শীর্ষ সংবাদব্রিটেনের সংবাদ

রোমিং চার্জ বাতিল এবং ব্রিটিশদের ই-গেট ব্যবহারের সুযোগ দিতে যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে চুক্তি

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্টঃ যুক্তরাজ্য সুইজারল্যান্ডের সাথে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার ফলে ব্রিটিশ ভ্রমণকারীরা প্রথমবারের মতো বিমানবন্দরগুলোতে ‘ই-গেট’ (e-gates) ব্যবহার করে দ্রুত যাতায়াত করতে পারবেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল এই চুক্তিটিকে “যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সেবা খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি” হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশে ভ্রমণকারী পর্যটক ও পেশাজীবীদের জন্য মোবাইল রোমিং চার্জও বাতিল করা হবে।

সরকারের মতে, এই চুক্তির ফলে “দীর্ঘমেয়াদে” সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাজ্যের রপ্তানি বছরে ৫.২ বিলিয়ন পাউন্ড বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সেবা খাতের গতিশীলতা বিষয়ক একটি চুক্তির মেয়াদ ২০২৯ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল—যার আওতায় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতি ছাড়াই ৯০ দিন পর্যন্ত সেবা প্রদান করতে পারত—তবে নতুন চুক্তির মাধ্যমে এটিকে স্থায়ী রূপ দেওয়া হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের পাসপোর্টধারীরা এই বছরের শেষ নাগাদ জুরিখ বিমানবন্দরে ই-গেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন; এছাড়া জেনেভা ও বাসেল বিমানবন্দরও শীঘ্রই এ ব্যবস্থা চালুর সময়সূচি ঘোষণা করবে।

এই ব্যবস্থাটি সুইজারল্যান্ড কর্তৃক ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা—’এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম’ (EES)—বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া থেকে আলাদা; ইইএস ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা ইইউ-এর ই-গেটগুলো ব্যবহার করতে পারবেন।

এছাড়া যুক্তরাজ্যের কর্মীরা কঠোর ‘অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তা যাচাই’ (economic needs tests) ছাড়াই সুইজারল্যান্ডে গিয়ে পাঁচ বছর পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ পাবেন।

মন্ত্রীদের মতে, আইনজীবী, হিসাবরক্ষক এবং স্থপতিদের মতো পেশাজীবীরা এই চুক্তির মাধ্যমে উপকৃত হবেন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৮ লাখ ব্রিটিশ নাগরিক সুইজারল্যান্ড ভ্রমণ করেন।

সুইজারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের সেবা রপ্তানির ষষ্ঠ বৃহত্তম বাজার; ২০২৫ সালে দেশ দুটির মধ্যে সেবা খাতের বাণিজ্যের পরিমাণ ৩০ বিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সুইজারল্যান্ডের নাগরিকরা ইতিমধ্যেই যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে ই-গেট ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ধারাবাহিকতায় এই নতুন চুক্তিটি করা হলো।

এমন এক সময়ে এই চুক্তিটি হলো যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্যার কিয়ার স্টারমারের মেয়াদের শেষ কয়েক সপ্তাহ চলছে এবং এরপর অ্যান্ডি বার্নহ্যাম তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন।

স্যার কিয়ার বলেন, “আপনি কোনো ব্যবসার প্রসার ঘটান কিংবা কাজের প্রয়োজনে ভ্রমণ করুন—এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো জীবনযাত্রাকে সহজ করা এবং সমগ্র যুক্তরাজ্যের মানুষের জন্য আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি করা।”

তিনি আরও বলেন, “এর অর্থ হলো, ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজারে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর জন্য তাদের দক্ষতা বা সেবা বিক্রি করা সহজ হবে, যা দেশের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।” এরই মধ্যে, যুক্তরাজ্যের পরিবহন সচিব ইউরোপের নতুন ‘ইইএস’ (EES) সীমান্ত ব্যবস্থা নিয়ে টেকসই পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, হাইডি আলেকজান্ডার এবং অ্যাপোস্টোলোস জিৎজিকোস্টাস গ্রীষ্মকালীন ব্যস্ত মৌসুমের আগেই ইইএস-এর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াটি যতটা সম্ভব নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন।


Spread the love

Leave a Reply