শীর্ষ সংবাদব্রিটেনের সংবাদ

রাজপরিবারের কর্মকাণ্ডে ফিরছেন না হ্যারি ও মেগান, স্পষ্ট করলেন রাজা

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্টঃ রাজা আজ স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার পরেও ডিউক ও ডাচেস অফ সাসেক্স রাজপরিবারের ‘কার্যরত সদস্য’ (working royals) হিসেবে গণ্য হচ্ছেন না।

সরকার, সেনাবাহিনী এবং সারা দেশে রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী ‘ঊর্ধ্বতন অংশীজনদের’ (senior stakeholders) উদ্দেশ্যে পাঠানো এক নির্দেশনামূলক চিঠিতে রাজা চার্লস জানিয়েছেন যে, হ্যারি ও মেগানের রাজকীয় উপাধিগুলো বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে এবং তাঁদের কেবল সাধারণ ব্যক্তিগত নাগরিক হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

পাশাপাশি রাজা পরামর্শ দিয়েছেন যে, ‘নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো যেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছেই উত্থাপন করা হয়’।

রাজার নির্দেশক্রমে তাঁর সর্বোচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ‘লর্ড চেম্বারলেইন’-এর মাধ্যমে এই নির্দেশনাটি পাঠানো হয়েছে।

রাজপরিবারের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে সাধারণ নাগরিক হিসেবে থাকার বিষয়ে সাসেক্স দম্পতির যে ইচ্ছা ছিল এবং ‘স্যান্ড্রিংহাম চুক্তি’ অনুযায়ী যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল—যার কার্যকারিতা এখনও বহাল রয়েছে—তার সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখেই এই বার্তাটি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিটি ডিউক ও ডাচেসের সাথেও শেয়ার করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে: ‘যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার বিষয়ে ডিউক ও ডাচেস অফ সাসেক্সের সিদ্ধান্তের পর আমরা নির্দেশনা চেয়ে বেশ কিছু অনুরোধ পেয়েছি। কোনো ধরনের সন্দেহ বা বিভ্রান্তি এড়াতে রাজা নিম্নলিখিত তথ্যগুলো জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

‘এটি সবার জানা যে, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ডিউক ও ডাচেস রাষ্ট্রপ্রধানের (সার্বভৌম শাসক) পক্ষে প্রতিনিধিত্বমূলক দায়িত্ব পালন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তাঁরা এখন আর রাজপরিবারের কর্মরত সদস্য নন।

‘কর্মরত রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে পালনীয় রাষ্ট্রীয় ও রাজকীয় দায়িত্ব থেকে তাঁদের এই অবস্থানটি আলাদা। এর ফলে তাঁরা আর্থিক স্বাধীনতা এবং নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে যে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভোগ করেন, তা পূর্ণরূপে সম্মান করা অব্যাহত থাকবে।’

লর্ড বেনিয়ন কর্তৃক সরকার, সেনাবাহিনী এবং ‘লর্ড লেফটেন্যান্ট’ (রাজার স্থানীয় প্রতিনিধি)-দের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে আরও বলা হয়েছে: ‘এর অর্থ হলো, ডিউক ও ডাচেস অফ সাসেক্সের বর্তমান মর্যাদায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাঁদের “হিজ/হার রয়্যাল হাইনেস” (His and Her Royal Highness) উপাধিগুলো স্থগিত রাখা হয়েছে এবং সেগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে না।

‘ডিউক ও ডাচেসের দাতব্য কার্যক্রম তাঁদের একান্তই ব্যক্তিগত বিষয় এবং তাঁরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব কাজ পরিচালনা করেন। সংক্ষেপে বলতে গেলে, বাণিজ্যিক ও দাতব্য কর্মকাণ্ডে জড়িত সাধারণ নাগরিকদের মতোই তাঁদের অবস্থান।’ ‘ডিউক ও ডাচেসের প্রতি কী ধরনের সৌজন্যমূলক আচরণ করা উচিত—বিশেষ করে যেখানে সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে—সে বিষয়ে সরকারি বা রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন থাকলে তা বাকিংহাম প্যালেসে জানানো উচিত। নিরাপত্তা-সংক্রান্ত যেকোনো কার্যগত বিষয় যথারীতি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছেই জানাতে হবে।

‘এই দম্পতি-সংক্রান্ত যাবতীয় চিঠিপত্র ও প্রশাসনিক প্রশ্ন সরাসরি তাঁদের কার্যালয়ে পাঠাতে হবে; এই কার্যালয়টি রাজকীয় গৃহস্থালি বা রাজপরিবারের মূল প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে স্বতন্ত্রভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

‘দ্য রাইট অনারেবল লর্ড বেনিয়ন জিসিভিও (GCVO)।’

কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই চিঠির বিষয়বস্তুতে বিতর্কিত বা নতুন কিছু নেই; এটি কেবল ‘সব পক্ষের স্বার্থে বিদ্যমান অবস্থানটি’ স্পষ্ট করেছে মাত্র।

তবে চিঠিটি পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা থেকেই বোঝা যায় যে, হ্যারি ও মেগানের যুক্তরাজ্যে আকস্মিক ফিরে আসার বিষয়টি কতটা বিভ্রান্তি ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

অনেকে এটিকে এই দম্পতিকে তাঁদের ‘সীমা বুঝিয়ে দেওয়ার’ বা ‘বাস্তব অবস্থান মনে করিয়ে দেওয়ার’ একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ হিসেবেও দেখবেন। কারণ, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাঁদের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো পছন্দের গণমাধ্যমের কাছে বারবার তাঁদের যুক্তরাজ্যে ফিরে আরও বেশি দাতব্য কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আসছিল।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রদানের সামগ্রিক কাঠামো বা নীতিমালা নির্ধারণের বিষয়টি ‘এক্সিকিউটিভ কমিটি ফর দ্য প্রোটেকশন অফ রয়্যালটি অ্যান্ড পাবলিক ফিগারস’ (Ravec)-এর এখতিয়ারভুক্ত—একটি সূত্র এ বিষয়ে জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে।


Spread the love

Leave a Reply