সারা বিশ্বের মানবতাবাদী মানুষের এক আবেগের নাম গাজা!

Spread the love

সাজু আহমদ:

সারা পৃথিবীর মানবতাবাদী মানুষের এক আবেগের নাম গাজা! সারা পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মানুষের বুকের ভিতরে এক গভীর ক্ষত হচ্ছে গাজা. শত শত মানুষ এদেশে এবং সারা বিশ্বে জেলে গিয়েছেন প্রতিবাদ করার কারণে۔ এরা একই ধর্মের মানুষ নয়, একই বর্ণের মানুষ ও নয়, এমনকি একই দেশের মানুষ নয়, এমনকি অনেকে ধর্মে বিশ্বাসী ও নয় কিন্তু মানবতার প্রশ্নে জুলুম নির্যাতন মাথা পেতে নিতে ও দ্বিধা করেননি এসব মানুষেরা।

সবচেয়ে কষ্ট করছে আমাদের বাচ্চারা, তারা ম্যাকডোনাল্ডে খায় না, কেএফসিতে যায় না, ফেয়ারি লিকুইড কিনলে কিংবা কোলগেট টুথপেষ্ট কিনলে বাপ, মাকে রীতিমতো শাসন করে ১০/১২ বছরের বাচ্চারা! তুমি কি গাজার শিশুদের রক্ত খেতে চাও বলে রীতিমত ধমক দেয়!

এই লেখাটা যখন লিখছি ট্রেনে বসে তখনো কান্না থামাতে পারছি না, মাথাটা হুড দিয়ে ঢেকে রেখেছি কারণ আশেপাশের মানুষ চোখের পানি দেখলে সমবেদনটা জানাতে এগিয়ে আসবে. কান্নাটা শুরু হয়েছে যখন মেট্রো পত্রিকা হাতে নিয়ে দেখলাম গাজা নিয়ে স্থায়ী সমাধান হচ্ছে. দেখেই চোখের পানি আটকাতে পারলাম না।

দুইদিন আগে এশার নামাজ পরে সাথে সাথে ঘুমিয়ে গেলাম 12টার দিকে, ফজরে উঠার আগে স্বপ্নে দেখলাম কে যেন বলছে “গাজা স্বাধীন হয়ে গেছে!” বিশ্বাস করিনি কিন্তু আজকের সংবাদ দেখে মনে হলো স্বপ্ন কি সত্যি হলো?

এই স্বপ্ন পৃথিবীর শত কোটি মানুষের স্বপ্ন, তারা ধর্ম বুঝে না, জাতি গুষ্টি বুঝে না, তারা বুঝে, চোখের সামনে বোমার আঘাতে খন্ড বিখণ্ড হওয়া নিরপরাধ শিশুর দেহ যেন আর দেখতে না হয়, 23 লক্ষ মানুষের একটি অঞ্চল হবে কারাগার, এটা তারা মেনে নিতে পারে না. মানুষকে ইচ্ছা করে না খাইয়ে মেরে ফেলা হবে, এটা একবিংশ শতাব্দী হতে পারে না, এই মানবতা বিরুধী অপরাধ করে আমরা সৃষ্টির সেরা জীব হতে পারি না!

উপরওয়ালা হয়তো বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী কারো না কারো কথা শুনেছেন, আমার অনেক বড় ভাই, বন্ধু বলেছেন, তারা প্লেটে খাবার নিয়ে খেতে পারতেন না, গাজার মানুষের কথা চিন্তা করে চোখ দিয়ে শুধু পানি পড়ে , গলা দিয়ে খাবার ঢুকে না. হয়তো তাদের চোখের পানি দয়াময় ফিরিয়ে দিতে পারেননি!

যারা তাহাজ্জুদের নামাজ পরে সেজদায় গিয়ে অঝোরে চোখের পানি ফেলেছেন, যারা গাজার উড়ে যাওয়া বাচ্চার হাতের অংশ দেখে ফুঁফিয়ে ফুঁফিয়ে কেঁদেছেন, আমাদের বাচ্চারা হাসপাতালের ট্রলি ভর্তি রক্তমাখা শিশুদের টিভিতে দেখে চিৎকার দিয়ে উঠেছে, যে পেনশনার ইংলিশ বৃদ্ধা গাজার প্রতিবাদ করতে গিয়ে জেলে গিয়েছেন, তাদের কষ্টের কি অবসান হবে?

এখন কথা হচ্ছে এই বেঈমান ইসরাইলকে কি বিশেষ বিশ্বাস করা যায়? উত্তর হচ্ছে ইসরাইলকেই এই বিশ্বাস অর্জন করতে হবে. কালকে অফিসের কাজে অক্সফোর্ড যাচ্ছিলাম, ট্রেনে আমার সামনের সিটে বসেছিল ভিনদেশ থেকে আসা এক মেয়ে, তার ব্যাগে দেখলাম ফিলিস্তিনের ব্যাজ লাগানো, এই রকম অক্সফোর্ড, হার্ভার্ড, এমআইটি এর মতো শত শত মেধাবী শিক্ষার্থীদের ঘৃণার পাত্র হয়েছে ইসরাইল. এরাই একদিন বিশ্বের নীতিনির্ধারক হবে, এদের ঘৃণার পাত্র হয়ে ইসরাইল কি দেশ হিসাবে টিকে থাকতে পারবে? আর আমাদের বাচ্চাদের যে রকম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে তাদের সম্পর্কে, তা নিরসন হতে মোটামুটি তিন প্রজন্ম যাবে. এসব ঘৃণা আর অভিশাপ থেকে বাঁচতে ইসরাইলকে সারা বিশ্বের মানবতাবাদী মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে।

ফিলিস্তিন, ইসরাইল সহ সারা বিশ্বের শিশুরা ভালো থাকুক. মানবতাবাদী মানুষরা মানবতার ঝান্ডা উঁচিয়ে ধরুক সারা বিশ্বে. কোন উম্মাদ, পশুর কবলে যেন না পড়ে বিশ্ব, আমরা যেন সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ হয়ে বাঁচতে পারি।

আজীবনের জন্য স্বাধীন থাকুক ফিলিস্তিন!


Spread the love

Leave a Reply