ বাড়ছে, যার ফলে তারা স্থানীয় তরুণদের কাজ দিতে পারছে না। অথচ টেক কোম্পানিগুলোকে সরকার উল্টো টাকা ফেরত দিচ্ছে।

সরকার যা বলছেঃ
এই সমালোচনার জবাবে চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস জানিয়েছেন, এই স্কিমটি স্থানীয়দের চাকরি কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর ও আমেরিকার সাথে প্রতিযোগিতায় ব্রিটেনকে টিকিয়ে রাখার জন্য করা হয়েছে। তাছাড়া, স্থানীয় তরুণদের কাজে ফেরাতে সরকার ইতিমধ্যেই ২.৫ বিলিয়ন পাউন্ডের একটি বিশাল যুব কর্মসংস্থান প্যাকেজ (ণড়ঁঃয ঊসঢ়ষড়ুসবহঃ ঝঁঢ়ঢ়ড়ৎঃ চধপশধমব) বাস্তবায়ন করছে, যার অধীনে তরুণদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষানবিশি (অঢ়ঢ়ৎবহঃরপবংযরঢ়) দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে  থিঙ্ক ট্যাঙ্ক বলেছে, “এখন মনে হচ্ছে সরকার ব্রিটেনে প্রবেশের এই বিকল্প পথটিকে আরও সস্তা এবং সহজলভ্য করতে চাইছে”। এটি তরুণ ব্রিটিশ কর্মীদের জন্য একটি বিপর্যয় হবে, যারা ইতিমধ্যেই এক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ চাকরির বাজারের সম্মুখীন। “তথাকথিত ‘দক্ষ কর্মী ভিসা’র পাশাপাশি এটি আসছে, যা ইতোমধ্যেই সুপারমার্কেটের কর্মী এবং টেকঅ্যাওয়ে ড্রাইভারসহ অন্যান্যদের আমদানি করতে অপব্যবহার করা হচ্ছে – ঠিক সেই ধরনের প্রাথমিক স্তরের কাজ যা তরুণ ব্রিটিশরা আগে করত।”

ইনস্টিটিউট অফ ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স (আইইএ) থিঙ্ক ট্যাঙ্কের ক্যালাম প্রাইস বলেছেন: “সীমিত কিছু বিজয়ীকে বেছে নেওয়ার চেষ্টায় করদাতাদের অর্থ ব্যয় করার চেয়ে, সরকারের জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী নিয়োগ সহজ করা এবং যুক্তরাজ্যকে সার্বিকভাবে উচ্চ-দক্ষ কর্মীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে গড়ে তোলা অনেক বেশি মঙ্গলজনক হবে।”

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে, লেবার পার্টি ব্রিটিশ কর্মীদের জন্য ব্রিটিশ চাকরিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নিয়ম চালুর বিষয়টি বিবেচনা করেছিল।

ব্রিটিশ কর্মী নিয়োগের এই বাধ্যবাধকতা ২০১৯ সাল পর্যন্ত কার্যকর ছিল, যখন বরিস জনসন দক্ষ কর্মীদের জন্য পয়েন্ট পদ্ধতির একটি বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই নিয়মগুলো বাতিল করে দেন।

ব্যবসা সচিব পিটার কাইলের সাথে একটি যৌথ বিবৃতিতে, মিস রিভস বলেছেন যে, “যুক্তরাজ্যের প্রথম ট্রিলিয়ন-ডলারের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রচেষ্টার” অংশ হিসেবে, এই তহবিলের পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি নতুন “কনসিয়ার্জ পরিষেবা” চালু করা হবে।

তারা লিখেছেন: “স্তরভিত্তিক সহায়তা প্রদানকারী এই নতুন কনসিয়ার্জ পরিষেবাটি সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত সম্প্রসারণে সহায়তা করবে এবং দ্রুত সাফল্য অর্জনের জন্য প্রস্তুত উচ্চ-প্রবৃদ্ধির প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি শক্তিশালী ধারা তৈরি করবে।

“এটি নিশ্চিত করবে যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বর্তমান সহায়তা ব্যবস্থা সমন্বিত এবং দেশের সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মুখীন হওয়া সমস্যাগুলো মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট সহায়তা প্রদান করছে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে: “আমরা যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখানে ব্যবসা শুরু করতে, প্রসারিত করতে এবং টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করছি – সফল হওয়ার জন্য তাদের প্রয়োজনীয় অর্থ, মেধা এবং সমর্থন দিয়ে।

“শিল্পখাতের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করছি যে, ব্রিটেন শুধু ব্যবসা শুরু করার জন্যই নয়, বরং একটি বিশ্বসেরা ব্যবসা গড়ে তোলার জন্যও বিশ্বের সেরা জায়গা হবে।”

এদিকে প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার বলেছেন, যুক্তরাজ্যে ইতোমধ্যে বসবাসকারী অভিবাসীদের জন্য ভিসার নিয়ম পরিবর্তন করা “একটি ভুল কাজ হবে”। তিনি লেবার সরকারের কিছু অভিবাসন নীতির সমালোচনা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

