যুক্তরাষ্ট্র ইরানের রাডার সাইটে হামলা চালানোর দাবি করেছে, অন্যদিকে কুয়েত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর দিয়েছে
ডেস্ক রিপোর্টঃ যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা সপ্তাহান্তে ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে তেহরান বলেছে, তারা একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে এর জবাব দিয়েছে। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে এক সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো উত্তেজনা বৃদ্ধি পেল।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, তারা “আগ্রাসী ইরানি কর্মকাণ্ডের” জবাবে “আত্মরক্ষামূলক হামলা” চালিয়েছে। তাদের মতে, এই কর্মকাণ্ডের মধ্যে আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলেছে, তারা দক্ষিণ ইরানে হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী কর্তৃক ব্যবহৃত একটি বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে কুয়েত বলেছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা “শত্রুভাবাপন্ন” ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মোকাবিলা করেছে। পরে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় “জঘন্য ও বারবার চালানো ইরানি হামলার” নিন্দা জানিয়েছে।
সোমবার ভোরে ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প তার সমালোচকদের “আরাম করে বসে থাকতে” আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, “শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে”। তিনি বলেন, ইরান “সত্যিই একটি চুক্তি করতে চায়, এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ভালো চুক্তি হবে”।
কয়েকমাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসানের একটি চুক্তি নিয়ে সপ্তাহান্তে আলোচনা এগোতে ব্যর্থ হওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে এটিই সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি। মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, ট্রাম্প এর শর্তাবলীতে পরিবর্তনের অনুরোধ করেছেন।
বিবিসি-র মার্কিন সংবাদ সহযোগী সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, এই পরিবর্তনগুলো হরমুজ প্রণালীর নৌপথ এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ সম্পর্কিত। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউস কোনো সাড়া দেয়নি।
সোমবার, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র “ক্রমাগত তাদের মতামত পরিবর্তন করছে এবং নতুন বা পরস্পরবিরোধী দাবি পেশ করছে”, যা স্বাভাবিকভাবেই “আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করবে”।
দেশটির প্রধান আলোচক রবিবার বলেছিলেন যে, ইরানের অধিকার সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত না হলে তেহরান কোনো চুক্তিতে রাজি হবে না।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা শনিবার ও রবিবার ইরানের দক্ষিণ উপকূলের নিকটবর্তী গোরুক শহর এবং হরমুজ প্রণালীর একটি দ্বীপ কেশমে “ইরানের রাডার এবং ড্রোনের কমান্ড ও কন্ট্রোল সাইটগুলোতে আত্মরক্ষামূলক হামলা” চালিয়েছে।
এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের সামরিক বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি ড্রোনে হামলা চালিয়েছে, যেগুলোকে তারা “আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য স্পষ্ট হুমকি” বলে অভিহিত করেছে। এতে বলা হয়েছে, এই হামলায় কোনো মার্কিন সেনা আহত হননি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, এই হামলাগুলো যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন ছিল।
আইআরজিসি বলেছে, তারা সেই ঘাঁটিটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যেটি তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ৪০ মাইল (৬৫ কিমি) দূরে পারস্য উপসাগরের সিরিক দ্বীপে একটি যোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করেছিল।
ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আইআরজিসি-র মন্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক বাহিনী আরও বলেছে যে, মার্কিন আগ্রাসন “পুনরাবৃত্তি” হলে তাদের প্রতিক্রিয়া “সম্পূর্ণ ভিন্ন” হবে।
কুয়েতের সামরিক বাহিনী সোমবার ভোরে জানিয়েছে যে তারা “শত্রুভাবাপন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মোকাবেলা করছে” এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বেজে উঠেছে।
পরে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে কুয়েতের ওপর “একটি বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং সরাসরি আক্রমণ” হিসেবে ইরানের “জঘন্য ও বারবার চালানো হামলার” তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।