প্রবাস

লন্ডনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ইউরোপের বৃহত্তম বৈশাখী মেলা সম্পন্ন: প্রবাসী বাঙালিদের উপচে পড়া ভিড়

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্ট: বিপুল উৎসাহ, উদ্দীপনা এবং উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ইউরোপের বৃহত্তম বৈশাখী মেলা। গত ২১শে জুন লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী মাইলেন্ড স্টেডিয়ামে (Mile End Stadium) এই প্রাণের উৎসবের আয়োজন করে প্রবাসীদের জনপ্রিয় স্যাটেলাইট চ্যানেল ‘আই অন টিভি’। ১৪ই এপ্রিলের পর থেকেই প্রবাসীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন এই দিনটির জন্য, যা রূপ নেয় এক টুকরো বাংলাদেশে।
এ বছর মেলায় প্রবাসী বাঙালিদের উপস্থিতি ছিল অভূতপূর্ব, যা আয়োজকদের আগের সব রেকর্ড এবং ধারণাকে ছাড়িয়ে গেছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন শহর থেকে হাজার হাজার প্রবাসী বাঙালি সপরিবারে মেলা প্রাঙ্গণে এসে জড়ো হতে থাকেন। নাচ, গান আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসে পুরোটা দিন অতিবাহিত করেন দর্শনার্থীরা।
দেশীয় পণ্যের বাহারি স্টল
মেলার মাঠজুড়ে বসেছিল দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্যের বিশাল সমাহার। দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে মেলায় ছিল:
  • কারুশিল্প: গ্রামীণ লোকজ ঐতিহ্য ও হস্তশিল্পের আকর্ষণীয় প্রদর্শনী।
  • রসনা বিলাস: রকমারি দেশী খাবার ও ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলির দোকান।
  • ফ্যাশন ও বুটিক: নারী ও শিশুদের জন্য বৈশাখী পোশাক ও আধুনিক ডিজাইনের শাড়ি-কাপড়।
  • দেশীয় ফলমূল: প্রবাসের মাটিতে দেশের আমেজ ছড়িয়ে দিতে মেলায় বিশেষ আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশের আম, কাঁঠাল ও লিচু সহ বাহারি ফলের দোকান।
তারকা শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা
মেলার মূল মঞ্চে ছিল লন্ডনের সুপরিচিত স্থানীয় শিল্পীদের মনোজ্ঞ নাচ ও গানের আয়োজন। তবে উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ থেকে আগত তারকা শিল্পীদের উপস্থিতি। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী নেলক বাবু ও তোসিবা তাদের জনপ্রিয় গানগুলো গেয়ে দর্শকদের মায়াজালে বেঁধে রাখেন। আর মেলার সমাপনীলগ্নে বিশেষ চমক হিসেবে মঞ্চ কাঁপায় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কিংবদন্তি ব্যান্ড দল ‘সোলস’। তাদের একেকটি জনপ্রিয় গানের সুরে মেতে ওঠে পুরো মাইলেন্ড স্টেডিয়াম।
আয়োজকদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
মেলা শেষে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘আই অন টিভি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জনাব আতাউল্ল্যা ফারুক এবং টেলিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ মেলায় আগত সর্বস্তরের দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। সিইও জনাব আতাউল্ল্যা ফারুক বলেন, “দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও ভালোবাসার কারণেই আজ এই মেলা এত বড় সফলতা পেয়েছে। প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে আমাদের এই প্রয়াস ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে এই বৈশাখী মেলা যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাঙালি কমিউনিটির মাঝে দীর্ঘদিনের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply