শহীদ হাদি হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে মার্চ ফর ইনসাফের তৃতীয় দিনে ম্যানচেস্টার–ওল্ডহ্যাম–ব্ল্যাকবার্নে গণসমাবেশ

Spread the love

ম্যানচেস্টার/ওল্ডহ্যাম/ব্ল্যাকবার্ন:
ইনকিলাব মঞ্চ ইউকের উদ্যোগে চলমান March for Insāf কর্মসূচির তৃতীয় দিনে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার, ওল্ডহ্যাম ও ব্ল্যাকবার্নে ধারাবাহিক গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা শহীদ শাহিদ ওসমান হাদির হত্যার দ্রুত বিচার, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি এবং আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলন আরও বেগবান করার দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শহীদ হাদির রেখে যাওয়া আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়াই এখন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের মৌলিক দায়িত্ব। তারা সরকারের প্রতি বিনীত কিন্তু দৃঢ় আহ্বান জানিয়ে বলেন—হত্যাকারী ও তাদের সহযোগীদের আর কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়াই গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ইনকিলাব মঞ্চ ইউকের ম্যানচেস্টার প্রতিনিধি মুহসীন আহমেদ সমাবেশে সরকারের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন,
“সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় এখনো কেন আমার ভাই হত্যার বিচার নেই? প্রবাসীদের কি আবারও রেমিটেন্স বন্ধসহ আরও বড় কর্মসূচির পথে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে?”

দিনের শেষ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় ব্ল্যাকবার্ন টাউন সেন্টারের সামনে। কনকনে ঠান্ডার মধ্যেও বিপুল সংখ্যক ইনকিলাব কর্মী ও সমর্থক সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সেখানে মঞ্চের আহ্বায়ক মুজাহিদ রিয়াজ বলেন, “আবরার ও হাদির হত্যাকাণ্ড, দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতার ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যা, বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া এবং দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও পৃষ্ঠপোষকতায় ৫৭ জন চৌকষ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনা—সবই একই সূত্রে গাঁথা। এগুলোর পেছনে আধিপত্যবাদীদের আশীর্বাদপুষ্ট বিগত ফ্যাসিস্ট শক্তি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।”

তিনি আরও বলেন,“ইনকিলাব মঞ্চ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে দেশের ভেতরে ফ্যাসিস্টদের রেখে যাওয়া উচ্ছিষ্টভোগীরা পুরোনো বন্দোবস্ত ফিরিয়ে আনতে দেশের স্বার্থবিরোধী নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই—আবু সাঈদ-ওয়াসিমের বাংলাদেশে, আবরার-হাদির বাংলাদেশে আর কোনোদিন আধিপত্যবাদের শকুনের থাবা পড়তে দেওয়া হবে না।”

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, “আধিপত্যবাদী শক্তির চোখে চোখ রেখে কথা বলার এই প্রজন্ম যে কোনো মূল্যে দেশ ও দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে।”

আয়োজকরা জানান, ঘোষিত ৩০ দিনের আল্টিমেটামের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৫ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শহীদ হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত না হলে আন্দোলনের কর্মসূচি আরও বিস্তৃত ও তীব্র করা হবে।


Spread the love

Leave a Reply