প্রবাসশীর্ষ

লন্ডনে জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিঃ প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত সহ নতুন কোন ফ্যাসিবাদী শক্তি যেনো মাথাছাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে লক্ষ্যে সকলকে সোচ্চার থাকার আহবান

Spread the love

সাজু আহমদঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি এবং নতুন কোন ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় জনগণ ফিরে যেতে চায়না বলে সবাইকে সোচ্চার থাকার আহবান জানানো হয়েছে।
লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে রাজধানীর মিলেনিয়াম গ্লোচেস্টার হোটেলে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এই দাবি জানানো হয়।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিএনপি,এনসিপি, জামায়াতে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, হেফাজতে ইসলাম সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য ডক্টর রুপা হক।

জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে বক্তব্য রাখানে ব্রিটিশ এমপি ডক্টর রুপা হক, যুক্তরাজ্য বিএনপি সভাপতি এম এ মালেক, এনসিপি ইউকের মুখপাত্র ডাক্তার ইমা ইসলাম, জামায়াতে ইসলাম ইউরোপের মুখপাত্র আবুবক্কর মোল্লা ও সোসিয়াল এক্টিভিস্ট সৌমি হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম বলেন, এই অভ্যুত্থান ছিল ইতিহাসের অমর এক অধ্যায়। বিপ্লবের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো এই অভ্যুত্থানে কোন একক নেতৃত্ব ছিল না । এতে অংশ নিয়েছিল ছাত্রজনতা, শিক্ষক, রিকশাওয়ালা, দিনমজুর, বিপুল সংখ্যক নারীসহ সমাজের সর্বস্থরের মানুষ। দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। মানুষ পুলিশের বন্দুকের সামনে নিজের বুক পেতে দিয়েছিলো বলে এই আন্দোলন সফল হয়েছিল। বছরের পর বছর মানুষের জমে থাকা ক্ষোভ বিস্ফোরণে পরিণত হয়েছিল। জুলাই অভ্যুত্থানে ইংল্যান্ড প্রবাসীদের অবদানের কথা স্বীকার করে বাংলাদেশ হাই কমিশনার বলেন, জুলাই গণ অভ্যুত্থানে বিলেত প্রবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য। তারা আলতাব আলী পার্ক থেকে ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিট পর্যন্ত ব্রিটেনের রাস্তায় নেমে পড়েছিল। যার ফলশ্রুতিতে ফ্যাসিস্টদের সরানো সহজ হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এমপি ডক্টর রুপা হক বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ একটা খারাপ অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে। ডক্টর রুপা বলেন আমি দুবার বাংলাদেশে গিয়েছি। সারা দেশে মুর্তি বানিয়ে রেখেছিল। এটা খুব খারাপ লেগেছিল। তিনি বলেন ঋণ নিয়ে মেট্রো রেল করেছে। দুর্নীতি লোটপাটের স্বর্গরাজ্য করেছিল। বাংলাদেশের মানুষ এসব থেকে মুক্তি পেয়েছে। সর্বোপরি দেশের মানুষ ভাল থাকুক এটাই আমরা চাই।

May be an image of 5 people

যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে প্রবাসীদের অবদান স্বীকার করার জন্য হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন আমরা বিলেতে বিএনপি, জামাত, হেফাজতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধভাবে হাসিনার পতনের জন্য ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিট ঘেরাও করেছিলাম, এমনকি জাতিসংঘের সদর দপ্তরে পর্যন্ত আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে দিয়েছিলাম। তিনি প্রবাসী বিলেতবাসীকে বার বার মনে করার এবং ভোটাধিকারসহ বিভিন্ন দাবির প্রতি হাইকমিশনারের সহযোগিতা কামনা করেন।

এনসিপি এলায়েন্স ইউকের মুখপাত্র ডাক্তার ইমা ইসলাম বলেন,আমাদের শহীদ ও আহত ভাই বোনদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আজ গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উদযাপন করতে পারছি। আমরা স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি। তাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আজ কথা বলতে পারছি। আমরা মুক্তির প্রেরণা পেয়েছি, সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাই। আজ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে কিন্তু আসলে কতটা হতে পেরেছে সেটা আমাদের মনে রাখতে হবে। আমরা যে প্রেরণা এবং আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত স্বৈরশাসনের অবসান করেছি সেটা যেন বাস্তবে রুপ দিতে পারি। আমরা একটি ফ্যাসিবাদকে সরিয়েছি আরেকটা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য নয়, আমাদের সকলের এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে বাংলাদেশের যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা সেখানে যেন অন্য কোন ফ্যাসিবাদী শক্তি মাথাছাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। শুধুমাত্র একটা ক্ষমতার হাতবদল হয়ে দেশের সংস্কারকে যেন কেউ বন্ধ করে রাখতে না পারে সে বিষয়ে সোচ্চার থাকতে হবে।

ইমা ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে বিচার ও সংস্কারের বাস্তব রুপ দেখতে চাই। সেই সাথে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহবান জানান। আমাদের দাবী থাকবে হাইকমিশনারের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে প্রবাসীরা কিভাবে ভোট প্রদান করবে তার সুস্পস্ট দিক নির্দেশনা যেন সরকার প্রদান করে। নতুন প্রজন্ম যেন বাংলাদেশ গড়তে উদ্ভুদ্ধ হয় সেই ব্যাপারে আমাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। মিস ইমা ইসলাম হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে এরকম পরিবেশে সর্বদলীয় এবং পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে কোন প্রাণবন্ত অনুষ্ঠান আমরা দেখতে পাইনি, হাইকমিশনার এরকম একটি পরিবেশে সকলের অংশ গ্রহণে একটি সুন্দর অনুষ্ঠান উপহার দিয়েছেন, এটা যেন ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকে।

May be an image of 7 people, dais and text

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের ইউরোপের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা বলেন, আমরা রাজনীতিকদলগুলো যেন সতর্ক থাকি, আমরা যেন ক্ষমতায় গিয়ে নিজেরা আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম না করি, না হলে জনগণ আমাদের টেনে হিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামাবে।

অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া হাইকমিশনের উদ্যোগে ইচুইস অফ দ্যা জুলাই আপরাইজিং নামে একটি ডকুমেন্টারীর মোড়ক উম্মোচন করা হয়। এছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৌশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

May be an image of 1 person and dais


Spread the love

Leave a Reply