লন্ডনে যুবলীগ নেতা জামাল খান ও সুশান্তের নেতৃত্বে উপদেষ্টা মাহফুজের গাড়িতে হামলার চেষ্টা, হাইকমিশনে আলীগ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সাংবাদিক পরিচয়ে যুব মহিলালীগ ও কৃষকলীগ নেত্রীদের প্রবেশ
মোঃ জয়নুল আবেদীনঃ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের গাড়ির ওপর হামলার চেষ্টা করেছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। যুক্তরাজ্য যুবদল নেতা জামাল খান ও সুশান্তের নেতৃত্ব একদল বিশৃংখূলাকারী আগে থেকে রাস্তায় ওত পেতে থাকে। হামলাকারীরা উপদেষ্টার গাড়ি লক্ষবস্তু করতে না পেরে একজন বাঙ্গালী পথচারীর উপর হামলা চালায়। এ সময় রাজাকার বলে পথচারীকে তারা হেনস্থ করে। জানা গেছে হেনস্থার স্বীকার ব্যক্তির নাম ফাহিম। পুলিশ এসময় আওয়মীলীগের এক কর্মীকে আটক করে।
শুক্রবার সেন্ট্রাল লন্ডনের রাসেল স্কয়ার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে হামলাকারীরা যে গাড়ীতে ডিম নিক্ষেপ করেছে সে গাড়ীতে উপদেষ্টা মাহফুজ ছিলেন না।
ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন- (সোয়াস) আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে আলোচনায় অংশগ্রহণ শেষে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা হামলার চেষ্টা চালায়। তারা সোসিয়াল মিডিয়ায় পোস্ট করার জন্য হাইকমিশনের পার্কিং করা গাড়ীতে ডিম নিক্ষেপ করে ভিডিও ধারণ করে। এসময় একজন অন্যজনকে বলাবলি করতে দেখা যায়।
এর আগে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন ক্যাম্পাসে মাহফুজ আলমের অনুষ্ঠানের ভিতরে সাংবাদিক পরিচয়ে যুক্তরাজ্য যুব মহিলা লীগের নেত্রী ইয়াসমিন সুলতানা পলিন এবং কৃষক লীগের নেত্রী সামিয়া আক্তারের নেতৃত্বে একদল বিশৃংখূলাকারী প্রবেশ করে। তারা অনুষ্ঠানস্থলে অশ্রাভ্য প্রশ্ন করে বিশৃংখূলার চেষ্টা চালায়।
জানা গেছে হাই কমিশনে কর্মরত আওয়ামী কর্মকর্তারা উপদেষ্টা মাহফুজ আলম কোন রাস্তায় যাবেন সেই তথ্য পাশ করে দেন। হাইকমিশন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় যুবলীগ-কৃষক লীগের বেশ কয়েকজন নেত্রী অনুষ্ঠানে প্রবেশের রেজিস্ট্রেশন করতে সক্ষম হয়। এব্যাপারে হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে বাংলা সংলাপের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হলে তারা এসবের কিছুই জানেন না বলে জানান।

এদিকে ফেসবু্কে এক পোস্টে এনসিপি আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের উপর লন্ডনে হামলার চেষ্টা হয়েছে। এর আগে আমেরিকায় হামলা ও অপদস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বারবার মাহফুজ আলমের উপর আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের হামলা, কারণ মাহফুজ আলমই টার্গেট। পরবর্তী ধাপে আমরা প্রত্যেকেই টার্গেট হবো। আমরা জানি আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করে আছে। গোপালগঞ্জে ফ্যাসিস্টদের নৃশংসতা আমরা দেখে আসছি।
মাহফুজ আলমের উপর হামলার মৌন সম্মতি যারা তৈরি করছে তারাও ভুগবে। ফ্যাসিবাদ বিভাজনের রাজনীতি করে। মাহফুজ আলম গণঅভ্যুত্থানের পরে অন্তর্ভুক্তি এবং দায় ও দরদের রাজনীতির কথা বলছে। কিন্তু বাংলাদেশ সেই পথে হাঁটে নাই। আমরা দেখতে পাইছি ফ্যাসিবাদ বিরোধীতার নাম করে প্রতিক্রিয়াশীল ও প্রতিশোধের রাজনীতি শুরু করছে বিভিন্ন গ্রুপ যা অবশ্যম্ভাবীভাবে ফ্যাসিবাদকে ফিরায়ে আনবে। সময় প্রমাণ করবে মাহফুজ আলমই সঠিক ছিল যদি ততদিন উনি বেঁচে থাকার সুযোগ পান।
মাহফুজ আলমের উপর হামলার ঘটনায় কোনোবারই অন্তর্বর্তী সরকার কোনো স্ট্রং পদক্ষেপ নেয় নাই। কোনো শক্তবার্তা দেয় নাই। কোনো উপদেষ্টা বা প্রেস সচিব একটা মন্তব্যও কখনো করে নাই। সরকার ও উপদেষ্টা পরিষদের ভিতরেও মাহফুজ আলমকে অপদস্ত ও হত্যার মৌন সম্মতি তৈরি করা হয়েছে। এই সরকার ও উপদেষ্টাগণ মাহফুজদের যথেচ্ছা ব্যবহার করে এখন মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা এগুলা মনে রাখছি। রাজনৈতিকভাবে এর জবাব দেওয়া হবে।’
