বিনোদন

যুক্তরাজ্যে মডেলিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনে জনপ্রিয় মুখ শারমিন আহমেদ বিথী

Spread the love

ইব্রাহিম খলিল : সিলেটের মৌলভীবাজার থেকে লন্ডনের ব্যস্ত শহর। পথটা দীর্ঘ, কিন্তু স্বপ্নটা ছিল নিজের শিকড়কে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার। সেই স্বপ্নের গল্পই যেন লিখে চলেছেন শারমিন আহমেদ বিথী।

ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেই বদলে যায় দৃশ্যপট। কখনো সিলেটি গানের গল্পের নায়িকা, কখনো প্রাণবন্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আবার কখনো প্রবাসজীবনের নানা মুহূর্তকে ধারণ করা এক তরুণী বিভিন্ন রূপে নিজেকে তুলে ধরছেন বিথী।

যুক্তরাজ্যে বসবাস করেও নিজের শিকড়কে ভুলে যাননি তিনি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার করে সিলেটি গান, ভাষা ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিতে চাইছেন বিশ্বের নানা প্রান্তে।

সিলেটি গানের মিউজিক ভিডিওতে মডেলিং করে ইতোমধ্যে দর্শকদের নজর কেড়েছেন শারমিন বিথী। এখন পর্যন্ত প্রায় আটটি সিলেটি গানে মডেলিং করেছেন তিনি। এর মধ্যে ‘আসমানের পরী’ ও ‘ডায়মন্ড রিং’ তাঁকে এনে দিয়েছে বিশেষ পরিচিতি।

গানের দৃশ্য, পোশাক, অভিব্যক্তি কিংবা ক্যামেরার সামনে উপস্থিতি সব মিলিয়ে অল্প সময়েই দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তাঁর নিজস্ব একটি পরিচিতি।

আরও কয়েকটি নতুন গান রয়েছে প্রকাশের অপেক্ষায়। ‘রাজকন্যা’, ‘মনের জ্বালা’ ও ‘তুমি সুখী হও’ এই গানগুলোও শিগগিরই প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে সিলেটি মিউজিকের পর্দায় বিথীর উপস্থিতি আরও বাড়বে বলেই আশা করছেন তাঁর অনুসারীরা।

মিউজিক ভিডিওর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সক্রিয় শারমিন বিথী। টিকটক, ফেসবুক ও ইউটিউবে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করছেন তিনি।

তাঁর একটি ভিডিও—‘আশা করছি লন্ডন যাবো স্টুডেন্ট ভিসায়’—ইতোমধ্যে ৩ মিলিয়নেরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অনুসারীর সংখ্যাও প্রায় পাঁচ লাখের বেশি বলে জানা যায়।

এই জনপ্রিয়তা শুধু সংখ্যার হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রবাসী বাঙালি দর্শকদের পাশাপাশি দেশের দর্শকরাও তাঁর কনটেন্টে নিজেদের পরিচিত জীবন, সংস্কৃতি ও গল্পের ছায়া খুঁজে পান।

শারমিন বিথীর গল্পের শুরু মৌলভীবাজার শহরে। সেখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা এবং পড়াশোনা। শহরের একটি বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে জীবনের নতুন অধ্যায়ে পাড়ি দেন যুক্তরাজ্যে।

বিয়ের পর প্রবাসজীবনে প্রবেশ করলেও নিজের সৃজনশীল সত্তাকে থামিয়ে রাখেননি। বরং নতুন পরিবেশে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেন।

তাঁর এই পথচলায় স্বামী এ কে এম রেদওয়ান ঘোরী-র অনুপ্রেরণাও রয়েছে। রেদওয়ান নিজেও বিভিন্ন গানের মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। নবীগঞ্জের বাসিন্দা রেদওয়ান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন।

Inline image

স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই গান ও মডেলিংয়ের প্রতি আগ্রহ থাকায় একে অপরের কাজের জায়গায় সহযোগিতা ও উৎসাহ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিলেতে বসবাস করলেও বিথীর হৃদয়ে সিলেটের টানটা স্পষ্ট। আর সেই টান থেকেই তাঁর স্বপ্ন—সিলেটি গানকে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরা।

বাংলাদেশের বাইরে বসে সিলেটি গান নিয়ে কাজ করার একটি আলাদা তাৎপর্য রয়েছে তাঁর কাছে। কারণ প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমেই নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হচ্ছে। বিথী সেই জায়গাটিকেই কাজে লাগাতে চান।

তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন হয়ে উঠেছে দুই পৃথিবীর মধ্যে একটি সেতু—এক পাশে সিলেটের মাটির গন্ধ, অন্য পাশে লন্ডনের বহুজাতিক শহর। আর সেই সেতু দিয়েই সিলেটি গান ও সংস্কৃতিকে আরও দূরে নিয়ে যেতে চান তিনি।

মডেলিং দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বিথীর স্বপ্ন শুধু মিউজিক ভিডিওতে সীমাবদ্ধ নয়। কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মাধ্যমে নিজের একটি স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চান তিনি।

তাঁর কাজের মধ্যে যেমন রয়েছে বিনোদন, তেমনি রয়েছে প্রবাসজীবনের নানা গল্প। আর সেই গল্প বলার ভাষা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

আজকের দিনে একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের জনপ্রিয়তা শুধু ক্যামেরার সামনে ভালো দেখানোর ওপর নির্ভর করে না; দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করাটাই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিথীও সেই সংযোগের জায়গাটিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

শারমিন আহমেদ বিথীর গল্প এখনও চলমান। সামনে রয়েছে নতুন গান, নতুন মিউজিক ভিডিও, নতুন কনটেন্ট এবং আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা।

মৌলভীবাজারের পরিচিত শহর থেকে যুক্তরাজ্যের প্রবাসজীবন এরপর সিলেটি গানের মডেলিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের জায়গা করে নেওয়া। পথচলাটা হয়তো খুব দীর্ঘ নয়, কিন্তু এর মধ্যেই তৈরি হয়েছে একটি আলাদা পরিচয়।

বিথীর স্বপ্ন এখন আরও বড় নিজের পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে সিলেটি গানকে পৌঁছে দেওয়া বিশ্বের নানা প্রান্তে।

হয়তো একদিন লন্ডনের কোনো ব্যস্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে যখন কোনো সিলেটি গান বেজে উঠবে, তখন সেই সুরের সঙ্গে ভেসে আসবে সিলেটের মাটির গন্ধ। আর সেই গল্পের কোনো এক ফ্রেমে দেখা যাবে মৌলভীবাজারের সেই মেয়েটিকে, শারমিন আহমেদ বিথীকে।


Spread the love

Leave a Reply