রেইনার বিবিসিকে বলেছেন, যুক্তরাজ্যে ইতোমধ্যে থাকা সেবাকর্মীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার আগে বর্তমান পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করানোটা হবে “ব্রিটিশদের নীতির পরিপন্থী”।

তিনি বলেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করা এবং “যারা এখানে জীবন গড়ে তুলেছেন তাদের ওপর পূর্ববর্তী প্রভাব খাটিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া” “সম্পূর্ণ ভিন্ন” একটি বিষয়।

যুক্তরাজ্য সরকার অভিবাসন নিয়ম পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা করেছে এবং যুক্তরাজ্যে ইতোমধ্যে বসবাসকারী অভিবাসী কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

বুধবার সরকারি চাকরিজীবী ইউনিয়ন ইউনিসন কর্তৃক আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রেইনার বলেন, “যারা নিয়ম মেনে চলেন এবং আমাদের সমাজে অবদান রাখেন” সেইসব সেবাকর্মীদের স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কোনো নিয়ম পরিবর্তন করা উচিত নয়।

রেইনার বলেন, “মহামারীর সবচেয়ে কঠিন দিনগুলোতে সেবাকর্মীরা আমাদের সাহায্য করেছেন।” সেবা এমন একটি ব্যবস্থা যা আমাদের সকলের প্রয়োজন হতে পারে এবং যার উপর আমরা নির্ভর করতে পারি।

“তাই যারা সেবা দেন এবং গ্রহণ করেন, তারা সকলেই তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ও সম্মান না পাওয়া পর্যন্ত আমি অন্তত বিশ্রাম নেব না।”

মার্চ মাসে রেইনার অভিবাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তনগুলো পূর্ববর্তী তারিখ থেকে কার্যকর করার বিষয়ে প্রথম উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সেই সময়ে, গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম – যিনি মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী – বলেছিলেন যে তিনি রেইনারের বক্তব্য বুঝতে পারছেন এবং দলের উচিত “অ্যাঞ্জেলার কথা শোনা”।

কিন্তু মেকারফিল্ড উপনির্বাচনের প্রচারণার শুরুতে, বার্নহ্যাম বলেন যে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের পদ্ধতির “মূল উদ্দেশ্যের” সাথে একমত।

সেটেলমেন্ট, যা অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকার অনুমতি (রহফবভরহরঃব ষবধাব ঃড় ৎবসধরহ) নামেও পরিচিত, একজন ব্যক্তিকে যুক্তরাজ্যে যতদিন ইচ্ছা বসবাস, কাজ এবং পড়াশোনা করার অধিকার দেয় এবং যোগ্য হলে বিভিন্ন সুবিধার জন্য আবেদন করার সুযোগ করে দেয়।

মন্ত্রীরা বেশিরভাগ অভিবাসীর স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের সময়কাল পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে দশ বছর করতে চান।

এর অধীনে প্রস্তাবনা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা ভিসায় আগত ব্যক্তিদের ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে, আর যারা ১২ মাসের বেশি সময় ধরে সরকারি ভাতার ওপর নির্ভরশীল, তাদের ২০ বছর অপেক্ষা করতে হবে।

মাহমুদ এই পরিকল্পনার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাজ্যে আগত “অভূতপূর্ব” সংখ্যক মানুষের জন্য সরকারের কাছে একটি জবাব চাওয়া হচ্ছে।

কিন্তু লেবার পার্টির কয়েক ডজন এমপি এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন এবং এই পূর্ববর্তী পদক্ষেপকে “অ-ব্রিটিশ” ও “নিয়ম পরিবর্তন” বলে আখ্যা দিয়েছেন।

বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেইনার বলেন, লেবার পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে একটি সম্ভাব্য প্রতিযোগিতা সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না।

তবে যিনিই দায়িত্বে থাকুন না কেন, তার জন্য তার একটি স্পষ্ট বার্তা ছিল।

রেইনার বলেন, “আমাদের মাঝপথে নিয়ম বাতিল করা উচিত নয় – যারা করদাতা, যারা অবদান রাখছেন, যারা আমাদের সমাজের অংশ এবং আমাদের সবচেয়ে দুর্বলদের দেখাশোনা করছেন, তাদের ওপর পূর্ববর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।”

“এটা অন্যায্য, এমনটা করা অ-ব্রিটিশ।”

তিনি আরও বলেন যে তিনি যুক্তরাজ্যের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের পক্ষে, কিন্তু এটি ছিল বৈধ অভিবাসীদের বসতি স্থাপনের অধিকারের বিষয় থেকে এটি ভিন্ন।

রেইনার তার নিজের সরকারকে সেবাকর্মীদের মজুরি বাড়ানোর এবং তাদের ভিসা নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তাদের সাথে যুক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন, যা তার মতে শোষণকে উৎসাহিত করে।

সাবেক আবাসন সচিব লেবার পার্টির নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন বলে ঘোষণা করেননি, কিন্তু তিনি এখন তার এই স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে প্রকাশ্যে নীতি পরিবর্তনের জন্য চাপ দিচ্ছেন।


Spread the love

Leave a Reply