লন্ডনের ডকে নেমে প্রাণ হারানো ১৪ বছরের কিশোর ‘প্রতিভাবান ফুটবলার’ হিসেবে শনাক্ত
ডেস্ক রিপোর্টঃ তীব্র দাবদাহের সময় টেমস নদীর একটি ‘সাঁতার-নিষিদ্ধ এলাকায়’ (no swimming zone) নেমে মারা যাওয়া ১৪ বছর বয়সী কিশোরের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র লুৎফুর রহমান ওই কিশোরের নাম বান্টা সিল্লা বলে উল্লেখ করেছেন। তবে মেট্রোপলিটন পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরিচয় নিশ্চিত করেনি।
মি. রহমান বান্টাকে একজন “প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলার” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি ‘ফ্রন্টলাইন কমিউনিটি এফসি’-র হয়ে খেলতেন এবং গত সপ্তাহে দলটির ‘টাওয়ার হ্যামলেটস কাপ’ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
মেয়র বলেন, বান্টার “অপার সম্ভাবনা ছিল এবং সে তার সমবয়সীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিল”।
তিনি আরও বলেন: “বান্টার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। আমি পরিবারগুলোকে তাদের সন্তান ও তরুণদের সাথে কথা বলার আহ্বান জানাচ্ছি; খোলা জলাশয়ে সাঁতার কাটার বিপদ সম্পর্কে আমাদের সবার সচেতন হওয়া উচিত।”
“শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত এবং লাইফগার্ড বা উদ্ধারকর্মী উপস্থিত আছেন—এমন জায়গাতেই সাঁতার কাটা উচিত।”
সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে পূর্ব লন্ডনের ইস্ট ফেরি রোডের কাছে মিলওয়াল আউটার ডকে ওই কিশোর পানিতে নামে এবং এরপরই বিপদে পড়ে।
সংবাদ পাওয়ার পরপরই একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী বোট পাঠানো হয়; পাশাপাশি পুলিশ হেলিকপ্টার, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
দুঃখজনকভাবে, জরুরি সেবাদানকারী কর্মীদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, তিন ঘণ্টারও বেশি সময় পর রাত ১০টা ৩০ মিনিটে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা ওই কিশোরের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করছেন।
মৃত্যুটিকে অপ্রত্যাশিত হিসেবে দেখা হচ্ছে তবে সন্দেহজনক নয়; করোনরের (মৃত্যু তদন্তকারী কর্মকর্তা) জন্য প্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
এলাকাটি ‘সাঁতার-নিষিদ্ধ’ এবং সেখানে সাঁতার না কাটার সতর্কবার্তা সম্বলিত সাইনবোর্ড থাকা সত্ত্বেও, ডকটিতে পানিতে নামার একটি ডেক বা প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, যা মূলত ওয়াটার স্পোর্টস বা জলক্রীড়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।
তবে ‘আইল অফ ডগস’-এ ডকের কাছে দক্ষ সাঁতারুদের জন্য সাঁতার কাটার নির্ধারিত এলাকা রয়েছে।
‘মেট্রো’ পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধারণা করা হচ্ছে ওই কিশোর একটি বড় দলের সদস্য ছিল, যারা লন্ডনের সাম্প্রতিক দাবদাহের মধ্যে সেখানে শরীর ঠান্ডা করার জন্য গিয়েছিল।
স্থানীয় এক বাসিন্দা পত্রিকাটিকে বলেন: “পানিতে নামাটা খুবই সহজ, আর কম বয়সী ছেলেরা মূলত লাফিয়ে বা ডুব দিয়ে পানিতে নামে। তারা শরীর ঠান্ডা করতে চায় এবং বিষয়টি বোঝাও যায়। বাইরে থেকে এটাকে বিপজ্জনক মনে না হলেও, আসলে এটি বিপজ্জনক হতে পারে।” স্থানীয় বাসিন্দারা ওই একই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, আগে ‘টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল’-এর অর্থায়নে নিয়োজিত কর্মীরা এই এলাকায় টহল দিতেন, কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে।
তীব্র দাবদাহের মধ্যে লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড লন্ডনের বাসিন্দাদের কেবল নির্ধারিত এলাকাতেই সাঁতার কাটার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
২০২০ সাল থেকে রাজধানীজুড়ে পানিতে ডুবে শতাধিক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
সর্বশেষ ঘটনায়, লন্ডনের ‘রয়্যাল ভিক্টোরিয়া ডক’-এর পানিতে নেমে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ও কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হওয়া ইভান আলেকজান্ডার ‘মেট্রো’ পত্রিকাকে বলেন: “আমরা আমাদের কুকুর নিয়ে হাঁটছিলাম; তখন দেখলাম কয়েকজন কিশোর আরেকজনকে পানিতে নামার জন্য চাপ দিচ্ছে।”